বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬, ০৭:০৩ অপরাহ্ন
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) ও সাত কলেজের মধ্যে চলমান উত্তেজনা অবশেষে খানিকটা প্রশমিত হয়েছে। শিক্ষার্থীরা ধীরে ধীরে নিজেদের হলে ফিরে যেতে শুরু করেছেন। তবে কিছু শিক্ষার্থী এখনও ক্যাম্পাসের বিভিন্ন স্থানে বিচ্ছিন্নভাবে জটলা করে রয়েছেন। উত্তপ্ত পরিস্থিতির প্রভাব কাটাতে সোমবার (২৭ জানুয়ারি) ঢাবির সব ক্লাস ও পরীক্ষা স্থগিত ঘোষণা করা হয়েছে। এ তথ্য বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ দপ্তর থেকে প্রকাশিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়।
এ উত্তেজনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ঢাবির উপ-উপাচার্য ড. মামুন আহমেদ। অভিযোগ উঠেছে, তিনি ঢাকা কলেজের একদল শিক্ষার্থীর সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করেছেন। এর জেরে ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা উপ-উপাচার্যের বাসভবন ঘেরাওয়ের ঘোষণা দিয়ে ঢাবি অভিমুখে যাত্রা শুরু করেন। পরিস্থিতি আঁচ করতে পেরে ঢাবির শিক্ষার্থীরাও মুক্তি ও গণতন্ত্র তোরণের সামনে লাঠিসোটা হাতে অবস্থান নেন। উত্তেজনা আরও বাড়তে থাকলে পুলিশ তোরণের একটি রাস্তা ব্যারিকেড দিয়ে আটকে দেয়।
ঢাকা কলেজের শিক্ষার্থীরা তোরণের বাইরে অবস্থান নিয়ে স্লোগান দিতে থাকেন। তাদের দাবিতে উপ-উপাচার্যের প্রকাশ্যে ক্ষমা চাওয়ার আহ্বান ছিল স্পষ্ট। অন্যদিকে, ঢাবির শিক্ষার্থীরা ১০০ মিটারের মধ্যেই অবস্থান নিয়ে পাল্টা স্লোগান দিতে থাকেন। সমন্বয়কারীরা পরিস্থিতি শান্ত করতে চেষ্টা করলেও দুই পক্ষের উত্তেজনা থামেনি। একপর্যায়ে ঢাবির শিক্ষার্থীরা মানবপ্রাচীর ভেঙে ঢাকা কলেজের শিক্ষার্থীদের দিকে তেড়ে যান। পাল্টা ধাওয়ার মুখে ঢাকা কলেজের শিক্ষার্থীরা নীলক্ষেত ছাড়িয়ে নিউমার্কেটের দিকে চলে যান। কিছুক্ষণ পর তারা ফিরে এসে ঢাবির শিক্ষার্থীদের ধাওয়া করেন।
এ সময় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ প্রথমে সাউন্ড গ্রেনেড, পরে টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে। গভীর রাতে পরিস্থিতি আরও জটিল হলে নীলক্ষেত ও নিউমার্কেট এলাকায় পুলিশের সহায়তায় চার প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন করা হয়। দুই পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া এবং ইট-পাটকেল নিক্ষেপের ঘটনায় নীলক্ষেত মোড় ও সায়েন্সল্যাব এলাকায় যান চলাচল পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়। ফলে যানবাহনগুলো বিকল্প পথ বেছে নিতে বাধ্য হয়।
অন্যদিকে, রাত ১২টার দিকে ইডেন মহিলা কলেজের শিক্ষার্থীরাও রাস্তায় নেমে আসেন। তারা ঢাবির বিরুদ্ধে স্লোগান দিয়ে উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে তোলেন। তাদের নীলক্ষেত মোড়ে যাওয়ার চেষ্টায় সমন্বয়ক আব্দুল কাদের, হাসিব আল ইসলাম এবং ঢাবি ছাত্রদলের নেতা সাকিব বিশ্বাসসহ কয়েকজন শিক্ষার্থী শান্ত করার চেষ্টা চালান।
ঢাবির সহকারী প্রক্টর রফিকুল ইসলামসহ প্রক্টরিয়াল বডির সদস্যরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে হিমশিম খেয়েছেন। অবশেষে পুলিশ ও প্রশাসনের হস্তক্ষেপে রাত গভীর হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে উত্তেজনা কিছুটা প্রশমিত হয়।
আজ (২৭ জানুয়ারি) সাত কলেজের অধ্যক্ষদের সঙ্গে একটি জরুরি সভা অনুষ্ঠিত হবে। এই সভায় শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন সমস্যার সমাধান খোঁজা হবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন ঢাবি প্রশাসনের এক কর্মকর্তা।