সোমবার, ২৫ মে ২০২৬, ০৯:৩৮ পূর্বাহ্ন
ব্র্যান্ডের জোয়ারে শহর মাত, মফস্বলে ঢুকছে ধীরে ধীরে
অনলাইন ডেস্ক
চমৎকার নকশা ও নির্ভরযোগ্য গুণগত মান দিয়ে দেশি ব্র্যান্ডের আসবাবপত্র ইতিমধ্যে নগরবাসীর মন জয় করেছে। শহরের সীমানা পেরিয়ে ব্র্যান্ডগুলো এখন ধীরে ধীরে পা রাখছে মফস্বলের ঘরে ঘরে। তবে এখনও দেশের আসবাবপত্র ব্যবসার বড় অংশই নিয়ন্ত্রণ করছে নাম না জানা ক্ষুদ্র ও অতিক্ষুদ্র প্রতিষ্ঠান।
একসময় মানুষ ঘরের আসবাব তৈরির জন্য আশপাশের কাঠমিস্ত্রির দ্বারস্থ হতেন। এখনো এই ঐতিহ্য টিকে থাকলেও, মানসম্পন্ন পণ্য আর দৃষ্টিনন্দন ডিজাইনের জন্য মানুষ ঝুঁকছেন ব্র্যান্ডের দিকে। অটবি ১৯৭৫ সালে প্রথম এই যাত্রা শুরু করে, যার পথ ধরে আসে আকতার, হাতিলসহ আরও অনেক ব্র্যান্ড। তবে ২০০০ সালের পর থেকেই এই খাতের প্রসার গতি পায়।
আজ শুধু ঘরের নয়—অফিস, হাসপাতাল, স্কুল-কলেজেও ব্র্যান্ডের আসবাবের চাহিদা লাফিয়ে বেড়েছে। এই চাহিদায় যুক্ত হয়েছে নাভানা, পারটেক্স, নাদিয়া, ব্রাদার্স, ইশো, রিগ্যাল, হাইটেকসহ বহু নাম। রাজধানী থেকে জেলা পর্যায়ে তারা জমিয়ে ব্যবসা করলেও উপজেলা স্তরে এখনো তেমন দখল গড়তে পারেনি।
দেশে কাঠের ঘাটতি থাকায় বিভিন্ন ব্র্যান্ড মিয়ানমার, কানাডা, জার্মানি, নাইজেরিয়া থেকে সেগুন, ওক, মেহগনি ইত্যাদি আমদানি করে। পাশাপাশি বোর্ড দিয়েও আসবাব তৈরি হয়। এতে খরচ বাড়ে। ফলে বেশিরভাগ ব্র্যান্ডেড খাটের দাম ৩০ হাজার টাকার ওপরে, ডাইনিং টেবিল ৫০ হাজারের কাছাকাছি—যা অনেকের চোখে “দামি”।
ব্যবসায়ীদের দাবি, আসবাব তৈরির জন্য কাঁচামাল আমদানিতে ৫০-৮৯ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক দিতে হয়। ডলারের দাম বেড়ে যাওয়ায় খরচ আরও বাড়ছে। শুল্ক কমালে দামও কমবে বলে মনে করেন তারা।
রপ্তানি খাতেও পিছিয়ে আছে বাংলাদেশ। এক দশকে আশানুরূপ অগ্রগতি হয়নি, যদিও বৈশ্বিক বাজার দিন দিন বাড়ছে। ২০২৪–২৫ বাজেটকে সামনে রেখে বন্ড সুবিধা চাচ্ছেন ব্যবসায়ীরা—যাতে শুল্ক ছাড়ে কাঁচামাল আনতে পারেন। শর্তসাপেক্ষে ব্যাংক গ্যারান্টিও দিতে প্রস্তুত তারা।
নীতিগত সহায়তা পেলে আসবাব রপ্তানির বাজার ১০০ কোটি ডলারে পৌঁছানো সম্ভব—এটাই উদ্যোক্তাদের আশা। এখন দেখার পালা, সরকার এই সম্ভাবনার আলোকে কী পদক্ষেপ নেয়!