রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ০২:৫৯ পূর্বাহ্ন
খুলনার দাকোপ উপজেলার দুর্গম উপকূলীয় এলাকা নলিয়ান থেকে নৌপথে মোংলার উদ্দেশে রওনা হয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) সকালে নলিয়ানে পৌঁছে স্থানীয়দের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন তিনি। নদীভাঙন, সুপেয় পানির অভাব ও দুর্বল যোগাযোগব্যবস্থার কারণে দীর্ঘদিন ধরে দুর্ভোগে থাকা এ এলাকার বাসিন্দারা প্রধানমন্ত্রীর সফরকে ঘিরে নতুন প্রত্যাশা করছেন।
বৃহস্পতিবার সকাল ১০টা ২৮ মিনিটে প্রধানমন্ত্রীকে বহনকারী হেলিকপ্টারটি দাকোপের নলিয়ান মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠে অবতরণ করে। এরপর হেঁটে নলিয়ান কোস্টগার্ডের পন্টুনে যান তিনি। সকাল ১০টা ৪৮ মিনিটে পন্টুন থেকে নৌপথে মোংলার উদ্দেশে যাত্রা শুরু করেন প্রধানমন্ত্রী।
এর আগে নলিয়ান বাজার মোড়ে অপেক্ষায় থাকা শত শত মানুষের দিকে হাত নেড়ে শুভেচ্ছা জানান এবং তাঁদের সঙ্গে করমর্দন করেন তারেক রহমান। তাঁকে দেখার জন্য সকাল থেকেই সেখানে স্থানীয়দের ভিড় জমে। সরকারপ্রধানের আগমনকে কেন্দ্র করে দুর্গম এ উপকূলীয় জনপদে উৎসবমুখর পরিবেশ তৈরি হয়।
প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গীদের মধ্যে রয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, বাণিজ্যমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম, খুলনা-৩ আসনের সংসদ সদস্য ও হুইপ রকিবুল ইসলাম বকুল এবং খুলনা-১ আসনের সংসদ সদস্য আমির এজাজ খান। তাঁদের সঙ্গে রয়েছেন খুলনা বিভাগীয় কমিশনার মো. আবদুল্লাহ হারুন, জেলা প্রশাসক মিজ হুরে জান্নাতসহ সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
প্রধানমন্ত্রীর সফরকে কেন্দ্র করে নলিয়ানে নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করা হয়। নলিয়ান মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠ ও আশপাশের এলাকায় পুলিশ, প্রেসিডেন্ট গার্ড রেজিমেন্ট (পিজিআর), নৌবাহিনী, কোস্টগার্ডসহ বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের সতর্ক অবস্থানে রাখা হয়। হেলিকপ্টার অবতরণের স্থান বিদ্যালয় মাঠে ডগ স্কোয়াডের মাধ্যমেও তল্লাশি চালানো হয়।
সফর উপলক্ষে নলিয়ান বাজারের পশ্চিম প্রান্তের পাকা সড়ক থেকে পূর্ব দিকে কোস্টগার্ড কার্যালয় পর্যন্ত প্রায় এক কিলোমিটার সড়কে ইট বিছিয়েছে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)। এ ছাড়া নলিয়ান মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠে হেলিকপ্টার অবতরণের জন্য হেলিপ্যাড প্রস্তুত করা হয়।
সফরসূচি অনুযায়ী, সকালে হেলিকপ্টারে সুন্দরবনের হিরণ পয়েন্ট ও আশপাশের এলাকা পরিদর্শন শেষে নলিয়ানে অবতরণ করেন প্রধানমন্ত্রী। সেখান থেকে নৌপথে মোংলার নৌঘাঁটির উদ্দেশে রওনা হন তিনি। মোংলায় একটি সভায় অংশ নেওয়ার পাশাপাশি বন্দরটির জেটি এবং বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষের (বেজা) প্রস্তাবিত অর্থনৈতিক অঞ্চল পরিদর্শনের কর্মসূচি রয়েছে তাঁর।
এদিকে, সুন্দরবন এলাকায় সম্ভাব্য ভাসমান তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) টার্মিনাল স্থাপনের স্থান পরিদর্শন নিয়েও আলোচনা রয়েছে। মোংলা বন্দর সম্প্রসারণ, অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠা ও সম্ভাব্য এলএনজি টার্মিনালকে ঘিরে স্থানীয় ব্যবসায়ী ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মধ্যে আশাবাদ তৈরি হয়েছে। তাঁদের প্রত্যাশা, এসব উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে দক্ষিণাঞ্চলে বিনিয়োগ বৃদ্ধির পাশাপাশি নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে।
তবে নদীভাঙন প্রতিরোধ, সুপেয় পানির স্থায়ী ব্যবস্থা, উন্নত যোগাযোগব্যবস্থা এবং প্রয়োজনীয় অবকাঠামো নির্মাণের মতো দীর্ঘদিনের সমস্যাগুলোর সমাধানও চান নলিয়ানবাসী। তাঁদের প্রত্যাশা, প্রধানমন্ত্রীর এ সফরের মধ্য দিয়ে দুর্গম উপকূলীয় জনপদের মানুষের জীবনমান উন্নয়নে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হবে।