রবিবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬, ০৯:২৭ পূর্বাহ্ন
মোহাম্মদ কেফায়েত উল্লাহ, খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি
মা-মেয়ের গলাকাটা মরদেহ উদ্ধারের ৬ দিন পর হত্যাকাণ্ডে জড়িত সাইফুলকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। জমিজমা সংক্রান্ত পারিবারিক বিরোধের জেরে খাগড়াছড়ির রামগড়ে জোড়া খুনের এ ঘটনা ঘটেছে বলে পুলিশের ভাষ্যে জানা যায়। আজ (২৮ আগস্ট) খাগড়াছড়ি পুলিশ সুপার মো. আরেফিন জুয়েল প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান।
পুলিশ সুপার আরেফিন জুয়েল প্রেস ব্রিফিংয়ে জানান,প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তারকৃত সাইফুল হত্যাকাণ্ডের কথা স্বীকার করেছে। দীর্ঘদিন ধরে পরিবার নিয়ে ভবঘুরে অবস্থায় অস্বচ্ছলভাবে জীবন যাপন করছিল সে। স্থায়ীভাবে বসবাসের জন্য জায়গা ও টাকা পয়সা চাইলে তার দাদি ও ফুফু তাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে। এতে সে ক্ষিপ্ত হয়ে ২১ আগস্ট রাত ১২টার দিকে ঘুমন্ত অবস্থায় দাদি আমেনা বেগম (৯৫) ও ফুফু (৪২) রাহেনা আক্তারকে ধারালো দা দিয়ে গলাকেটে হত্যার পর পালিয়ে যায়। পালিয়ে যাওয়ার সময় রাহেনার মোবাইল ফোনটি নিয়ে যায় সে।
আরেফিন জুয়েল জানান, সাইফুল ফুফুর মোবাইল ফোনটি চট্টগ্রাম জেলার ভূজপুর থানাধীন দাতমারা ইউনিয়নের ইসলামপুর বাজারের নূরুল আলম নামে এক দোকানির কাছে ৪০০ টাকায় বিক্রি করে। পুলিশ বিশেষ তথ্য প্রযুক্তি ব্যবহার করে মোবাইল ফোনটি নূরুল আলমের কাছ থেকে উদ্ধার করে। এ মোবাইল ফোনের সূত্র ধরে আসামি শনাক্তের পর তথ্য প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে সাইফুলকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশ সুপার আরও জানান, আসামি শনাক্ত হওয়ার পর থেকে তাকে গ্রেপ্তারে পুলিশ দফায় দফায় অভিযান চালায়। কিন্তু সে বার বার স্থান বদলে ফেলছিল। এ কারণে তাকে গ্রেপ্তারে বেগ পেতে হয়। সবশেষে বুধবার রাতে ছাগলনাইয়ার ঘোপাল এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। আসামিকে আরও জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ৭ দিনের রিমান্ডের আবেদন জানানো হয়েছে আদালতে।
উল্লেখ্য, গেলো বৃহস্পতিবার সকালের দিকে রামগড় পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের পূর্ব বাগানটিলা এলাকায় নিজঘর থেকে আমেনা বেগম নামের এক বৃদ্ধা ও তার মেয়ে রাহেনা বেগমের গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার হয়। আমেনা বেগম উল্লেখিত এলাকার মৃত মীর হোসেনের স্ত্রী।
স্থানীয় বাসিন্দাদেরসূত্রে জানা যায়, আমেনা বেগমের পাঁচ ছেলে ও দুই মেয়ে। ছেলেদের মধ্যে দুজন প্রবাসী।একজন ফেনীর ছাগলনাইয়া ও একজন ঢাকায় থাকেন। এলাকায় আলাদা ঘরে থাকেন আবুল বশর নামের এক ছেলে। তিনি কৃষিকাজ করেন। আমেনার মেয়েদের মধ্যে রাহেনা বেগম মায়ের সঙ্গে বাবার বাড়িতে বসবাস করেন। রাহেনার স্বামী ওমান প্রবাসী। পারিবারিক সম্পত্তি জমিজমা নিয়ে আমেনা বেগমের ছেলে-মেয়েদের মধ্যে বেশ কিছুদিন ধরে বিরোধ চলে আসছে।