বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬, ১১:১৯ অপরাহ্ন
রাতে চুলকানি? শুধু অস্বস্তি নয়, হতে পারে ভয়ংকর রোগের পূর্বাভাস
অনলাইন ডেস্ক
ঘুমাতে যাওয়ার সময় শরীরটা ঠিকমতো বিছানায় রাখতেই শুরু হয় অসহ্য চুলকানি। এখানে-ওখানে বারবার চুলকাতে চুলকাতে বিরক্ত হয়ে উঠেন অনেকেই। ঘুম আসতে চায় না, আর পরদিন সকালটা শুরু হয় অস্বস্তি আর ক্লান্তি নিয়ে। কিন্তু জানেন কি, রাতের এই চুলকানি কোনো সাধারণ সমস্যা নয়—বরং ত্বকের কিছু গোপন রোগের লক্ষণ হতে পারে!
রাতে চুলকানির বড় কারণ হতে পারে স্ক্যাবিস বা খোসপাঁচড়া। এটি একধরনের পরজীবী সংক্রমণ, যা Sarcoptes scabiei নামের পরজীবীর মাধ্যমে ছড়ায়। এরা ত্বকের নিচে ডিম পাড়ে এবং রাতেই বেশি সক্রিয় হয়। ত্বকের তাপমাত্রা রাতে সামান্য বাড়ে, আর সেই সুযোগে তারা আক্রমণ চালায়। চুলকানি হয় দমবন্ধ করা মাত্রায়। পরিবারের একজন আক্রান্ত হলে প্রায় সবাইকে ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা থাকে।
যাঁদের ত্বক প্রাকৃতিকভাবেই শুষ্ক, তাঁদের রাতের চুলকানি আরও বেশি হয়। থাইরয়েড হরমোনের সমস্যা, সোরিয়াসিস, কিংবা ডায়াবেটিসের কারণে ত্বকে আর্দ্রতা কমে গিয়ে চুলকানির প্রবণতা বেড়ে যায়। শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত কক্ষে রাত কাটালে শুষ্কতা আরও বাড়ে, ফলে ঘুম যেন এক অভিশাপ হয়ে ওঠে।
ডায়াবেটিসের কারণে স্নায়ু আক্রান্ত হলে বিশেষ করে পায়ে চুলকানি, কামড়ানোর মতো অনুভূতি বা জ্বালাপোড়া শুরু হয়। রাতেই এই উপসর্গগুলো প্রকট হয়। ঘন ঘন পায়ের ত্বক শুকিয়ে যাওয়া এবং ঘাম বন্ধ হয়ে যাওয়া এর সাধারণ লক্ষণ।
গর্ভাবস্থায় হরমোনের তারতম্যের কারণে অনেক নারীর রাতে ত্বকে চুলকানি বাড়ে। বিশেষ করে পেটের চারপাশ, হাত ও পায়ের ত্বকে বেশি দেখা যায় এই সমস্যা।
হ্যাঁ, ভুল পড়ছেন না! লিউকেমিয়া বা লিম্ফোমার মতো কিছু রক্তক্যানসারের প্রাথমিক লক্ষণ হতে পারে রাতে ত্বকে অতিরিক্ত চুলকানি, ঘাম এবং দুর্বলতা। যদিও এই উপসর্গগুলো অনেক কমন, তবে একাধিক লক্ষণ একসঙ্গে দেখা গেলে সতর্ক হওয়া জরুরি।
রাতে বিছানায় ঘাপটি মেরে থাকা ছারপোকা বা ধুলা অ্যালার্জেন থেকেও চুলকানি শুরু হতে পারে। পর্দা, মাদুর, এমনকি বালিশেও লুকিয়ে থাকতে পারে এই অসুখের সূত্র।
✔ সবচেয়ে আগে চিহ্নিত করুন কারণটি: স্ক্যাবিস হলে একসঙ্গে সবাইকে চিকিৎসা করান।
✔ ইমোলিয়েন্ট ব্যবহার করুন: ঘুমানোর আগে ত্বকে ভালোভাবে লাগান।
✔ পরিষ্কার বিছানা-বালিশ ব্যবহার করুন: গরম পানিতে ধুয়ে রোদে শুকান।
✔ সঠিক রোগ নির্ণয় করুন: থাইরয়েড, ডায়াবেটিস কিংবা অ্যালার্জি পরীক্ষা করে নিন।
✔ প্রয়োজনে অ্যান্টিহিস্টামিন সেবন করুন: তবে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শে।
রাতে চুলকানি যেন তুচ্ছ বিষয় না হয়ে ওঠে ভয়াবহ বিপদের পূর্বাভাস। বরং সময় থাকতেই চিহ্নিত করুন কারণ, নিন চিকিৎসকের সাহায্য। কারণ সুস্থ ঘুম মানেই ভালো স্বাস্থ্য—আর তা ব্যাহত হলে কেবল ত্বক নয়, ভেঙে পড়ে পুরো শরীর।