রবিবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬, ০৪:০৬ পূর্বাহ্ন
অনলাইন ডেস্ক,
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সাবেক প্রতিমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বলেছেন, সিরাজগঞ্জের বিএনপির নেতাকর্মীরা কখনও রাজপথ ছাড়েনি, ভয় পায়নি, পিছু হটেনি। আন্দোলনের সময় যারা রাজপথে ছিল, তারা আজও অবিচল আছে।
বৃহস্পতিবার (২ অক্টোবর) দুপুরে সিরাজগঞ্জ শহরের রেলগেট এলাকায় আয়োজিত বিএনপির ১, ১০, ১১, ১২, ১৩, ১৪ ও ১৫ নম্বর ওয়ার্ডের মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
টুকু বলেন, “আমি যখন প্রবাসে ছিলাম, তখন দলের সাধারণ সম্পাদক সাইদুর রহমান বাচ্চু সকাল থেকে আন্দোলনের ছক তৈরি করে প্রতিদিন মাঠে নেমেছেন। আপনারা জানেন, সিরাজগঞ্জ বিএনপির সভাপতি একজন নারী—তাকে গুলি করে, লাঠিপেটা করে, ভয় দেখিয়ে দমন করা যায়নি। রাজপথ থেকে তিনি কাউকে ফেলে যাননি।”
তিনি আরও বলেন, “৫ আগস্টের পর যাদের আগে রাজপথে দেখা যায়নি, হঠাৎ তাদের উত্থান ঘটেছে। এরা সেই দল, যারা একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতা করেছিল, আলবদর-আলশামস গঠন করে বুদ্ধিজীবীদের হত্যা করেছিল। অথচ আজ তারা শহীদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধে গিয়ে রবীন্দ্রসংগীত গায়! এটি ভণ্ডামির চূড়ান্ত রূপ।”
সাবেক বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী বলেন, “গত ১৬ বছর আন্দোলনের মাঠে তারা ছিল না। বরং আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের ছত্রছায়ায় আশ্রয় নিয়েছিল। আমাদের ছাত্রদল যখনই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রবেশের চেষ্টা করেছে, তাদের ওপর হামলা চালানো হয়েছে, হাত-পা ভেঙে দেওয়া হয়েছে।”
তিনি বলেন, “এখন আবার ৫ আগস্টের পর তারা তাদের পুরনো চেহারা নিয়ে ফিরেছে। এভাবে ছলনা করে নির্বাচনে জেতা ও সরকার গঠনের স্বপ্ন তারা দেখছে। কারণ তারা আন্দোলনের পর বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে, বিশ্ববিদ্যালয় থেকে শুরু করে কলেজের অধ্যক্ষের পদেও নিজেদের লোক বসিয়েছে।”
টুকু বলেন, “এখন একদল নেমেছে, যাদের আমাদের চেয়ারম্যান ‘অদৃশ্য ফ্যাসিবাদ’ বলেছেন। যারা একসময় পাকিস্তানের সহচর ছিল, বুদ্ধিজীবীদের রক্তে হাত রাঙিয়েছে—আজ তারা ইতিহাস বিকৃত করে বলছে, ভারত নাকি ভুল বোঝাবুঝি তৈরি করে বাংলাদেশকে পাকিস্তান থেকে আলাদা করেছে! কিন্তু তারা ভুলে গেছে, পাকিস্তান নামক রাষ্ট্রের মৃত্যু বহু আগেই হয়েছে।”
তিনি আরও বলেন, “১৯৫৮ সালে ইসলামিক রিপাবলিক অব পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার পর ইসলামকে ব্যবহার করে বাঙালিকে শোষণ শুরু হয়। পূর্ববাংলার সম্পদ নিয়ে গড়ে তোলা হয় পশ্চিম পাকিস্তান। তখনই বাঙালি বুঝেছিল—তেলে আর জলে মিলবে না। তাই ১৯৭০ সালের নির্বাচনে শেখ মুজিবুর রহমানকে সর্বাত্মক সমর্থন দিয়েছিল মানুষ।”
টুকু বলেন, “আপনারা যারা আজ নতুন বয়ান দেন—ভারত আমাদের ভুল বুঝিয়ে মুক্তিযুদ্ধ করিয়েছে—তারা ভুলে যান না যে, তখন আপনারাই মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতা করেছিলেন। আপনাদের চরিত্র কখনও জনগণের পাশে ছিল না। এমনকি আবুল আ’লা মওদুদীও তখন পাকিস্তানের বিরোধিতা করেছিলেন।”
সভায় সভাপতিত্ব করেন জেলা বিএনপির সহসভাপতি সেলিম ভূঁইয়া, সঞ্চালনা করেন যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মুন্সী জাহেদ আলম। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সাইদুর রহমান বাচ্চু। আরও বক্তব্য রাখেন জেলা বিএনপির সহসভাপতি নাজমুল হাসান তালুকদার রানা, যুবদলের সাধারণ সম্পাদক মুরাদুজ্জামান মুরাদ এবং স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক আব্দুল্লাহ আল কায়েস প্রমুখ।