শুক্রবার, ১৫ মে ২০২৬, ০৬:৪২ অপরাহ্ন
রাজধানীর বিভিন্ন বাজারে আবারও বেড়েছে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম। বিশেষ করে সবজি, ডিম ও মুরগির বাজারে ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতায় চাপে পড়েছেন সাধারণ ক্রেতারা। বর্তমানে অধিকাংশ সবজিই উচ্চ দামে বিক্রি হচ্ছে। পাশাপাশি ব্রয়লার, সোনালি ও দেশি মুরগির দামও বেড়েছে উল্লেখযোগ্যভাবে। শুক্রবার রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে।
বাজার সংশ্লিষ্টরা জানান, বর্তমানে ব্রয়লার মুরগি প্রতি কেজি ২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। অন্যদিকে ডিমের ডজন বিক্রি হচ্ছে ১৫০ টাকায়। দেশি মুরগি কিনতে ক্রেতাদের গুনতে হচ্ছে ৭০০ থেকে ৮০০ টাকা পর্যন্ত। এছাড়া সোনালি মুরগির কেজি বিক্রি হচ্ছে ৩৩০ থেকে ৩৫০ টাকায়।
তথ্যমতে, গত মাসে সোনালি মুরগির দাম ছিল ৩০০ থেকে ৩২০ টাকা। এখন তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৩০ থেকে ৩৫০ টাকায়। একইভাবে দেশি মুরগির দাম ৬৫০-৭০০ টাকা থেকে বেড়ে হয়েছে ৭৫০-৮০০ টাকা। ব্রয়লার মুরগিও ১৭৫ টাকা থেকে বেড়ে এখন ২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
রায়েরবাজারের মুরগি বিক্রেতা আনিস মিয়া বলেন, রোজার ঈদের পর মুরগির দাম কিছুটা কমেছিল। তখন ব্রয়লার ১৭০ থেকে ১৭৫ টাকায় বিক্রি হয়েছে। তবে চলতি সপ্তাহে দাম আবার বেড়েছে। বর্তমানে ব্রয়লার ২০০ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে। সোনালির দামও কেজিতে ১৫ থেকে ২০ টাকা বেড়েছে। দেশি মুরগির সরবরাহ কম থাকায় এর দাম আরও বেশি।
এদিকে এক সপ্তাহের ব্যবধানে পেঁয়াজের দামও কেজিতে অন্তত ১০ টাকা বেড়েছে। আদার দামও বেড়েছে ১০ থেকে ২০ টাকা পর্যন্ত। বর্তমানে আদা বিক্রি হচ্ছে ১৭০ থেকে ১৯০ টাকা কেজিতে। দেশি পেঁয়াজের কেজি এখন ৪৫ থেকে ৫০ টাকা, যা সপ্তাহখানেক আগেও ছিল ৩৫ থেকে ৪০ টাকা। তবে বাজারে দেশি রসুনের পর্যাপ্ত সরবরাহ থাকায় এর দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।
ব্যবসায়ীদের দাবি, পেঁয়াজের দাম বাড়লেও তা এখনো সাধারণ মানুষের নাগালের মধ্যে রয়েছে। তবে মধ্যস্বত্বভোগীদের কারণে বাজারে অতিরিক্ত দামের চাপ তৈরি হচ্ছে। কৃষকের কাছ থেকে পণ্য সংগ্রহের পর বড় ব্যবসায়ীদের গুদামেই এখন পেঁয়াজ মজুত রয়েছে বলে জানান তারা।
অন্যদিকে বাজারে এখন ৭০-৮০ টাকার নিচে তেমন কোনো সবজি পাওয়া যাচ্ছে না। পেঁপে বিক্রি হচ্ছে ৬০ থেকে ৮০ টাকা কেজিতে। বেগুনের দাম মানভেদে ৯০ থেকে ১২০ টাকা। এছাড়া ঢেঁড়স, চিচিঙ্গা, ধুন্দল ও ঝিঙে বিক্রি হচ্ছে ৮০ থেকে ১০০ টাকায়। করলা, বরবটি ও কাকরোলের দাম আরও বেশি, যা ১০০ থেকে ১২০ টাকা কেজি।
ডিমের বাজারেও ঊর্ধ্বগতি লক্ষ্য করা গেছে। বর্তমানে প্রতি ডজন ডিম ১৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। বিক্রেতাদের ভাষ্য, সরবরাহ কমে যাওয়ায় পাইকারি বাজার থেকেই বেশি দামে কিনতে হচ্ছে।
ডিম বিক্রেতা সোলায়মান বলেন, আগের তুলনায় বাজারে ডিমের সরবরাহ কমে গেছে। পাইকারিতে দাম বেশি হওয়ায় খুচরা বাজারেও এর প্রভাব পড়েছে।
ক্রেতাদের অভিযোগ, নিত্যপণ্যের এমন লাগামহীন দামে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারগুলো চরম চাপে পড়েছে। তারা বলছেন, বাজার তদারকি জোরদার না হলে ঈদের আগে পরিস্থিতি আরও অস্থিতিশীল হয়ে উঠতে পারে।