বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬, ০৯:৪১ অপরাহ্ন
রমজান এলেই ডায়াবেটিসে আক্রান্ত অনেকের মনে একটাই প্রশ্ন ঘোরে—‘ডাক্তার, আমি কি রোজা রাখতে পারব?’ এর সহজ উত্তর—অনেক ক্ষেত্রেই পারবেন। সঠিক প্রস্তুতি, নিয়মিত রক্তে গ্লুকোজ পর্যবেক্ষণ এবং চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে চললে ডায়াবেটিস নিয়েও নিরাপদে সিয়াম পালন সম্ভব।
সবাই সমানভাবে পারবেন না। যাদের ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে আছে এবং যারা খাদ্যাভ্যাস ও ওষুধ যথাযথভাবে মেনে চলেন, তারা সাধারণত রোজা রাখতে সক্ষম হন।
তবে যাদের টাইপ-১ ডায়াবেটিস, ইনসুলিননির্ভর অবস্থা, ঘনঘন হাইপোগ্লাইসেমিয়া বা হাইপারগ্লাইসেমিয়া হয়, কিংবা কিডনি, হৃদরোগসহ জটিলতা রয়েছে—তাদের জন্য রোজা রাখা ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। তাই রমজান শুরু হওয়ার আগে অবশ্যই চিকিৎসকের সঙ্গে পরামর্শ করা জরুরি।
অবশ্যই যাবে। আঙুলে সূচ ফোটিয়ে রক্তে সুগার পরীক্ষা করলে রোজা নষ্ট হয় না—এটি নিরাপদ ও অনুমোদিত পদ্ধতি।
রোজার সময় নিয়মিত গ্লুকোজ মনিটরিং অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ দীর্ঘ সময় না খেয়ে থাকলে হঠাৎ সুগার কমে বা বেড়ে যেতে পারে।
নিচের যেকোনো লক্ষণ দেখা দিলে দেরি না করে রোজা ভাঙা উচিত—
ইসলামে অসুস্থ ব্যক্তির জন্য রোজা স্থগিত রাখার অনুমতি রয়েছে। তাই নিজের শারীরিক অবস্থাকে গুরুত্ব দিন।
অনেক ক্ষেত্রে প্রয়োজন হতে পারে। কারণ রমজানে খাবারের সময়সূচি ও পরিমাণে পরিবর্তন আসে। কিছু ওষুধ—বিশেষ করে সালফোনাইলইউরিয়া ও ইনসুলিন—হাইপোগ্লাইসেমিয়ার ঝুঁকি বাড়াতে পারে।
তবে কখনোই নিজের সিদ্ধান্তে ডোজ পরিবর্তন করবেন না। অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে ওষুধের সময় ও মাত্রা ঠিক করুন।
সাহরিতে এমন খাবার বেছে নিন যা ধীরে হজম হয় এবং দীর্ঘ সময় শক্তি জোগায়। যেমন—লাল আটার রুটি, ওটস, ডাল, ডিম, শাকসবজি।
এ ধরনের খাবার রক্তে সুগার স্থিতিশীল রাখতে সহায়তা করে। অতিরিক্ত তেল-ভাজা ও মিষ্টিজাতীয় খাবার এড়িয়ে চলাই ভালো। পাশাপাশি পর্যাপ্ত পানি পান করা প্রয়োজন।
খেজুর ও পানি দিয়ে ইফতার শুরু করা সুন্নত ও স্বাস্থ্যসম্মত। এরপর হালকা খাবার গ্রহণ করে কিছুটা বিরতি দিন। একসঙ্গে বেশি খেলে হঠাৎ রক্তে সুগার বেড়ে যেতে পারে।
ভাজাপোড়া, অতিরিক্ত মিষ্টি শরবত ও কোমলপানীয় সীমিত রাখুন।
হালকা শারীরিক ব্যায়াম করা যেতে পারে। তবে বিকেলের দিকে বা রোজার শেষভাগে ভারী ব্যায়াম এড়িয়ে চলা ভালো, কারণ তখন হাইপোগ্লাইসেমিয়ার ঝুঁকি বেশি থাকে।
ইফতারের পর হালকা হাঁটা বা তারাবির নামাজ শরীরের জন্য উপকারী বিকল্প হতে পারে।
ডায়াবেটিস থাকলেই রোজা রাখা যাবে না—এ ধারণা সঠিক নয়। সঠিক পরিকল্পনা, সচেতনতা এবং চিকিৎসকের দিকনির্দেশনা মেনে চললে অধিকাংশ ডায়াবেটিস রোগীই নিরাপদে রোজা পালন করতে পারেন।
বাকি ভরসা আল্লাহর ওপর।