সোমবার, ২০ এপ্রিল ২০২৬, ০৬:২৮ অপরাহ্ন
আর্জেন্টিনার মনুমেন্টাল স্টেডিয়ামে রাতটি হয়ে উঠল ফুটবল ইতিহাসে স্মরণীয় এক অধ্যায়। ভেনেজুয়েলার বিপক্ষে শেষবারের মতো নিজ দেশের মাটিতে বাছাইপর্বের ম্যাচ খেললেন লিওনেল মেসি। দুই গোল করে আবারও তিনি তারকা ছোঁয়ায় আলোকিত করলেন ম্যাচের রাতকে। তবে গোল বা জয়ের চেয়ে বড় বিষয় ছিল বিদায়ের মুহূর্ত—আলবিসেলেস্তের সতীর্থরা যেন একসাথে মুগ্ধতার ঢেউয়ে ভেসে গেলেন মেসিকে ঘিরে।
লাউতারো মার্টিনেজ ম্যাচ শেষে আবেগঘন কণ্ঠে বললেন, ‘এটা এক অনন্য রাত, কারণ লিও আমাদের জন্য কী, তা ভাষায় প্রকাশ করা যায় না। শুধু ফুটবলার নন, তিনি প্রতিদিনের নেতৃত্ব, শিক্ষণীয় দৃষ্টান্ত এবং একজন অসাধারণ মানুষ।’
লাউতারো নিজেও গোল করেছেন, কিন্তু জোর দিয়ে বলেছেন—এই রাত শুধুই মেসির জন্য ইতিহাসে জায়গা করে নেবে।
জুলিয়ান আলভারেজ, যিনি ম্যাচে মেসিকে এক চমৎকার অ্যাসিস্ট দিয়েছেন, স্বীকার করেছেন—‘আমাদের জন্য লিওর সঙ্গে খেলা সত্যিই সৌভাগ্য। আমি শট নিতে পারতাম, কিন্তু তাকে এগোতে দেখে বল ছেড়ে দিলাম। এটাই স্বাভাবিক।’
ম্যাচ শেষে লিওনার্দো পারেদেস, আলভারেজসহ সতীর্থরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছবি শেয়ার করে মেসিকে শ্রদ্ধা জানালেন।
সবচেয়ে হৃদয়ছোঁয়া মন্তব্য এল রদ্রিগো ডি পলের মুখ থেকে—‘তিনি ২০ বছর ধরে এখানে ছিলেন, আর এখন শেষটা এসে পৌঁছাচ্ছে। জীবন এমনই। তবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো—তিনি সব দিয়েছেন, সব জিতেছেন, আর অসংখ্য মানুষকে আনন্দিত করেছেন।’
এদিকে আর্জেন্টাইন গণমাধ্যম টিওয়াইসি স্পোর্টস মেসির জন্য এক আবেগঘন ভিডিও প্রকাশ করেছিল ম্যাচের আগে। ভিডিও দেখে ডি মারিয়া পর্যন্ত চোখ ভিজিয়ে ফেলেন, মন্তব্যের জায়গায় রাখেন কান্নার ইমোজি। ম্যাচ শেষে ডি পল নিজের ইনস্টাগ্রাম স্টোরিতে মেসিকে আলিঙ্গন করার ছবি শেয়ার করেন।
২০ বছরের জাতীয় দলের পথচলার শেষ বাঁক ধীরে ধীরে কাছে আসছে। আর্জেন্টিনা জানে—যখনই মেসি বিদায় নেবেন, তখনও তারা গর্ব করে বলতে পারবে—
তিনি শুধু ট্রফি জেতেননি, পুরো জাতিকে ভালোবাসা, গর্ব আর অশ্রুর এক অনন্য উত্তরাধিকার দিয়েছেন।