শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬, ০৩:৪৩ অপরাহ্ন
ঠান্ডা পানি—বন্ধু না শত্রু? চিকিৎসা বিজ্ঞান যা বলছে!
অনলাইন ডেস্ক
প্রচণ্ড গরমে তৃষ্ণা মেটাতে অনেকেই ঠান্ডা পানি খেতে পছন্দ করেন। কিন্তু এই অভ্যাস শরীরের জন্য আদৌ ভালো কি না, তা নিয়ে মানুষের মনে রয়েছে নানান দ্বিধা। কেউ বলেন, ঠান্ডা পানি গলা ব্যথার কারণ, কেউ আবার মনে করেন এটি হজমে বাধা দেয়। কিন্তু চিকিৎসা বিজ্ঞান কী বলছে? গণমাধ্যম-এ প্রকাশিত একটি স্বাস্থ্যবিষয়ক বিশ্লেষণী প্রতিবেদনে উঠে এসেছে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য।
চলুন জানা যাক বিস্তারিত—
অনেকেই বিশ্বাস করেন, ঠান্ডা পানি খেলে পাকস্থলীর পেশিগুলো সংকুচিত হয়ে হজম প্রক্রিয়ায় সমস্যা হয়। যদিও বিজ্ঞানভিত্তিক প্রমাণ খুব একটা শক্ত নয়, তারপরও যাদের হজমে সমস্যা রয়েছে, তাদের জন্য ঠান্ডা পানি এড়িয়ে চলাই ভালো।
একটি ১৯৭৮ সালের গবেষণায় দেখা গেছে, ঠান্ডা পানি নাকের শ্লেষ্মাকে ঘন করে তোলে এবং তা সহজে বের হতে পারে না। ফলে ঠান্ডা বা ফ্লু থাকলে ঠান্ডা পানি খেলে সমস্যা আরও বাড়তে পারে।
মাইগ্রেনে ভোগা ব্যক্তিদের জন্য ঠান্ডা পানি হতে পারে বাড়তি যন্ত্রণার কারণ। গবেষণায় প্রমাণ মিলেছে, ঠান্ডা পানি তাদের মাথাব্যথা বাড়িয়ে দিতে পারে।
২০১২ সালের একটি গবেষণায় বলা হয়, গিলতে সমস্যা হয় এমন রোগীদের—বিশেষ করে যারা আক্যালেসিয়ায় ভুগছেন, তাদের জন্য ঠান্ডা পানি হতে পারে অস্বস্তির উৎস। গলার ব্যথা ও অস্বস্তি বাড়তে পারে।
তবে সব দিকেই যেমন নেতিবাচকতা নেই, তেমনি ঠান্ডা পানির উপকারিতাও কম নয়। গণমাধ্যম-এর তথ্যমতে—
২০১২ সালের এক গবেষণায় দেখা গেছে, ওয়ার্কআউটের সময় ঠান্ডা পানি পান করলে শরীরের অতিরিক্ত তাপমাত্রা কমে এবং ক্লান্তি কম হয়। এর ফলে শরীরচর্চা আরও প্রাণবন্ত হয়।
শরীর তার স্বাভাবিক তাপমাত্রা বজায় রাখতে ঠান্ডা পানি হজম করতে গিয়ে কিছুটা অতিরিক্ত ক্যালোরি খরচ করে ফেলে। যদিও এটি খুব বেশি নয়, তবুও ক্যালোরি খরচের ছোট্ট একটা দিক বলা যায়।
ঠান্ডা পানি চিনিযুক্ত পানীয়ের তুলনায় অনেক স্বাস্থ্যকর। এটি অতিরিক্ত ক্যালোরি গ্রহণ এড়িয়ে চলতে সাহায্য করে এবং শরীরকে হাইড্রেট রাখে।
গরম পানি পানের কিছু সুবিধা রয়েছে যেমন:
কিন্তু সমস্যা হলো, গরম পানি তৃষ্ণা কমিয়ে দিতে পারে। এতে শরীর পর্যাপ্ত পানি না পাওয়ায় ডিহাইড্রেশনের ঝুঁকি বাড়তে পারে—বিশেষ করে প্রচণ্ড গরমের সময়।
গণমাধ্যম জানায়, পানি গরম হোক বা ঠান্ডা, প্রধান লক্ষ্য হওয়া উচিত শরীরকে হাইড্রেট রাখা। তবে কার শরীর কেমন, আবহাওয়া কেমন—তা বিবেচনায় এনে সিদ্ধান্ত নেওয়াই শ্রেয়। যাদের ঠান্ডা-কাশি, হজম সমস্যা বা মাইগ্রেন আছে, তারা ঠান্ডা পানি এড়িয়ে চলুন। আর যাদের গরমে ঘেমে একাকার অবস্থা, তাদের জন্য ঠান্ডা পানি যেন পরম আরাম।