বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬, ০২:০২ পূর্বাহ্ন
রকিব সিদ্দিক, কুলিয়ার চড়
আব্দুর রাজ্জাক, পসিন্দা, পেশায় ভৈরবের একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মী। রাজনৈতিক পরিচয়ে তিনি “পৌর মৎস্যজীবী দলের সভাপতি”। ছোটবেলা থেকেই দেখেছি, তিনি কখনোই পেশিশক্তি কিংবা বিপুল অনুসারী নিয়ে চলেননি, তবে নিজের নীতির সঙ্গে ছিলেন অবিচল। আর্থিক সচ্ছলতা ছিল না, তবুও আদর্শ থেকে বিচ্যুত হননি। বিএনপির প্রতি ছিল তাঁর অকুণ্ঠ সমর্থন, যা পারিবারিক রাজনৈতিক প্রবাহের সম্পূর্ণ বিপরীত। তাঁর পূর্বপুরুষেরা আওয়ামী রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থাকলেও তিনি থেকেছেন ভিন্নমতের ধারক।

কিন্তু সেই রাজ্জাক ভাইয়ের পরিবারে নেমে এসেছে এক ভয়াবহ দুর্যোগ। বুধবার ভোরে তাঁর অনার্স থার্ড ইয়ারে পড়ুয়া একমাত্র কন্যা জান্নাতুল মাওয়া আত্মহত্যা করেছে। বিষয়টি জানার পর বিভিন্ন সূত্রে তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা করেছি এবং এক করুণ বাস্তবতার সম্মুখীন হয়েছি।
শোনা যায়, বছরখানেক আগে মেয়েটির পরিচয় হয়েছিল ইতালিপ্রবাসী এক ভৈরবী যুবকের সঙ্গে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের সূত্র ধরে সম্পর্কের শুরু, যা পরবর্তীতে ঘনিষ্ঠতায় রূপ নেয়। ছেলেটি তাকে বিয়ের প্রতিশ্রুতি দেয় এবং গত ডিসেম্বরে বিয়ের পরিকল্পনাও হয়। কিন্তু ঘটনাটি মোড় নেয় এক ভিন্ন পথে। মৃত্যুর কিছুক্ষণ আগে ছেলেটি মেয়েটির মাকে ফোন করে জানায়, তাঁদের মেয়ে আত্মহত্যার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর অর্থ, সম্পর্ক তখনও বজায় ছিল, এবং শেষ মুহূর্তে এমন কিছু ঘটেছে যা মেয়েটির পক্ষে সহ্য করা সম্ভব হয়নি। সম্পর্কের স্বাভাবিক ঝগড়া, মনোমালিন্য হয়তো ছিল, তবে তা আত্মহননের পর্যায়ে নিয়ে যাওয়ার মতো কী ঘটেছিল—এ প্রশ্নের উত্তর মাওয়া চিরতরে নিয়ে চলে গেছে।
ঘটনার সারসংক্ষেপ এটিই।
এখন প্রশ্ন হচ্ছে, একটি মেয়ে যখন কারও প্রেমের জালে আটকা পড়ে এবং প্রতারণার শিকার হয়, তখন সমাজ তাকে কতটুকু নিরাপত্তা দেয়? আমরা কি আসলেই এসব বিষয়কে গুরুত্ব দিই? বুধবার একই দিনে ভৈরবে আরও এক তরুণী আত্মহত্যা করেছে। এটি কি নিছক কাকতালীয়, নাকি সমাজব্যবস্থার গভীর কোনো সংকেত? আমরা বিষয়টি নিয়ে ভাবছি কি? আজ কারও পরিবার নিরাপদ থাকলেও ভবিষ্যতে যে এমন দুর্যোগ আসবে না, তার নিশ্চয়তা কোথায়?
এই ধরনের ঘটনা মূলত সহজ-সরল, আবেগপ্রবণ এবং মধ্যবিত্ত বা নিম্ন-মধ্যবিত্ত পরিবারের মেয়েদের বেশি প্রভাবিত করে। প্রেমের নামে প্রতারণা, বিয়ের মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দিয়ে সম্পর্ক তৈরি করা—এগুলো কি অপরাধ নয়? আমরা প্রায়শই শুনি, মেয়েটি ভুল করেছে, কিন্তু যারা প্রতারণার ফাঁদ পাতছে, তাদের কি কোনো দায় নেই?
আমি পক্ষপাতমূলক দৃষ্টিকোণ থেকে বলছি না। উভয় পক্ষের বক্তব্য জানা উচিত। তবে বাস্তবতা হলো, মেয়েটি আজ আর জীবিত নেই, অথচ ছেলেটি বহুদূর ইতালিতে বসে ইউরো কামাবে, হয়তো কয়েক বছর পর দেশে ফিরে সম্ভ্রান্ত পরিবারের কোনো সুন্দরী মেয়েকে বিয়ে করবে। কিন্তু রাজ্জাক ভাই? তিনি কি কখনো তাঁর প্রিয় কন্যাকে ফিরে পাবেন? মেয়েটিকে নিয়ে তাঁর যত স্বপ্ন ছিল, তা কি আর কখনো পূরণ হবে?
আমরা চাই, রাজ্জাক ভাই ন্যায়বিচার পান।
বি.দ্র.: এই লেখাটি সম্পূর্ণ মানবিক বিবেচনা ও সামাজিক দায়বদ্ধতা থেকে একপক্ষীয় তথ্যের ভিত্তিতে রচিত।
“বিষয়টি গভীরভাবে ভাবুন।”