রবিবার, ০৮ মার্চ ২০২৬, ১১:২৬ অপরাহ্ন
সোমবার (৩ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১০টা থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য সরকারি তিতুমীর কলেজ ‘শাটডাউন’ ঘোষণা করেছে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা। তারা স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিয়েছেন—এই আন্দোলন আর শিথিল হবে না, এবার চূড়ান্ত পদক্ষেপই নেওয়া হবে। একইসঙ্গে সকাল ১১টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত টানা ‘ব্যারিকেড’ কর্মসূচি পালনের ঘোষণাও দেওয়া হয়েছে, যা ক্যাম্পাসে উত্তেজনার পারদ বাড়িয়ে দিয়েছে।
রবিবার (২ ফেব্রুয়ারি) রাত ১১টায় কলেজের মূল ফটকের সামনে আয়োজিত এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষার্থীরা তাদের দাবির পক্ষে একগুঁয়ে অবস্থান স্পষ্ট করেন। তারা বলেন, “আগে আমরা বারবার আশ্বাস পেয়ে আন্দোলন শিথিল করেছি, কিন্তু এবার তা হবে না। যতদিন আমাদের দাবি মানা না হবে, ততদিন কলেজ প্রশাসনিক কার্যক্রম স্থগিত থাকবে, ক্যাম্পাসে প্রবেশ নিষিদ্ধ থাকবে, এবং একপ্রকার সম্পূর্ণ শাটডাউন চলবে।”
অনশনরত শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে তিন দফা দাবি উপস্থাপন করা হয়। তাদের দাবিগুলো হলো:
১. সরকারি তিতুমীর কলেজকে রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি দিয়ে পূর্ণাঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তর করতে হবে।
২. শিক্ষা উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদের ‘বিশেষ সুবিধা দেওয়ার সুযোগ নেই’ মন্তব্য প্রত্যাহার করতে হবে।
৩. আইন উপদেষ্টাকে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে ক্ষমা চাইতে হবে।
এর আগে সন্ধ্যা ৬টা নাগাদ ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে ‘বারাসাত ব্যারিকেড টু নর্থ সিটি’ নামে এক দুর্দান্ত অবরোধ কর্মসূচি শুরু করেন শিক্ষার্থীরা। এই অবরোধে পুরো সড়ক থমকে যায়, জনসাধারণ ও যাত্রীদের দুর্ভোগের মুখে পড়তে হয়। দুই ঘণ্টা পর রাত ৮টার দিকে তারা অবরোধ তুলে নিয়ে মিছিল করতে করতে ক্যাম্পাসে ফিরে যান।
আন্দোলনের সূত্রপাত হয় শিক্ষা উপদেষ্টা ড. ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদের এক বিতর্কিত মন্তব্যকে ঘিরে, যেখানে তিনি বলেন, ‘তিতুমীর কলেজকে বিশেষ কোনও সুবিধা দেওয়ার সুযোগ নেই।’ এই মন্তব্য আগুনে ঘি ঢেলে দেয়, এবং মুহূর্তেই ক্ষোভে ফেটে পড়ে শিক্ষার্থীরা। তারা একত্র হয়ে স্লোগানে স্লোগানে উত্তাল করে তোলে পুরো ক্যাম্পাস এবং মুহূর্তের মধ্যেই অবরোধ কর্মসূচি শুরু করে।
এই ঘটনার জেরে কলেজের স্বাভাবিক কার্যক্রম কার্যত অচল হয়ে পড়েছে। সাধারণ শিক্ষার্থীরা বলছেন, এবার তারা দাবি আদায়ের আগেই মাঠ ছাড়বেন না। তাদের কথায়, “যত দফায় আমাদের দাবিগুলোকে উপেক্ষা করা হয়েছে, এবার ততবার কঠোর প্রতিক্রিয়া জানানো হবে। এবার আমরা লড়বো, পিছু হটবো না!”
সরকারি তিতুমীর কলেজের সাম্প্রতিক আন্দোলন যে এক নতুন মোড় নিয়েছে, তা বলার অপেক্ষা রাখে না। প্রশাসনের সামনে এখন এক বড় চ্যালেঞ্জ—শিক্ষার্থীদের দাবি মেনে নেওয়া নাকি কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া? উত্তাল পরিস্থিতির পরিণতি কী হবে, তা এখন সময়ই বলে দেবে!