শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬, ০৯:৪১ অপরাহ্ন
গ্রাম্য শত্রুতা, নারীর জীবনে নেমে এলো ভয়ঙ্কর বিভীষিকা
অনলাইন ডেস্ক
কুমিল্লার মুরাদনগরে এক নারীকে ধর্ষণ, নির্যাতন ও বিবস্ত্র করে সেই দৃশ্য ভিডিও ধারণ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার ভয়ঙ্কর ঘটনার অন্যতম পরিকল্পনাকারী শাহ পরানকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)। শুক্রবার (৪ জুলাই) রাজধানীর কারওয়ান বাজারে র্যাব মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে র্যাব জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার (৩ জুলাই) রাতে কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলায় গোপন অভিযানে তাকে আটক করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে র্যাব জানায়, পূর্বের ব্যক্তিগত শত্রুতার জের ধরেই এই নৃশংস ও মানবিকতার সীমা অতিক্রম করা অপরাধ সংঘটিত হয়। দুই ভাই শাহ পরান ও ফজর আলী দীর্ঘদিন ধরে ভুক্তভোগী নারীকে নানা উপায়ে হয়রানি করছিল।
র্যাবের ভাষ্যমতে, দুই মাস আগে ফজর আলী ও শাহ পরানের মধ্যে পারিবারিক বিরোধ নিয়ে তর্ক-বিতর্ক এবং হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। গ্রাম্য সালিশে প্রকাশ্যে বড় ভাই ফজর আলী, ছোট ভাই শাহ পরানকে চড়-থাপ্পড় মারেন। এই অপমানের প্রতিশোধ নিতেই শাহ পরান পরিকল্পনা আঁটে। এর কিছুদিন পর ভুক্তভোগী নারীর মা ফজর আলীর কাছ থেকে ৫০ হাজার টাকা সুদের ওপর ধার নেন। সেই টাকা তুলতে ফজর আলী প্রায়ই তাদের বাড়িতে যেতেন, আর এ সুযোগকেই শাহ পরান প্রতিশোধের অস্ত্র হিসেবে বেছে নেয়।
র্যাব জানায়, ঘটনার দিন সন্ধ্যায় মেয়েটির বাবা-মা সনাতন ধর্মাবলম্বীদের মেলা দেখতে বের হন। সেই সুযোগে ফজর আলী সুদের টাকা চাইবার অজুহাতে ভুক্তভোগীর ঘরে ঢোকেন। কিছুক্ষণ পর ওঁতপেতে থাকা শাহ পরান, আবুল কালাম, অনিক, আরিফ, সুমন, রমজানসহ অজ্ঞাতনামা আরও ৮-১০ জন ঘরে হানা দিয়ে নারীকে নির্মমভাবে নির্যাতন করে। এ সময় অশ্লীল ভিডিওচিত্র ধারণ করে ছড়িয়ে দেয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে।
ঘটনার পর শাহ পরানসহ অভিযুক্তরা সবাই আত্মগোপন করে। র্যাব জানিয়েছে, তাদের ধরতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে গণমাধ্যমকে জানানো হয়েছে।