বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬, ০৯:৩৬ অপরাহ্ন
চুপচাপ ভাঙছে পুরুষের মন—তারা মুখ খুলবে কবে?
অনলাইন ডেস্ক
মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে সচেতনতা বাড়লেও আলোচনায় পুরুষদের মানসিক অবস্থা প্রায়ই হারিয়ে যায়। বাস্তবতা হলো—পুরুষেরাও প্রচণ্ড মানসিক যন্ত্রনায় ভোগেন, কিন্তু সেটা মুখ ফুটে বলেন না, সাহায্য চাওয়াও হয়ে ওঠে না।
আজকের এই লেখায় আমরা জানব—পুরুষদের মানসিক স্বাস্থ্য কেন আলাদা, কী কী উপসর্গ দেখা দেয়, সাহায্য চাওয়ার উপায় এবং প্রতিরোধের কৌশল।
নারীদের তুলনায় পুরুষদের মানসিক সমস্যা ধরা পড়ে কম, তবে আত্মহত্যার হার তাদের মধ্যে প্রায় ৩.৫ গুণ বেশি। কারণ, তারা নীরবে ভোগে এবং প্রয়োজনে ভয়ংকর পথও বেছে নেয়।
“ছেলে কাঁদে না”, “সব নিজেই সামলাতে হবে”—এই বার্তা শিশুকাল থেকেই মাথায় গেঁথে দেওয়া হয়। ফলে দুর্বলতা, কান্না কিংবা সাহায্য চাওয়াকে অপমান মনে করেন বহু পুরুষ।
এক জরিপে দেখা গেছে, মানসিক সমস্যায় আক্রান্ত প্রতি তিনজন পুরুষের মধ্যে মাত্র একজন নিয়মিত ওষুধ খান। চারজনে মাত্র একজন চিকিৎসকের পরামর্শ নেন।
এসব লক্ষণ উপেক্ষা না করে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়াই শ্রেয়।
গবেষণায় উঠে এসেছে—নিম্নোক্ত পুরুষরা মানসিক বিপর্যয়ের ঝুঁকিতে বেশি:
বিষণ্নতা (ডিপ্রেশন):
মেজাজ খারাপ, শক্তি হারিয়ে ফেলা, আগ্রহের অভাব—এসব চিহ্নিত করেও চিকিৎসা নেন না অনেক পুরুষ। তাই আত্মহত্যার আশঙ্কা বেশি।
দুশ্চিন্তা (অ্যাংজাইটি):
অকারণ ভয়, উদ্বেগ ও অস্থিরতা। পুরুষরা এসব লুকিয়ে রাখেন, ফলে সমস্যা গভীর হয়।
স্কিজোফ্রেনিয়া:
বাস্তবতা থেকে বিচ্যুতি, অদ্ভুত চিন্তা বা কল্পনার দুনিয়ায় ডুবে যাওয়া। আক্রান্তদের ৯০ শতাংশই পুরুষ, বয়স সাধারণত ৩০-এর নিচে।
PTSD (পোস্ট-ট্রমাটিক স্ট্রেস ডিজঅর্ডার):
ভয়ংকর স্মৃতি ভুলতে না পারা, দুঃস্বপ্ন, ঘুমের সমস্যা—যুদ্ধফেরত, দুর্ঘটনার শিকার বা নির্যাতিত পুরুষদের মধ্যে বেশি দেখা যায়।
মাদক ও অ্যালকোহল নির্ভরতা:
পুরুষরা নারীদের তুলনায় বেশি মাদক গ্রহণ করেন। শুধু অ্যালকোহল সংক্রান্ত কারণে প্রতি বছর মারা যান প্রায় ৬৮ হাজার পুরুষ।
থেরাপি বা কাউন্সেলিং:
একজন অভিজ্ঞ থেরাপিস্টের সঙ্গে নিয়মিত কথা বললে মানসিক চাপ হ্রাস পায়, সমস্যা চিহ্নিত ও সমাধান করা যায়।
ওষুধ:
মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞের পরামর্শ অনুযায়ী ডিপ্রেশন বা অ্যাংজাইটির ওষুধ সেবন করলে উপকার মেলে। থেরাপির সঙ্গে ওষুধ কার্যকর হয়।
জীবনযাপনে পরিবর্তন আনুন:
সাপোর্ট গ্রুপ:
একই অভিজ্ঞতাসম্পন্ন ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলা মানসিকভাবে অনেক শক্তি দেয়।
আপনার প্রিয় কোনো পুরুষ যদি এমন সমস্যায় ভোগেন, আপনি করতে পারেন:
পুরুষের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে কথা বলার সময় এখনই। তারা সাহায্য চাইতে লজ্জা পায়, সমাজের কঠিন কাঠামো তাদের বাধা দেয়। কিন্তু সচেতনতা, ভালোবাসা ও সঠিক সহায়তার মাধ্যমে তারা ফিরতে পারেন স্বাভাবিক জীবনে।
আপনার আশপাশের কোনো পুরুষ যদি চুপচাপ থাকে, ভেতরে ভেঙে পড়ে—তাকে কথা বলতে দিন, পাশে থাকুন। আপনি হতে পারেন তার জীবনের সবচেয়ে বড় সহায়।