শনিবার, ২৪ জানুয়ারী ২০২৬, ০৩:০৮ অপরাহ্ন
ব্লাড ক্যান্সার যদি প্রাথমিক অবস্থায় ধরা পড়ে এবং সঠিক চিকিৎসা গ্রহণ করা হয়, তবে রোগ নিরাময়ের সম্ভাবনা থাকে। ব্লাড ক্যান্সারের চিকিৎসায় ব্যবহৃত কোষবিনাশকারী ওষুধ ক্যান্সারের কোষগুলোকে ধ্বংস করে, তবে কিছু সুস্থ কোষও এতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ফলে মুখের বিভিন্ন সমস্যা দেখা দিতে পারে। ব্লাড ক্যান্সারে দাঁতের চিকিৎসার সময় রক্তক্ষরণের ঝুঁকি থাকলে স্থানীয় অবশকারী ইনজেকশন না দেয়াই ভালো। ব্লাড ক্যান্সারের চিকিৎসা চলাকালীন সময়ে দাঁত তোলা উচিৎ নয়, কারণ এতে অতিরিক্ত রক্তপাত হতে পারে এবং সংক্রমণের ফলে অস্টিওমাইলাইটিসের ঝুঁকি বেড়ে যায়। যদি ডেন্টাল সার্জারি বাধ্যতামূলক হয়, তবে সার্জারির আগে রক্ত পর্যন্ত দেওয়া লাগতে পারে। সার্জারির পরে ক্ষত শুকানোর সময় পর্যন্ত এন্টিবায়োটিক সেবন করা গুরুত্বপূর্ণ। পেনিসিলিন এ ক্ষেত্রে উপকারী। ব্লাড ক্যান্সারের রোগীর মাংসপেশিতে ইনজেকশন প্রয়োগ না করাই ভালো, কারণ এতে হেমাটোমা হতে পারে। দাঁতের ব্যথার জন্য অ্যাসপিরিনজাতীয় ওষুধ পরিহার করা উচিত, কারণ মাড়ি থেকে রক্তপাতের ঝুঁকি থাকে।
ব্লাড ক্যান্সারে মাড়ির ফুলে যাওয়া সমস্যা দেখা দিতে পারে। এছাড়া মুখে কান্ডিডোসিস হওয়ার প্রবণতা বেশি। হারপেটিক সংক্রমণ কখনো কখনো জটিল আকার ধারণ করতে পারে। এ অবস্থায় নিস্টাটিন মাউথওয়াশ দিনে চারবার ব্যবহার করা যেতে পারে। এমফোটেরিসিন এবং ক্লোট্রিমাজল লজেন্সও কার্যকর। হারপিস সংক্রমণের জন্য অ্যাসাইক্লোভিরজাতীয় ওষুধ ব্যবহার করা যেতে পারে। টনসিল গ্রন্থি ফুলে যেতে পারে। ম্যান্ডিবল বা নিচের চোয়াল এবং প্যারোটিড গ্রন্থির ওপরে ব্যথাযুক্ত ফোলাভাব দেখা দিতে পারে। কিছু কোষবিনাশকারী ওষুধ ওরাল মিউকোসায় প্রদাহ এবং কখনো কখনো আলসারের সৃষ্টি করে। মুখের আলসার কমাতে বা প্রতিরোধ করতে ফলিনিক অ্যাসিড ১.৫ মিলিগ্রাম ১৫ সিসি পানিতে মিশিয়ে দিনে তিনবার ব্যবহার উপকারী। এছাড়া ক্লোরোহেক্সিডিন এবং পোভিডন আয়োডিন মাউথওয়াশ ব্যবহার করা যেতে পারে। রক্তের অণুচক্রিকার পরিমাণ কমে গেলে মুখে রক্তপাত হতে পারে। এক্ষেত্রে ডেসমোপ্রেসিন অথবা অণুচক্রিকার ইনফিউশন ব্যবহার করে চিকিৎসা করতে হবে।
ব্লাড ক্যান্সারে মুখের সমস্যার এক নজরে: (ক) লসিকাগ্রন্থি বা লিম্ফনোড বড় হওয়া (খ) মাড়ি থেকে রক্তপাত (গ) সংক্রমণ-ক্যান্ডিডোসিস ও অন্যান্য ফাঙ্গাল সংক্রমণ (ঘ) হারপিস সংক্রমণ (ঙ) মুখে ঘা বা আলসার, সাধারণত হারপিস এবং ক্যান্সার বিনাশকারী ওষুধের কারণে (চ) মাড়ি ফুলে যাওয়া। ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া: (১) মুখে আলসার (২) শুষ্ক মুখ (৩) পিগমেন্টেশন (৪) কান্ডিডোসিস। তাই ব্লাড ক্যান্সারের রোগীদের ক্যান্সারের চিকিৎসার পাশাপাশি মুখের সমস্যাগুলোর যত্ন নেওয়া জরুরি। নিয়মিত দাঁত ব্রাশ করা এবং মাউথওয়াশ ব্যবহার করাও গুরুত্বপূর্ণ।
ডা. মো. ফারুক হোসেন মুখ ও দন্ত রোগ বিশেষজ্ঞ
সূত্র: ইনকিলাব