রবিবার, ০৮ মার্চ ২০২৬, ১০:২২ অপরাহ্ন
আজ থেকে সাত দিনের জন্য সেনাবাহিনীসহ বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মাঠে দায়িত্ব পালন করবে। রোববার (০৮ ফেব্রুয়ারি) নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ গণমাধ্যমকে এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
তিনি বলেন, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে কেন্দ্র করে আজ থেকেই আনুষ্ঠানিকভাবে সেনাবাহিনীসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মোতায়েন কার্যক্রম শুরু হয়েছে। যদিও সেনাবাহিনী আগে থেকেই মাঠে ছিল, তবে আজ থেকে তা পূর্ণাঙ্গ ও আনুষ্ঠানিক রূপ পেয়েছে।
নির্বাচন কমিশনার জানান, ভোট গ্রহণের চার দিন আগে, ভোটের দিন এবং ভোটের পরবর্তী দুই দিন—এই মোট সাত দিন আইনশৃঙ্খলা বাহিনী দায়িত্ব পালন করবে।
ভোটের সার্বিক পরিবেশ সম্পর্কে তিনি বলেন, বর্তমানে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে এবং নির্বাচন আয়োজনের পরিবেশ পুরোপুরি অনুকূল বলে নির্বাচন কমিশন মনে করছে।
নির্বাচনের প্রস্তুতি প্রসঙ্গে আব্দুর রহমানেল মাছউদ বলেন, সার্বিক প্রস্তুতি ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। ব্যালট বাক্স জেলায় জেলায় পাঠানো হচ্ছে এবং সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং কর্মকর্তারা সেগুলো গ্রহণ করছেন। নির্বাচন সংশ্লিষ্ট সবাই এখন ভোট আয়োজনের কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন।
এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশন (ইসি) সচিবালয়ের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ বলেন, ৮ থেকে ১৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মাঠে দায়িত্ব পালন করবে। এর মধ্যে সেনাবাহিনী সাত দিন এবং আনসার বাহিনী আট দিন দায়িত্বে থাকবে। পুলিশ ও সেনাবাহিনী ইতোমধ্যে মাঠে রয়েছে।
তিনি আরও জানান, এই সময়ের মধ্যে মোট ১ হাজার ৫০ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোতায়েন থাকবেন, যাদের মূল দায়িত্ব হবে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা। পাশাপাশি বিচারিক ম্যাজিস্ট্রেটদেরও মাঠে রাখা হবে। এছাড়া ইলেক্টোরাল ইনকোয়ারি অ্যান্ড অ্যাডজুডিকেশন কমিটি ইতোমধ্যে তাদের কার্যক্রম শুরু করেছে।
ইসি সচিব বলেন, নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী রাজনৈতিক দলগুলোর প্রচার-প্রচারণা ভোটের ৪৮ ঘণ্টা আগে, অর্থাৎ ১০ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে ৭টায় শেষ করতে হবে।
এর আগে গত ২২ জানুয়ারি স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী জানান, আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রায় ৯ লাখ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন, যা দেশের ইতিহাসে সর্বাধিক।
তিনি বলেন, এবারের নির্বাচনে দুষ্কৃতকারীদের ব্যালট ছিনতাইয়ের কোনো সুযোগ থাকবে না। পূর্বে প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে একজন অস্ত্রধারী পুলিশ সদস্য থাকলেও এবার প্রতিটি কেন্দ্রে কমপক্ষে পাঁচজন অস্ত্রধারী আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য মোতায়েন থাকবে। এর মধ্যে দুইজন পুলিশ ও তিনজন আনসার সদস্য থাকবেন। গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রে ছয়জন অস্ত্রধারী সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন।
এছাড়া প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে অস্ত্রবিহীন লাঠিসহ ১০ জন আনসার সদস্য মোতায়েন থাকবে, যাদের মধ্যে ছয়জন পুরুষ ও চারজন নারী থাকবেন।
স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, ‘এবারের জাতীয় নির্বাচন হবে বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে অবাধ, স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন, যা রোল মডেল হিসেবে বিবেচিত হবে।’
তিনি নির্বাচন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের শতভাগ সততা, নিরপেক্ষতা ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান।
তিনি আরও জানান, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি বিএনসিসি, গার্লস গাইড ও স্কাউট সদস্যরাও নির্বাচনে সহায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।
নির্বাচন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে দেশব্যাপী দুই ধাপে বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।
সূত্র: বাসস