শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬, ০৯:২৯ অপরাহ্ন
বাণিজ্যে ট্রাম্পের হুঁশিয়ারি: ভারতের শুল্ক নীতি কি নতুন সংঘাত ডেকে আনবে?
ভারতের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সুসম্পর্ক থাকলেও একটি বড় সমস্যা রয়েছে—ভারতের উচ্চ শুল্কনীতি। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এ বিষয়ে নতুন করে সতর্কবার্তা দিয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (২০ মার্চ) ব্রেইবার্ট নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, “আমি মনে করি, ভারত এই শুল্ক উল্লেখযোগ্যভাবে কমাবে। তবে ২ এপ্রিল থেকে আমরা তাদের ওপর সেই একই শুল্ক আরোপ করবো, যা তারা আমাদের পণ্য থেকে আদায় করে থাকে।”
বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্পের এই মন্তব্য ভারত-মার্কিন বাণিজ্যে নতুন উত্তেজনার সৃষ্টি করতে পারে। বিশেষ করে, ভারত যদি শুল্ক কমানোর পদক্ষেপ না নেয়, তবে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য সংঘাত আরও তীব্র হতে পারে।
ভারত-মধ্যপ্রাচ্য-ইউরোপ ইকোনমিক করিডোরকে ট্রাম্প ‘একটি চমৎকার গ্রুপ’ হিসেবে উল্লেখ করেন, যারা মার্কিন স্বার্থের বিপক্ষে কাজ করছে। তিনি বলেন, “আমাদের শক্তিশালী বাণিজ্যিক অংশীদার আছে, কিন্তু তাদের কাছ থেকে অন্যায্য আচরণ মেনে নেওয়া হবে না। এমনকি অনেক ক্ষেত্রে আমাদের শত্রুরা আমাদের বন্ধুদের চেয়ে ভালো আচরণ করে।”
ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) ও ভারতের প্রসঙ্গ টেনে ট্রাম্প বলেন, “যাদের আমরা মিত্র মনে করি, তারা বাণিজ্যে আমাদের সঙ্গে খুব খারাপ আচরণ করে। ভারতও তার ব্যতিক্রম নয়, তারা আমাদের পণ্যে উচ্চ শুল্ক আদায় করে।”
গত ৫ মার্চ ট্রাম্প ভারতসহ বিভিন্ন দেশের উচ্চ শুল্কনীতির সমালোচনা করে এটিকে ‘অন্যায্য’ বলে অভিহিত করেন এবং ২ এপ্রিল থেকে পারস্পরিক শুল্ক আরোপের ঘোষণা দেন। কংগ্রেসের যৌথ অধিবেশনে ভাষণে তিনি বলেন, “দশকের পর দশক ধরে আমাদের বিরুদ্ধে শুল্ক ব্যবহার করা হয়েছে। এখন আমাদের পালা। ইউরোপীয় ইউনিয়ন, চীন, ব্রাজিল, ভারত, মেক্সিকো এবং কানাডা—সবাই আমাদের পণ্যে উচ্চ শুল্ক ধার্য করে। ভারত আমাদের গাড়িতে ১০০ শতাংশের বেশি শুল্ক বসায়, যা অত্যন্ত অন্যায্য।”
বিশ্ব বাণিজ্যে এই শুল্ক যুদ্ধ কী প্রভাব ফেলবে? আগামী মাসগুলোতে এ নিয়ে উত্তেজনা আরও বাড়তে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
সূত্র: হিন্দুস্তান টাইমস, এডিটিভি