সোমবার, ২৭ জুলাই ২০২৬, ০২:০৯ অপরাহ্ন
মেসি মাঠের বাইরে, বিশ্বকাপ বাছাইয়ে আর্জেন্টিনার ঘাম ছুটছে!
অনলাইন ডেস্ক
আর্জেন্টিনার হয়ে এক মাস আগে ফেরার পর আবারও ইনজুরির মুখে পড়েছেন লিওনেল মেসি। ইন্টার মায়ামির হয়ে খেলতে নেমে ডান পায়ের হ্যামস্ট্রিংয়ে টান পেয়েছেন এই ফুটবল জাদুকর। যদিও ক্লাব কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, চোট গুরুতর নয়; তবে তাতে স্বস্তির জায়গা নেই। কারণ, বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে মেসির খেলা অনিশ্চিত।
গত শনিবার লিগস কাপের ম্যাচে মেক্সিকান ক্লাব নেকাক্সার বিপক্ষে মাত্র ১০ মিনিট মাঠে ছিলেন মেসি। এরপরই অস্বস্তি নিয়ে মাঠ ছেড়ে যান। ইন্টার মায়ামির পক্ষ থেকে জানানো হয়, হ্যামস্ট্রিংয়ে মৃদু চোট পেয়েছেন তিনি। তবে কবে নাগাদ মাঠে ফিরবেন, সেই নির্দিষ্ট দিনক্ষণ এখনো জানা যায়নি।
চোট শুধু ক্লাব পর্যায়েই নয়, জাতীয় দল আর্জেন্টিনার কাছেও চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। কারণ সামনেই দক্ষিণ আমেরিকা বিশ্বকাপ বাছাইয়ের শেষ দুটি ম্যাচে অংশ নেবে আলবিসেলেস্তে। আগামী ৪ সেপ্টেম্বর নিজেদের মাঠ বুয়েনাস আয়ার্সে ভেনেজুয়েলার বিপক্ষে এবং ৯ সেপ্টেম্বর ইকুয়েডরের মাঠে খেলবে তারা। যদিও আর্জেন্টিনা ইতোমধ্যেই ২০২৬ বিশ্বকাপে জায়গা করে নিয়েছে, তবুও মেসির উপস্থিতি মানেই ভিন্ন মাত্রা।
ক্লাব সূত্র মতে, এই ইনজুরির কারণে মেসি ইন্টার মায়ামির পরবর্তী পাঁচটি ম্যাচে অংশ নিতে পারবেন না। এই ম্যাচগুলো হলো—
৬ আগস্ট পুমাসের বিপক্ষে,
১০ আগস্ট অরল্যান্ডো সিটির বিপক্ষে,
১৬ আগস্ট এলএ গ্যালাক্সির বিপক্ষে,
২৩ আগস্ট ডিসি ইউনাইটেডের বিপক্ষে এবং
৩০ আগস্ট শিকাগো ফায়ারের বিপক্ষে।
ফলে সেপ্টেম্বরের আন্তর্জাতিক ম্যাচগুলোতে ফিট থাকা মেসির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠবে।
মেসির চোটের খবর ছড়িয়ে পড়ার সঙ্গে সঙ্গে গণমাধ্যম, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও ফুটবলভক্তদের মধ্যে ব্যাপক আলোড়ন তৈরি হয়েছে। অনেকে মনে করছেন, বয়সের সঙ্গে সঙ্গে ইনজুরি যেন মেসিকে ছাড়ছেই না। গত বছর মার্চেও তিনি একই হ্যামস্ট্রিং চোটে ভুগেছিলেন। এরপর কোপা আমেরিকার ফাইনালে লিগামেন্টে ব্যথা পান, যা অস্ত্রোপচার ছাড়াই সারানো হলেও দীর্ঘ সময় মাঠের বাইরে থাকতে হয়েছিল তাকে। এছাড়া বাঁ পায়ের অ্যাডাক্টর সমস্যা তাকে গত মার্চে ব্রাজিল ও উরুগুয়ের বিপক্ষে ম্যাচে খেলতে দেয়নি।
বর্তমানে ইন্টার মায়ামি মেসিকে নিয়ে কোনো ঝুঁকি নিতে চায় না। ক্লাব চায়, তিনি পুরোপুরি সুস্থ হয়ে মাঠে ফিরুন। একইভাবে আর্জেন্টিনা জাতীয় দলও চাইছে, ২০২৬ বিশ্বকাপকে সামনে রেখে মেসিকে সম্পূর্ণ ফিট রাখার জন্য এখনই অতিরিক্ত চাপ না দেওয়া হোক।
সব মিলিয়ে বলা যায়, চোটের এই ধাক্কা থেকে মেসি কত দ্রুত ও সফলভাবে ফিরে আসেন, সেটাই এখন ফুটবলবিশ্বের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু।