শনিবার, ০৯ মে ২০২৬, ০৫:৫২ অপরাহ্ন
চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার গুলিয়াখালি সমুদ্র সৈকতে দোলনায় বসাকে কেন্দ্র করে পর্যটক ও স্থানীয় ব্যবসায়ীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে অন্তত ১২ জন আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে ৮ জন পর্যটক।
শনিবার (৯ মে) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে সৈকত এলাকায় এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আহতদের উদ্ধার করে সীতাকুণ্ড উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে।
আহত পর্যটকরা হলেন শেখ জাহিল আবরার (২১), তাজিম (২৪), মো. রাজু (২২), মো. ফজলে রাব্বি (২১), মো. রাদ (২১), সৈয়দ তাসফিকুল ইসলাম (২৫), মো. আলিফ (২১) ও মেহেদী হাসান (২২)। তাদের মধ্যে একজন ময়মনসিংহ, একজন মানিকগঞ্জ এবং বাকিরা ঢাকার বাসিন্দা।
জানা গেছে, আহতরা সবাই ঢাকার বারিধারার নতুনপাড়া এলাকার University of Information Technology and Sciences (UITS)-এর শিক্ষার্থী। আহতদের মধ্যে ফজলে রাব্বির শারীরিক অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। আহত স্থানীয় ব্যবসায়ীদের পরিচয় জানা যায়নি।
গুলিয়াখালি সমুদ্র সৈকত কমিটির সদস্য মো. শহিদুল ইসলাম জানান, সকালে কয়েকজন পর্যটক সৈকতের একটি দোলনায় বসতে গিয়ে সেটি ভেঙে ফেলেন। এ নিয়ে স্থানীয় দোকানদারদের সঙ্গে তাদের কথা কাটাকাটি শুরু হয়। পরে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে সংঘর্ষে রূপ নেয়। এতে উভয় পক্ষের কয়েকজন আহত হন।
আহত শিক্ষার্থী মাহীন বলেন, তারা ১০ বন্ধু মিলে ঘুরতে গিয়েছিলেন। এ সময় তাদের দুই বন্ধুকে একা পেয়ে স্থানীয় কিছু লোক দোলনায় বসাকে কেন্দ্র করে মারধর করে। পরে বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করতে গেলে অন্যদের ওপরও হামলা চালানো হয়।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, হামলার সময় তাদের কয়েকটি মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছিল। তবে ৯৯৯-এ ফোন করার পর পুলিশ আসার আগেই মোবাইলগুলো ফেরত দিয়ে অভিযুক্তরা পালিয়ে যায়।
মাহীন বলেন, “বন্ধুদের নিয়ে অনেক জায়গায় ঘুরতে গেছি। কিন্তু এখানে এসে এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হবো ভাবিনি। ভবিষ্যতে আর এখানে আসতে চাই না।”
সীতাকুণ্ড উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা আলতাফ হোসেন জানান, আহতদের মধ্যে সাতজনকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। একজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
সীতাকুণ্ড থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মহিনুল ইসলাম বলেন, খবর পাওয়ার পর পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং আহতদের হাসপাতালে পাঠায়। হামলায় জড়িত কাউকে এখনো আটক করা যায়নি। ভুক্তভোগীদের পক্ষ থেকে অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।