বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬, ১০:৪২ অপরাহ্ন
বাজার ভরে উঠেছে মৌসুমী বাহারি শীতকালীন সবজিতে, কিন্তু দাম সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার বাইরে। বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে, ৬০ থেকে ৮০ টাকার কমে কোনো সবজি পাওয়া যাচ্ছে না। এমন পরিস্থিতিতে ক্রেতাদের ভোগান্তি বাড়ছে।
শুক্রবার (২৯ নভেম্বর) রাজধানীর কারওয়ান বাজার, নয়াবাজার ও রামপুরা বাজারসহ বিভিন্ন বাজারে গিয়ে দেখা যায়, শীতকালীন টাটকা সবজির পসরা ভরে উঠেছে। বাঁধাকপি, ফুলকপি, বেগুন, সিম, লাউসহ বিভিন্ন সবজি প্রচুর পরিমাণে থাকলেও ক্রেতাদের উপস্থিতি তেমন চোখে পড়েনি।
ব্যবসায়ীদের দাবি, গত সপ্তাহের তুলনায় মুলা, শিম, বেগুনসহ কিছু সবজির দাম ১০ থেকে ২০ টাকা পর্যন্ত কমেছে। তারা আশা করছেন, শীতের তীব্রতা আরও বাড়লে দাম আরো কমে আসবে।
বর্তমানে শিম প্রতি কেজি ৮০ টাকায়, মুলা ৫০ টাকায়, শালগম ৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। দেশি টমেটো ২০০, আমদানি করা টমেটো ১৫০, কাঁচামরিচ ১২০ থেকে ১৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। গোল বেগুন ১০০ ও লম্বা বেগুন ৮০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে। অন্যদিকে পেঁপে ৫০, গাজর ১৫০, করলা ৮০ থেকে ১০০ টাকায় এবং ফুলকপি ও বাঁধাকপি ৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
নিউমার্কেটে বাজার করতে আসা ক্রেতা শাহরিয়ার জানান, দীর্ঘ এক মাস ধরে বেশিরভাগ সবজির দাম ৬০ থেকে ১০০ টাকার মধ্যে থাকলেও কয়েকটি বাদে সবজির দাম এখনো অনেক বেশি।
অন্যদিকে, ইলিশের বাজারে অস্থিরতা দেখা গেছে। এক কেজি ওজনের ইলিশ ২২০০ টাকায়, দেড় কেজির ইলিশ ৩০০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ছোট আকারের ইলিশ ৮০০ থেকে ১০০০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে। অন্যান্য মাছের দামও বেড়েছে। রুই ৩৮০-৪৫০, কাতল ৪০০-৪৮০, চাষের শিং ৫৫০, তেলাপিয়া ১৮০-২২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। দেশি কৈ ১৩০০-১৭০০ এবং নদীর পাঙাশ ৯০০-১২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
মুরগির বাজারেও কিছুটা পরিবর্তন এসেছে। ব্রয়লার মুরগির দাম কেজি প্রতি ১৭৫-১৯০ টাকা এবং সোনালি মুরগি ২৯০-৩০০ টাকায় নেমেছে। দেশি মুরগি ৫৫০-৬০০ টাকা ও হাঁস ৫৫০-৬০০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে।
মুরগি ব্যবসায়ীরা জানান, বাজারে সরবরাহ বেড়েছে বলে কিছু মুরগির দাম কমেছে। তবে বিয়ের মৌসুম শুরু হওয়ায় চাহিদা বাড়লে দাম আবার বাড়তে পারে।
চিনি ও ডিমের বাজারে শুল্ক ছাড়ের প্রভাব পড়েছে। বর্তমানে ডজন প্রতি ডিম ১৪৫ টাকায় এবং খোলা চিনি ১২০-১২৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। প্যাকেটজাত চিনি ১৩০-১৩৫ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে।
পেঁয়াজের দামও কিছুটা কমেছে। দেশি পেঁয়াজ প্রতি কেজি ১২৫ এবং ভারতীয় পেঁয়াজ ১০০-১১০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। নতুন আলু বাজারে এলেও দাম ১০০-১২০ টাকা ধরে রাখা হয়েছে।
চালের বাজারে নতুন পাইজাম ও আটাশ চাল আসতে শুরু করলেও পর্যাপ্ত সরবরাহ না থাকায় আগের দামে বিক্রি হচ্ছে।
নিত্যপণ্যের বাজারে ক্রেতারা নিয়মিত বাজার মনিটরিংয়ের দাবি জানিয়েছেন। ক্রেতারা মনে করেন, সঠিক নজরদারি না থাকায় ব্যবসায়ীরা সুযোগ নিচ্ছেন। বিক্রেতারাও স্বীকার করেছেন, অসাধু ব্যবসায়ীদের কারণে বাজারের স্থিতিশীলতা নষ্ট হচ্ছে। বাজারে নিয়মিত অভিযান চালালে এই সমস্যা সমাধান হতে পারে।