শুক্রবার, ১৫ মে ২০২৬, ০৫:৫৫ অপরাহ্ন
কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার নয়াপাড়া রেজিস্টার্ড রোহিঙ্গা ক্যাম্পে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সন্ত্রাসীদের গুলিতে হাসান আহমেদ ওরফে কালা হাসান নামে এক রোহিঙ্গা নিহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার রাত ১০টার দিকে ক্যাম্পের এইচ-ব্লকে এ ঘটনা ঘটে।
শুক্রবার সকালে ১৬ আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের (এপিবিএন) অধিনায়ক মোহাম্মদ কাউছার সিকদার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
নিহত হাসান আহমেদ (৪৫) পূর্বে ‘জকির গ্রুপ’ নামে পরিচিত একটি ডাকাত চক্রের সক্রিয় সদস্য ছিলেন বলে জানা গেছে। তিনি নয়াপাড়া রেজিস্টার্ড রোহিঙ্গা ক্যাম্পের এইচ-ব্লকের ৬৩৪ নম্বর শেডের বাসিন্দা সুলতান আহমেদের ছেলে। তার বিরুদ্ধে সাতটি মামলা বিচারাধীন রয়েছে।
স্থানীয়দের বরাতে এপিবিএন অধিনায়ক জানান, পূর্ব শত্রুতার জেরে রোহিঙ্গা সন্ত্রাসী সাদ্দাম ও তার সহযোগীরা অস্ত্র নিয়ে ক্যাম্পে প্রবেশ করে হাসান আহমেদকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়। এতে তার বুকের ডান পাশে গুলি লাগে এবং তিনি গুরুতর আহত হন। হামলার পর অভিযুক্তরা ক্যাম্পের পশ্চিম পাশের পাহাড়ি এলাকায় পালিয়ে যায়।
পরে স্থানীয় রোহিঙ্গারা আহত হাসানকে উদ্ধার করে প্রথমে ক্যাম্পসংলগ্ন হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে টেকনাফ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠানো হয়। তবে হাসপাতালে নেওয়ার পথে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে তার মৃত্যু হয়।
মোহাম্মদ কাউছার সিকদার বলেন, ক্যাম্পের আধিপত্য, মসজিদ কমিটির নিয়ন্ত্রণসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনার কথা বলে মুচনী রেজিস্টার্ড ক্যাম্প কমিটির এক সদস্য রাতে হাসানকে ডেকে নেন। পরে আগে থেকে ওঁত পেতে থাকা সাদ্দাম হোসেনের নেতৃত্বে ৬ থেকে ৭ জন সশস্ত্র ব্যক্তি তাকে লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি গুলি চালায়।
তিনি আরও জানান, খবর পেয়ে নয়াপাড়া এপিবিএনের একটি আভিযানিক দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পরে টেকনাফ মডেল থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে এবং মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠায়।
এপিবিএনের তথ্য অনুযায়ী, নিহত হাসানের বিরুদ্ধে তিনটি অস্ত্র মামলা, দুটি ডাকাতি প্রস্তুতি মামলা এবং দুটি অপহরণ মামলা চলমান রয়েছে।