শনিবার, ০৯ মে ২০২৬, ০৫:২৫ অপরাহ্ন
গাজীপুরের কাপাসিয়ায় একই পরিবারের পাঁচজনকে হত্যার ঘটনায় নতুন তথ্য দিয়েছে পুলিশ। নিহতদের মরদেহের ওপর পাওয়া গেছে কম্পিউটারে টাইপ করা পাঁচটি অভিযোগপত্র। সবগুলো অভিযোগপত্র একই ধরনের এবং গোপালগঞ্জ সদর থানার ওসির উদ্দেশ্যে লেখা ছিল বলে জানিয়েছে পুলিশ।
গাজীপুর জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কালীগঞ্জ সার্কেল মো. আসাদুজ্জামান জানান, অভিযোগপত্রগুলো থানায় জমা দেওয়া হয়েছিল কি না এবং দেওয়া হলেও তা গ্রহণ করা হয়েছিল কি না, সে বিষয়ে তদন্ত চলছে।
নিহতরা হলেন— ফোরকানের স্ত্রী শারমিন (৩৫), মেয়ে মিম (১৫), মারিয়া (১২), শিশু কন্যা ফারিয়া (১) এবং শ্যালক রসুল। তাদের গ্রামের বাড়ি গোপালগঞ্জ সদর এলাকায়।
মরদেহের পাশে রাখা অভিযোগপত্র থেকে জানা যায়, স্ত্রী শারমিন খানম স্বামীর উপার্জিত প্রায় ১০ লাখ টাকা নিয়ে বাবার বাড়িতে জমি কিনেছিলেন। একই সঙ্গে খালাতো ভাই রাজু আহমেদের সঙ্গে তার পরকীয়ার সম্পর্ক ছিল বলেও অভিযোগ করা হয়। বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর দাম্পত্য কলহ শুরু হয়। অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, গত ৫ মে শারমিন ও রাজু মিলে ফোরকানকে মারধর করেন।
শুক্রবার (৮ মে) রাতে কাপাসিয়া উপজেলার রাউতকোনা গ্রামে প্রবাসী মনির হোসেনের ভাড়া বাসা থেকে পাঁচজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। নিহতদের মধ্যে ছিলেন শারমিন, তার তিন মেয়ে ও ছোট ভাই রসুল। প্রত্যেককে গলা কেটে হত্যা করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
ঘটনার পর থেকে পলাতক রয়েছেন পরিবারের কর্তা ও প্রাইভেটকার চালক ফোরকান মিয়া। তাকে প্রধান সন্দেহভাজন হিসেবে দেখছে পুলিশ। এ ঘটনায় ফোরকানের গাড়ির ব্যবসার সঙ্গে জড়িত দুইজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছে। তবে তাদের পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ঘরের ভেতরের দৃশ্য ছিল ভয়াবহ। তিন শিশুর মরদেহ পাশাপাশি মেঝেতে পড়ে ছিল। রসুলের মরদেহ পাওয়া যায় বিছানার ওপর। অন্যদিকে শারমিনের হাত ও মুখ বাঁধা অবস্থায় তার মরদেহ জানালার পাশে পড়ে ছিল।
স্থানীয়দের ভাষ্য, ফোরকান মিয়া পরিবার নিয়ে প্রায় এক বছর ধরে ওই বাড়িতে ভাড়া থাকতেন। শুক্রবার রাতেও পরিবারের সদস্যদের স্বাভাবিকভাবে দেখা গেছে। কিন্তু শনিবার সকালে ঘরের ভেতরে পাঁচজনের মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয়রা পুলিশকে খবর দেন।
প্রতিবেশীদের দাবি, ফোরকান ও শারমিনের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে পারিবারিক বিরোধ চলছিল। সেই বিরোধের জেরেই হত্যাকাণ্ড ঘটতে পারে বলে ধারণা করছেন তারা।
কাপাসিয়া থানার ওসি শাহিনুর আলম বলেন, প্রাথমিকভাবে পারিবারিক কলহকে হত্যার কারণ হিসেবে মনে করা হচ্ছে। ঘটনার পর থেকেই অভিযুক্ত ফোরকান মিয়া পলাতক রয়েছেন।
গাজীপুর জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) আশফাক উজ্জামান জানান, মরদেহগুলো ময়নাতদন্তের জন্য গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি চলছে এবং অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারে পুলিশের একাধিক টিম অভিযান চালাচ্ছে।