শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬, ০৭:৫৬ অপরাহ্ন
ক্ষমতার মাঝপথে কি বিদায় নিচ্ছেন অধ্যাপক ইউনূস?
অনলাইন ডেস্ক
দেশের চলমান অস্থিরতা ও ব্যর্থতা ঘিরে গভীর হতাশা থেকে পদত্যাগের ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ও নোবেলজয়ী অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস। তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন—এই রাজনৈতিক অচলাবস্থায় দায়িত্ব পালন কার্যত অসম্ভব হয়ে উঠেছে। যদি তিনি কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন আনতে না পারেন, তবে পদে থাকার অর্থহীনতা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন।
এই ঘটনাকে ঘিরে মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউইয়র্ক টাইমস এক বিশেষ প্রতিবেদনে শিরোনাম করেছে, ‘নির্বাচনের ঘূর্ণিতে অধ্যাপক ইউনূসের পদত্যাগের ইঙ্গিত’।
প্রতিবেদনে বলা হয়, শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর শিক্ষার্থীদের নেতৃত্বে যে নতুন গণতান্ত্রিক স্বপ্নের সূচনা হয়েছিল, তা ড. ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী প্রশাসনের ব্যর্থতায় মুখ থুবড়ে পড়েছে বলে সাধারণ মানুষের মধ্যে ধারণা তৈরি হয়েছে। নির্বাচন পেছাতে থাকায়, নতুন নেতৃত্ব নিয়ে রাজনীতিতে হতাশার সুর ঘনিয়ে উঠেছে।
বিশ্বজুড়ে সম্মানিত এই নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদকে প্রথমদিকে দেশের একটি নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠানের প্রতীক হিসেবে দেখা হচ্ছিল। কিন্তু এখন রাজনৈতিক বিভাজন ও সামরিক চাপের মুখে তিনি নিজেকে প্রায় একঘরে অবস্থানে দেখতে পাচ্ছেন।
ঘনিষ্ঠ সূত্রগুলো জানিয়েছে, দেশের সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক শক্তি ও সেনাবাহিনীর একাংশের সঙ্গে তাঁর দূরত্ব ক্রমেই বাড়ছে। তাদের অভিযোগ, ড. ইউনূস নির্বাচন আয়োজনের ক্ষেত্রে অত্যন্ত ধীরগতি ও অস্থিরতা প্রদর্শন করছেন।
গত বৃহস্পতিবার এক ঘরোয়া উপদেষ্টা বৈঠকে ড. ইউনূস সরাসরি বলেন, যদি রাজনৈতিক ঐকমত্য ও সেনা সহায়তা না পান, তবে দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়াতে বাধ্য হবেন। এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানান, তিনি ইতোমধ্যে তার পদত্যাগপত্রের খসড়াও প্রস্তুত রেখেছেন। যদিও পরবর্তীতে অন্যান্য উপদেষ্টারা তাকে বোঝান যে, তার পদত্যাগ দেশের জন্য এখন মারাত্মক অস্থিতিশীলতা ডেকে আনবে।
নিউইয়র্ক টাইমসের তথ্যমতে, সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামানের ‘এই বছরই নির্বাচন হওয়া উচিত’—এই বক্তব্য ড. ইউনূসকে মানসিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। তিনি মনে করছেন, একাধিক রাজনৈতিক গোষ্ঠী ও সেনাবাহিনীর কিছু অংশ তাঁর নেতৃত্বকে ইচ্ছাকৃতভাবে প্রশ্নবিদ্ধ করতে চাইছে।
ড. ইউনূস অবশ্য আগেই বলেছিলেন, ২০২৬ সালের জুনের আগে একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের পরিবেশ তৈরি হওয়া কঠিন। তবে তিনি কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা তখনো দেননি।
এদিকে, বিএনপি’র দাবি—দেশের ভবিষ্যৎ নির্ধারণে জনগণের সরাসরি ম্যান্ডেট এখন সময়ের দাবি। আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ হওয়ায় বিএনপি এখন নিজেকে শাসনক্ষমতার জন্য প্রস্তুত মনে করছে।
বৃহস্পতিবারের ওই বৈঠকে ড. ইউনূস খোলাখুলি বলেন, রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে সম্প্রীতির অভাব, রাস্তা অবরোধ, সংস্কার পরিকল্পনায় স্থবিরতা এবং বিভিন্ন দপ্তরের অসহযোগিতার কারণে তিনি কার্যত পঙ্গু হয়ে পড়েছেন। তার হতাশা ফুটে ওঠে একবাক্যে: ‘আমি থাকলে কী হবে—যদি কোনো সংস্কারই না হয়?’
সেদিন সন্ধ্যায় তাঁর যমুনা বাসভবনে সাক্ষাৎ করেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। পরে গণমাধ্যমকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, “ড. ইউনূস পদত্যাগের বিষয়ে অত্যন্ত গভীরভাবে চিন্তা করছেন।”
এই রাজনৈতিক নাটকের ভবিষ্যৎ এখন সময়ের অপেক্ষা—থাকবেন, না বিদায় জানাবেন অধ্যাপক ইউনূস?