বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ১২:৩৫ পূর্বাহ্ন
সাদিকা জাহান
রোজা রাখার সময় হঠাৎ জীবনযাত্রার পরিবর্তন, পর্যাপ্ত পানি গ্রহণ না করা এবং অতিরিক্ত ভাজা ও মসলাযুক্ত খাবার খাওয়ার কারণে অনেকেই কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যায় পড়েন। রোজা রাখার সময় কোষ্ঠকাঠিন্য থেকে দূরে থাকতে কী কী পদক্ষেপ নেয়া উচিত, সে বিষয়ে এখানে আলোচনা করা হলো।
ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব ডায়াবেটিস অ্যান্ড ডাইজেস্টিভ ডিজিজেসের তথ্য অনুযায়ী, একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের প্রতিদিন প্রায় ২২ থেকে ৩৪ গ্রাম ফাইবার বা আঁশ প্রয়োজন। এই পরিমাণ আঁশ ইফতার থেকে সাহরি পর্যন্ত সময়ে শরীরে গ্রহণ করা উচিত। খাবারে আঁশের পরিমাণ কম এবং পানি গ্রহণ কম হলে কোষ্ঠকাঠিন্য দেখা দেয়।
এই সমস্যা থেকে বাঁচতে ইফতারে ফলমূল বেশি খাওয়া উচিত। রাতের খাবারে এবং সাহরিতে শাক-সবজি, সহজপাচ্য খাবার খাওয়ার পরামর্শ দেন বিশেষজ্ঞরা। এছাড়া ইসবগুলের ভুষি, লাল আটা ও ঢেঁকি ছাটা চালের ভাত কোষ্ঠকাঠিন্য রোধে সহায়ক।
পানি খাওয়ার গুরুত্ব অনস্বীকার্য। ইফতার থেকে সাহরি পর্যন্ত মোট আড়াই লিটার পানি খেতে হবে। তবে একবারে অতিরিক্ত পানি খাওয়ার থেকে বিরত থাকুন এবং খাবারের মাঝখানে পানি খাওয়া পরিহার করুন। হাইড্রেটেড থাকতে উচ্চ পানিযুক্ত খাবার যেমন ঘরে তৈরি স্যুপ, শাক-সবজি, ফল, শসা, টমেটো ও তরমুজ খেতে হবে।
সাহরিতে হাইড্রেটিং ফল যেমন তরমুজ, কমলা, বা আমসহ বাদাম, চিয়া বীজ, দই, ফ্ল্যাক্সসিডের স্মুদি রাখা যেতে পারে। এতে শরীর পর্যাপ্ত ফাইবার পাবে এবং কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা কমবে।
রোজার সময়ে ভাজাপোড়া ও মসলাযুক্ত খাবার প্রতিদিন খাওয়ার থেকে সপ্তাহে ১/২ দিন পরিমাণ মতো খাওয়া উচিত। এটি কোষ্ঠকাঠিন্য এড়াতে সহায়ক হবে। ইফতারের সময় একবারে পেট ভরে খাওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে। প্রথমে চিনিযুক্ত শরবত বা খেজুর খেয়ে কিছুক্ষণ বিরতি নিন। একেবারে অতিরিক্ত খাবার খেলে পেটের সমস্যা হতে পারে, যা কোষ্ঠকাঠিন্য সৃষ্টি করতে পারে।
আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, রোজার সময়ে ব্যায়াম করা একদম নিষেধ নয়। ইফতারের পর ৩০ মিনিট হাঁটলে শরীরও সুস্থ থাকবে এবং কোষ্ঠকাঠিন্য থেকেও দূরে থাকা সম্ভব হবে।
কোষ্ঠকাঠিন্য রোধে এই সহজ পন্থাগুলো মেনে চললে রোজার সময় শরীর সুস্থ ও আনন্দময় থাকবে।