সোমবার, ২৭ জুলাই ২০২৬, ০২:০৯ অপরাহ্ন
ফুটবল মহারণে আবার মুখোমুখি ইউরো চ্যাম্পিয়ন বনাম বিশ্বচ্যাম্পিয়ন!
অনলাইন ডেস্ক
বিশ্বসেরা হওয়ার কীর্তি তাদের ঝুলিতে আগেই এসেছে—স্পেন এখন বিশ্বচ্যাম্পিয়ন। তবে ইউরো চূড়ান্ত মঞ্চে আজই প্রথমবার। আর প্রতিপক্ষ ইংল্যান্ড—বর্তমান ইউরো চ্যাম্পিয়ন, যারা গত বিশ্বকাপ ফাইনালে এই স্পেনের কাছেই স্বপ্নভঙ্গের যন্ত্রণা বয়ে এনেছিল। আজ রোববার সুইজারল্যান্ডের বাসেলের সেন্ট জ্যাকব পার্কে রচিত হতে যাচ্ছে নারী ফুটবলের আরেকটি রোমাঞ্চকর অধ্যায়।
বাংলাদেশ সময় রাত ১০টায় মাঠে গড়াবে শিরোপার দ্বৈরথ—একদম ২০২৩ সালের নারী বিশ্বকাপ ফাইনালের রি-ম্যাচ। সেই ফাইনালেই ইংল্যান্ডকে কাঁদিয়ে ইতিহাস গড়েছিল স্প্যানিশ রাণিরা। এবার কি প্রতিশোধের সুবর্ণ সুযোগ কাজে লাগাতে পারবে ইংল্যান্ড?
উয়েফা উইমেন্স নেশন্স লিগে চলতি বছরে দুবার দেখা হয়েছিল দুই দলের। ফেব্রুয়ারিতে ওয়েম্বলিতে জেস পার্কের একমাত্র গোলে জয় তুলে নেয় ইংল্যান্ড। জুনে বার্সেলোনায় রুসোর গোলে এগিয়ে থেকেও ক্লদিয়া পিনার জোড়ায় হার মেনে নিতে হয় তাদের। ওই জয়ের সুবাদেই ইংলিশদের ফেলে ফাইনালে উঠে শেষমেশ চ্যাম্পিয়ন হয় স্পেন। আজ তাদের সামনে ট্রেবল জয়ের হাতছানি—বিশ্বকাপ, নেশন্স লিগ ও ইউরোর মুকুট জয়ের ঐতিহাসিক সম্ভাবনা।
ইউরোতে এটিই স্পেন-ইংল্যান্ডের চতুর্থ দেখা। ২০১৩ সালে গ্রুপ পর্বে স্পেন জিতেছিল ৩-২ গোলে। ২০১৭ সালের আসরে ২-০ ব্যবধানে জিতেছিল ইংল্যান্ড। ২০২২ সালে অতিরিক্ত সময়ে ঘাম ঝরিয়ে ২-১ গোলে জয়ী হয়েছিল ইংলিশ লায়নেসরা। ফলে ইউরো পরিসংখ্যানে কিছুটা এগিয়ে ইংল্যান্ড হলেও সাম্প্রতিক ধারায় স্পেন দারুণ ফর্মে। টানা ১০ ম্যাচে জয় নিয়ে তারা নামছে ফাইনালে। সর্বশেষ হার? হ্যাঁ, সেটাও ইংল্যান্ডের কাছে—ফেব্রুয়ারির ওই ম্যাচে।
ইংল্যান্ড কোচ সারিনা ওয়েগম্যান বলেছেন, “ফাইনাল মানেই স্বপ্নের জায়গা। প্রতিযোগিতায় অসংখ্য দল নামে, কিন্তু শেষ হাসি হাসে মাত্র দুটি। এই সুযোগকে আমি সম্মান করি এবং ইংল্যান্ডের হয়ে আরেকটি ফাইনালে দাঁড়াতে পারাটা আমার গর্বের।”
অন্যদিকে স্পেন কোচ মন্টসেরাট তোমে বলছেন, “আমরা যা করি, তা ভালোবেসেই করি। দল হিসেবে আমাদের দক্ষতা এখন সেরা অর্জনের দিকেই নিয়ে যাচ্ছে।”
অপটা সুপার কম্পিউটার ভবিষ্যদ্বাণী করছে, স্পেনের জয়ের সম্ভাবনা ৫১.৫ শতাংশ, ইংল্যান্ডের ৪৮.৫ শতাংশ। জার্মানি ও নরওয়ের পর ইংল্যান্ডই হতে পারে ইউরোপের তৃতীয় দল, যারা টানা তিনটি বড় আসরের ফাইনালে খেলছে—বিশ্বকাপ, ইউরো ও আবার বিশ্বমঞ্চ।