শনিবার, ২৪ জানুয়ারী ২০২৬, ০২:৩৩ অপরাহ্ন
স্ট্রোক মূলত তিন ধরনের হয়ে থাকে: ইস্কেমিক স্ট্রোক (যখন মাথার রক্তনালির রক্তপ্রবাহ বন্ধ হয়ে যায়), হেমোরেজিক স্ট্রোক (যখন রক্তনালি ছিঁড়ে রক্তক্ষরণ হয়), এবং ট্রান্সিয়েন্ট ইস্কেমিক অ্যাটাক (হঠাৎ অজ্ঞান হয়ে যাওয়ার ফলে হওয়া স্ট্রোক)।
এইসব স্ট্রোকের মধ্যে, মস্তিষ্কের ভেতরের রক্তনালির বন্ধ হয়ে যাওয়া বা ছিঁড়ে যাওয়া পরিস্থিতি অনুযায়ী স্ট্রোকের প্রভাব কতটা দীর্ঘস্থায়ী হবে বা ক্ষণস্থায়ী হবে, তা নির্ভর করে কোথায় স্ট্রোকটি ঘটেছে এবং দ্রুত চিকিৎসা নেওয়ার ওপর।
যেহেতু স্ট্রোকের ধরণ এবং এর প্রভাব মস্তিষ্কের নির্দিষ্ট অংশের ওপর নির্ভরশীল, চিকিৎসকরা সরাসরি এটি বলে দিতে পারেন না যে রোগী কতোদিনের মধ্যে আগের মতো স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে পারবেন বা সম্ভবত করবেন কি না।
তবে মস্তিষ্কের কিছু অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অংশ রয়েছে, যেগুলি আমাদের দৈনন্দিন কাজ যেমন হাঁটা, হাত-পা নড়ানো, কথা বলা, শ্বাসপ্রশ্বাস, বোঝা, এবং চোখে স্পষ্ট দেখা ইত্যাদি নিয়ন্ত্রণ করে। এই অংশগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হলে, তাদের নির্দিষ্ট কার্যক্ষমতা প্রভাবিত হতে পারে।
এখানে কিছু নির্দিষ্ট থেরাপির মাধ্যমে উন্নতি সম্ভব। এই থেরাপিগুলি হলো:
• নিউরোলজিস্টের মাধ্যমে দেওয়া নিয়মিত ওষুধ এবং থেরাপি, যেমন ফিজিওথেরাপি, স্পিচ থেরাপি, অকুপেশনাল থেরাপি, এবং সাইকোথেরাপি।
হেমোরেজিক স্ট্রোকের প্রথম কারণ হলো হাইপারটেনশন এবং অনিয়মিত প্রেসারের ওষুধের ব্যবহার। মস্তিষ্কের বিশেষ কিছু অংশের ওপর ভিত্তি করে রোগীকে অপারেশন প্রয়োজন কিনা, তা নির্ধারণ করা হয়।
স্ট্রোকের দীর্ঘস্থায়ী প্রভাবের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত:
• কগনিটিভ ডিসফাংশন, যেমন স্মৃতিশক্তি হারানো, মনোযোগ বজায় রাখতে না পারা, সহজ কাজ করতে অসুবিধা হওয়া। • কথার গতি হারিয়ে যাওয়া, কথায় অস্পষ্টতা, বা কথার মধ্যে কোনো মিল না থাকা। • বিষণ্নতা, অস্থিরতা, উদ্বেগ এবং পোস্ট ট্রমাটিক ডিসট্রেস।
এইসব সমস্যার জন্য প্রয়োজনীয় সাপোর্ট হতে পারে নিয়মিত ওষুধ, ফিজিওথেরাপি, স্পিচ থেরাপি, অকুপেশনাল থেরাপি, এবং সাইকোথেরাপি। স্ট্রোক-পরবর্তী উন্নতি সাধারণত ধীরগতিতে হয়, তাই রোগীকে সেরে উঠার ক্ষেত্রে তাড়াহুড়ো না করার পরামর্শ দেওয়া হয়। রোগীকে মানসিক সাপোর্ট দিয়ে তাকে সহায়তা করার গুরুত্ব রয়েছে।
ডা. হিমেল বিশ্বাস, ক্লিনিক্যাল স্টাফ, নিউরোলজি বিভাগ, স্কয়ার হাসপাতাল, ঢাকা। (সূত্র: প্রথম আলো)