রবিবার, ১৪ জুন ২০২৬, ১২:০১ পূর্বাহ্ন
ভারতে পলাতক শেখ হাসিনাকে মানবতাবিরোধী অপরাধে বিচারের মুখোমুখি করা হবে: ড. ইউনূস
ঢাকা, ৫ মার্চ — বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস জানিয়েছেন, ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত হয়ে ভারতে পালিয়ে যাওয়া সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারের মুখোমুখি হতে হবে।
স্কাই নিউজের এশিয়া সংবাদদাতা কর্ডেলিয়া লিঞ্চকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ড. ইউনূস বলেন, শেখ হাসিনা দেশে থাকুন বা না থাকুন, বিচারের হাত থেকে রেহাই পাবেন না।
অভিযোগ রয়েছে, শেখ হাসিনা তার শাসনামলে গুম, নির্যাতন ও বিচারবহির্ভূত হত্যার ‘পরিকল্পনাকারী’ ছিলেন। বিশেষ করে ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে আন্দোলনকারীদের ওপর চালানো গণহত্যার মূল নির্দেশদাতা ছিলেন তিনি।
ড. ইউনূস আরও বলেন, “শুধু হাসিনাই নন, তার পরিবার, উপদেষ্টামণ্ডলী ও মদতদাতারাও বিচারের আওতায় আসবে। ইতিহাস কাউকে ক্ষমা করবে না।”
বাংলাদেশের আলোচিত গোপন কারাগার ‘আয়নাঘর’-এ সম্প্রতি পরিদর্শন শেষে ড. ইউনূস বলেন, “যা দেখেছি, তা অবর্ণনীয়। এ যেন এক নরক— যেখানে রাজনীতি বিরোধীদের নিঃশেষ করার কারখানা তৈরি হয়েছিল!”
শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে অভিযোগ, তার শাসনামলে নিরাপত্তা বাহিনীকে ব্যবহার করে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষদের নিখোঁজ, নির্যাতন ও হত্যা করা হয়েছিল। ৮০০টিরও বেশি গোপন কারাগারে এসব ভয়াবহ কর্মকাণ্ড পরিচালিত হতো বলে জানা গেছে।
বাংলাদেশ সরকার ইতোমধ্যে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে দুটি গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছে এবং ভারত সরকারকে তার প্রত্যর্পণের জন্য আনুষ্ঠানিক চিঠিও পাঠিয়েছে। তবে নয়াদিল্লির পক্ষ থেকে কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
ড. ইউনূস বলেন, “এটি নিছক কোনো বিচ্ছিন্ন অপরাধ নয়, বরং এটি ছিল পুরো সরকার-ব্যবস্থার একটি নিষ্ঠুর পরিকল্পনা। কেউ আদেশ মেনে করেছে, কেউ উদ্যমী হয়ে করেছে, কেউ আবার ভয় পেয়ে করেছে— তবে কেউই দায় এড়াতে পারবে না!”
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রধান প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম জানিয়েছেন, চলতি মাসের মধ্যেই হাসিনার বিরুদ্ধে থাকা মামলাগুলোর তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করা হতে পারে। এর পর এক থেকে দেড় মাসের মধ্যে বিচার কার্যক্রম শুরু হবে।
তিনি বলেন, “বিচারে আন্তর্জাতিক মানদণ্ড বজায় রাখা হবে। তবে এ বিষয়ে কোনো আপস নয়— ন্যায়বিচার নিশ্চিত করাই মূল লক্ষ্য।”
শেখ হাসিনা তার বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন এবং এটিকে ‘রাজনৈতিক প্রতিহিংসার ফল’ বলে দাবি করেছেন। তবে বাংলাদেশে অভ্যুত্থানের পর থেকে রাজনৈতিক পরিস্থিতি পাল্টে গেছে, যেখানে তার ফিরে আসার সম্ভাবনা প্রায় শূন্য।
ড. ইউনূস বলেন, “কেউ অপরাধ করে পার পাবে না। দুঃশাসনের সময় শেষ, এখন বিচারের সময়!”