শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬, ০৭:৫০ অপরাহ্ন
টেক্সাসে ৪৫ মিনিটেই পানির ভয়াল থাবা, মৃত ৭৮!
অনলাইন ডেস্ক
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যে আকস্মিক বন্যা প্রাণ কেড়ে নিয়েছে ৭৮ জনের। নিখোঁজ রয়েছেন আরও অন্তত ৪১ জন। শুক্রবার (৪ জুলাই) স্যান অ্যান্টোনিও শহরের গুয়াদালুপ নদীর পানি হঠাৎ বাড়তে থাকলে সৃষ্ট হয় এই প্রলয়ঙ্কর পরিস্থিতি। খবর গণমাধ্যম।
সবচেয়ে ক্ষতির শিকার হয়েছে কের কাউন্টির নদীর ধারে অবস্থিত গ্রীষ্মকালীন ক্যাম্প ‘ক্যাম্প মিস্টিক’। এখানেই প্রাণহানির সংখ্যা সর্বোচ্চ। সেখানে মারা গেছেন অন্তত ৬৮ জন, যাদের মধ্যে ২৮ জন শিশু। নিখোঁজদের মধ্যে রয়েছেন ১০ জন কিশোরী ও একজন তত্ত্বাবধায়ক। স্থানীয় কর্মকর্তারা আশঙ্কা করছেন, মৃত্যু সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।
ভোরে মাত্র ৪৫ মিনিটেই গুয়াদালুপ নদীর পানি হঠাৎ ২৬ ফুট বেড়ে যায়। তখন ক্যাম্প মিস্টিকে অবস্থান করছিল প্রায় ৭৫০ কিশোর-কিশোরী। সময়মতো অনেককে সরিয়ে নেওয়া গেলেও প্রচণ্ড স্রোতে ক্যাম্পের বিশাল অংশ তলিয়ে যায়।
উদ্ধারকারীরা জানায়, কাদা, গাছপালা আর ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে চলা রীতিমতো দুঃসাহসিক। বিষাক্ত সাপ ও বিপজ্জনক আবহাওয়ার কারণে উদ্ধার অভিযান হুমকির মুখে। মৃতদের মধ্যে এখনও ১৮ জন প্রাপ্তবয়স্ক ও ১০ শিশুর পরিচয় মেলেনি। গভর্নর গ্রেগ অ্যাবট রোববার (৬ জুলাই) জানান, নিখোঁজদের খোঁজে কোনো ত্রুটি রাখা হবে না। তবে তিনি আরও জানান, সামনে ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টায় আরও ঝড় ও বৃষ্টি পরিস্থিতি জটিল করতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কের কাউন্টিকে ‘বড় দুর্যোগ এলাকা’ ঘোষণা করেছেন। ফেডারেল সংস্থা ফিমা ইতিমধ্যেই কাজ শুরু করেছে। প্রেসিডেন্ট নিজেই এলাকা পরিদর্শনে শুক্রবার টেক্সাসে যাওয়ার সম্ভাবনার কথা জানান।
এদিকে স্থানীয় বাসিন্দারা নিজেরা উদ্যোগ নিয়ে দুর্গতদের পাশে দাঁড়িয়েছেন। কেউ আশ্রয় দিয়েছেন, কেউ খাবার রান্না করছেন, আবার কেউ প্রয়োজনীয় পোশাক ও সরঞ্জাম জোগাড় করছেন। এই সংকটে মানবিকতার অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে টেক্সাসবাসী।
গাছ উপড়ে যাওয়া, যানবাহন উল্টে পড়া, বিদ্যুৎ বিভ্রাটসহ ভাঙচুরে বিপর্যস্ত এলাকাজুড়ে হেলিকপ্টার, ড্রোন ও বিশেষ উদ্ধার যান কাজে লাগানো হচ্ছে। উদ্ধারকারীরা জানিয়েছেন, এখনো এলাকাটি চরম ঝুঁকিপূর্ণ এবং সতর্কতা অবলম্বনই একমাত্র পথ।