রবিবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬, ০৪:১০ পূর্বাহ্ন
ইসরায়েল আঘাত করেছে, ইরান বলছে—এবার চরম মূল্য চুকাতে হবে!
অনলাইন ডেস্ক
ইসরায়েলকে চরম মূল্য দিতে হবে বলে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আবুলফাজল শেখারচি।
শুক্রবার (১৩ জুন) ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা ইরনার বরাতে এ প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে গণমাধ্যম আলজাজিরা।
ব্রিগেডিয়ার শেখারচি বলেন, “ইসরায়েল সরাসরি ইরানের ভূখণ্ডে হামলা চালিয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে আবাসিক ভবনসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা। এই বর্বর হামলার যথাযথ জবাব দেবে ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরান।” তিনি আরও অভিযোগ করেন, “এই হামলায় যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি মদত দিয়েছে।”
ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, গত রাতের ইসরায়েলি বিমান হামলায় ইসলামি রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (IRGC)-এর কমান্ডার ইন চিফ জেনারেল হোসেইন সালামিসহ কয়েকজন শীর্ষ পরমাণু বিজ্ঞানী নিহত হয়েছেন।
রাষ্ট্রায়ত্ত টেলিভিশনের দাবি, ইসরায়েলি ক্ষেপণাস্ত্রে তেহরানে অবস্থিত বিপ্লবী গার্ড সদর দপ্তর আংশিক ধ্বংস হয়েছে। স্থানীয় গণমাধ্যমগুলোর মতে, বিস্ফোরণের পর শহরের বিভিন্ন এলাকায় আগুন ও ধোঁয়ার কুণ্ডলী দেখা গেছে।
টাইমস অব ইসরায়েলকে দেওয়া এক বিবৃতিতে দেশটির সেনাবাহিনী জানায়, ‘নেশন অব লায়ন্স’ নামের একটি গোপন বিমান অভিযানের মাধ্যমে ইরানের পরমাণু কর্মসূচিকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে। এই অভিযান ছিল তাৎক্ষণিক হুমকি মোকাবিলার জন্য গৃহীত জরুরি পদক্ষেপ।
ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বলেন, “ইরানের পরমাণু স্থাপনা, ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটি ও সামরিক অবকাঠামোতে হামলা চালানো হয়েছে। আমাদের লক্ষ্য পূরণ না হওয়া পর্যন্ত অভিযান চলবে।”
এই ঘটনার পর ইসরায়েলজুড়ে ‘বিশেষ জরুরি অবস্থা’ ঘোষণা করেছে নেতানিয়াহুর সরকার। বেসামরিক নাগরিকদের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা থেকে সুরক্ষার লক্ষ্যে এই আগাম প্রতিরোধমূলক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে জানায় প্রশাসন।
ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম নূর নিউজ জানিয়েছে, তেহরান এবং পার্শ্ববর্তী এলাকায় একাধিক শক্তিশালী বিস্ফোরণের শব্দ পাওয়া গেছে। পরিস্থিতির গুরুত্ব উপলব্ধি করে ইরান সর্বোচ্চ সতর্কতায় তার বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় করেছে এবং ইমাম খোমেনি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের সব ফ্লাইট বাতিল করেছে।
প্রেস টিভির খবরে বলা হয়, হামলায় বহু হতাহত হয়েছে। যদিও নির্দিষ্ট সংখ্যা প্রকাশ করা হয়নি। অন্যদিকে, এক ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা কর্মকর্তার উদ্ধৃতি দিয়ে দাবি করা হয়েছে, হামলায় ইরানের শীর্ষ পর্যায়ের কয়েকজন পরমাণু বিজ্ঞানী প্রাণ হারিয়েছেন।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, এই অভিযানে যুক্তরাষ্ট্র কোনোভাবেই জড়িত নয়। তিনি বলেন, “মধ্যপ্রাচ্যে মোতায়েন মার্কিন সেনাদের নিরাপত্তাই আমাদের প্রথম অগ্রাধিকার। কিন্তু আমাদের স্বার্থ বা সেনাবাহিনীর ওপর হামলা চালালে এর ফল ভয়ানক হবে।”
উল্লেখযোগ্যভাবে, হামলার দুদিন আগেই ইরানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী আজিজ নাসিরজাদেহ হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছিলেন, “পারমাণবিক আলোচনা ভেঙে পড়লে এবং যুদ্ধ শুরু হলে প্রথম হামলা হবে মধ্যপ্রাচ্যের মার্কিন ঘাঁটিগুলোতে। প্রয়োজনে সেগুলো ধ্বংসে সরাসরি অভিযান চালানো হবে।”