বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬, ১১:৪৬ অপরাহ্ন
শিলপাটায় নয় শুধু স্বাদ, লুকিয়ে আছে স্বাস্থ্য আর শক্তি!
অনলাইন ডেস্ক
যেখানে একসময় সকালে রান্নার প্রস্তুতি মানেই ছিল শিলপাটায় মসলা বাটা, এখন তা অনেকের কাছেই শুধুই অতীত। শহুরে ব্যস্ত জীবনে তার জায়গা দখল করে নিয়েছে ঝটপট মিক্সচার গ্রাইন্ডার। সময় বাঁচে, শ্রম কমে—এটাই এখন প্রধান বিবেচনা। কিন্তু স্বাদ আর স্বাস্থ্যের নিরিখে শিলপাটা যে এখনো সবার ওপরে, সে কথা জানাচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।
সম্প্রতি গণমাধ্যম-এ প্রকাশিত এক বিশেষ প্রতিবেদনে পুষ্টিবিদ ও ডায়েটিশিয়ানদের উদ্ধৃতি দিয়ে বলা হয়েছে, শিলপাটায় বাটার মসলা ও চাটনি শুধু স্বাদেই নয়, বরং স্বাস্থ্য উপকারিতার দিক থেকেও মিক্সচারের চেয়ে অনেক বেশি কার্যকর।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শিলপাটায় ধীরে ধীরে ঘর্ষণের ফলে মসলার প্রাকৃতিক গন্ধ, রঙ ও পুষ্টিগুণ অক্ষত থাকে। বিপরীতে, মিক্সচারের উচ্চ গতি ও তাপ উৎপন্ন করে মসলার ভেতরের প্রোটিন ও ভিটামিনের মান কমিয়ে দেয়। আরও মজার বিষয় হলো, শিলপাটায় মসলা বাটার সময় যে ঘ্রাণ ছড়ায়, তা সরাসরি নাকে ঢুকে হাইপোথ্যালামাসকে উদ্দীপ্ত করে ক্ষুধা বাড়ায়। যাদের খাবারে অনীহা রয়েছে, এটি তাদের জন্য কার্যকর হতে পারে।
শুধু তাই নয়, শিলপাটায় নিয়মিত মসলা বাটলে হাত, পিঠ ও কোমরের কিছুটা শারীরিক ব্যায়াম হয়, যা পেট ও উরুর ফ্যাট কমাতে ভূমিকা রাখে। অনেকটা ঘরোয়া ব্যায়ামের মতোই কাজ করে এই প্রাচীন পদ্ধতি।
যদিও মিক্সচার গ্রাইন্ডার ব্যবহার সময় বাঁচায় এবং কাজকে সহজ করে, তবে বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ হলো—সপ্তাহে অন্তত একদিন শিলপাটা ব্যবহার করুন। এতে শুধু খাবারের স্বাদই নয়, শারীরিক সুস্থতাও বাড়বে।
শুধু আধুনিকতার পেছনে ছুটলেই হবে না, বরং আমাদের ঐতিহ্যবাহী রন্ধন প্রক্রিয়ার কিছু উপকরণ এখনো আমাদের শরীর ও মনের জন্য অনেক বেশি উপযোগী। গণমাধ্যম-এর তথ্য অনুযায়ী, বহু ডায়েটিশিয়ান মনে করেন, শিলপাটার মতো ঐতিহ্যবাহী উপাদান প্রযুক্তির যুগেও টিকে থাকার মতো গুণাবলি বহন করে।
রান্না শুধু পেট ভরানো নয়, বরং তা হয়ে উঠতে পারে সুস্থ থাকার মাধ্যম। তাই আধুনিক প্রযুক্তির সঙ্গে সঙ্গে ঐতিহ্যের হাতও শক্ত করে ধরে রাখতে হবে। শিলপাটা যেন রান্নাঘরের এক কোণায় পড়ে না থাকে, বরং সপ্তাহে অন্তত একবার তা ব্যবহার করে শরীরকে উপহার দিন কিছু স্বাস্থ্যকর মুহূর্ত।