শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬, ০৯:৪২ অপরাহ্ন
গ্যাং-মাদক-খুন, তিন শহরে নিরাপত্তা এখন স্রেফ কাগজে!
অনলাইন ডেস্ক
ঢাকা, চট্টগ্রাম ও খুলনা—দেশের তিন বৃহত্তম শহর যেন এখন অপরাধের গোপন সদর দফতর। একসময় নির্দিষ্ট কিছু এলাকায় সীমাবদ্ধ থাকলেও বর্তমানে পুরো শহরজুড়েই চলছে অপরাধের দাপট।
ঢাকা
ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) পরিসংখ্যান বলছে, ২০২৫ সালের প্রথম ছয় মাসে ৭ হাজার ৮২৭টি অপরাধের মামলা রেকর্ড হয়েছে, যা আগের বছরের তুলনায় ১৮ শতাংশ বেশি। সদরঘাট, মুগদা, যাত্রাবাড়ী, রূপনগর, মোহাম্মদপুর, বাড্ডা, রামপুরা ও মিরপুর এখন রীতিমতো অপরাধের হটস্পট।
অপরাধ বিশ্লেষক ড. তৌহিদুল ইসলাম গণমাধ্যমকে বলেন, “অভিযান চালিয়ে অপরাধ ঠেকানো যাবে না, কমিউনিটি পুলিশিং ও তরুণদের গঠনমূলক ব্যস্ততায় আনতে হবে।”
মোহাম্মদপুরে ‘কিলার বাদল’ ও ‘লাল লাল্লু’ নামে কুখ্যাতদের নেতৃত্বে চলছে অপরাধ সাম্রাজ্য। বাদলের অধীনে কিশোর গ্যাং পরিচালিত হয়—যেখানে ঘাট বাবু, লম্বু মোশারফ, চাপাতি কাইয়ুমের মতো ভয়ংকর নাম জড়িত। বসিলার গরুর হাটে বাদলের ক্যাডারদেরই নিয়োগ দেওয়া হয়েছে নিরাপত্তার নামে।
১৮ মে চাপাতি কাইয়ুম ব্যবসায়ী আবু আলেমকে কুপিয়ে জখম করে। ২৭ মে একই এলাকায় ব্যবসায়ী সাব্বিরের ওপর হামলা চালানো হয়। মামলা করার সাহস পাচ্ছেন না কেউই।
মিরপুরে শাহাদত ও মুক্তারের গ্যাং, নজু, লালন, মনার হাতে চলছে সন্ত্রাস। শনিবার মিরপুর ১১-এর বড় মসজিদের সামনে চাঁদা না দেওয়ায় ব্যবসায়ীদের মারধর করা হয়।
চট্টগ্রাম
এখানে অপরাধের মূল চিত্র—মাদক, কিশোর গ্যাং, ফুটপাত দখল ও চাঁদাবাজি। চলতি বছরে কমপক্ষে ১২০টি হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। ইয়াবা ও আইস সর্বত্র ছড়িয়ে পড়েছে।
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্রিমিনোলজি বিভাগের চেয়ারম্যান মৌমিতা পাল গণমাধ্যমকে বলেন, “অপরাধ বাড়ছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিষ্ক্রিয়তা ও রাজনৈতিক ছত্রছায়ায়।” তিনি বিনোদন, কর্মসংস্থান ও রাজনৈতিক আশ্রয় বন্ধের পরামর্শ দেন।
খুলনা
একসময় চরমপন্থিদের ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত খুলনায় এখন খুন হচ্ছে প্রকাশ্য দিবালোকে। গত ১০ মাসে ২৭টি হত্যাকাণ্ডের মধ্যে ৮টি হয়েছে আধিপত্য নিয়ে দ্বন্দ্বে।
২৭ জুন রূপসার রাজাপুরে মাদক ভাগাভাগির জেরে গুলি করে হত্যা করা হয় সাব্বিরকে। ১১ জুলাই যুবদল নেতা মাহবুবুর রহমানকে কুপিয়ে ও গুলি করে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা।
২৩ জানুয়ারি ময়লাপোতায় সাদিকুরকে গুলি করে মারা হয়। পুলিশ জানিয়েছে, অধিকাংশ খুনের পেছনে রয়েছে মাদক বাণিজ্য ও চরমপন্থি দ্বন্দ্ব।
১৬ মার্চ চরমপন্থি নেতা শাহীনুল হক শাহীন এবং ৯ জানুয়ারি কক্সবাজারে সাবেক কাউন্সিলর গোলাম রব্বানী টিপু খুন হন। দুজনেই হুজি শহীদ হত্যা মামলার আসামি ছিলেন।
খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার আবু রায়হান মুহাম্মদ সালেহ গণমাধ্যমকে বলেন, “আমাদের মনোবল ভেঙে পড়েছিল, এখন তা ফিরে এসেছে। আগের চেয়ে বেশি সক্রিয় আমরা।”
এই তিন শহরে অপরাধের করাল ছায়া এখন প্রতিটি বাসিন্দার নিরাপত্তাকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে। সতর্ক না হলে পুরো দেশই একদিন হয়ে উঠবে অপরাধের রাজধানী!