সোমবার, ০৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০৮:৩৫ অপরাহ্ন
শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ—শাকসু নির্বাচন আগামী ২০ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। দীর্ঘ সময় পর শিক্ষার্থীদের বহুল প্রত্যাশিত এই নির্বাচনকে ঘিরে ক্যাম্পাসে তৈরি হয়েছিল উৎসবের আবহ। কিন্তু শেষ মুহূর্তে এসে শাকসু নির্বাচন নিয়ে দেখা দিয়েছে চরম অনিশ্চয়তা।
সোমবার (১২ জানুয়ারি) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে নির্বাচন কমিশন (ইসি) আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত দেশের সব ধরনের নির্বাচন স্থগিত রাখার ঘোষণা দেয়। এর প্রভাব পড়েছে শাকসু নির্বাচনেও। নির্ধারিত তারিখে ভোটগ্রহণ হবে কি না—এ নিয়ে শিক্ষার্থী ও প্রার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ ও শঙ্কা বাড়ছে।
এর প্রতিবাদে সোমবার রাতভর বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ করেন ছাত্রদল, ছাত্রশিবির ও সাধারণ শিক্ষার্থীরা। আন্দোলনকারীরা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে সিদ্ধান্ত জানাতে মঙ্গলবার বিকেল ৫টা পর্যন্ত সময়সীমা বেঁধে দেন। এদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য আজ ঢাকায় নির্বাচন কমিশন কার্যালয়ে গিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করবেন বলে জানা গেছে।
শাকসু নির্বাচন নিয়ে প্রশাসন ও নির্বাচন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় রয়েছে পুরো ক্যাম্পাস। শিক্ষার্থীদের প্রত্যাশা, দ্রুত এই অনিশ্চয়তা দূর করে একটি স্পষ্ট ঘোষণা আসবে।
এ বিষয়ে শিবির সমর্থিত ‘দুর্বার সাস্টিয়ান ঐক্য’ প্যানেলের সাধারণ সম্পাদক পদপ্রার্থী মুজাহিদুল ইসলাম বলেন, ‘প্রতিনিধিত্ব পাওয়া আমাদের মৌলিক অধিকার। জাতীয় নির্বাচনের অজুহাতে দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে থাকা ছাত্র সংসদ নির্বাচন আবার বন্ধ করার চেষ্টা আমরা মানি না। প্রশাসনকে অবশ্যই সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করতে হবে, নইলে আন্দোলন চলবে।’
স্বতন্ত্র ভিপি প্রার্থী মমিনুর রশিদ শুভ বলেন, ‘৫ আগস্টের পর থেকেই আমরা শাকসুর দাবিতে আন্দোলন করছি। দীর্ঘ সময় প্রচারণা চালিয়েছি। ইসির স্থগিতাদেশে এখন সবাই অনিশ্চয়তায় ভুগছে। আমরা চাই, শাকসু নির্বাচনে কোনো ধরনের বাধা না থাকুক।’
এ বিষয়ে প্রধান নির্বাচন কমিশনার অধ্যাপক ড. আবুল মুকিত মোহাম্মদ মুকাদ্দেছ বলেন, ‘১২ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ছাত্র সংসদসহ সব নির্বাচন স্থগিত রয়েছে। তবে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো চিঠি পাইনি। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে কথা বলে সিদ্ধান্ত জানানো হবে।’
এদিকে মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় ঢাকায় প্রধান নির্বাচন কমিশন কার্যালয়ে প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিনসহ সকল কমিশনারের সঙ্গে শাকসু নির্বাচন নিয়ে বৈঠক করেন শাবিপ্রবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ এম সরওয়ারউদ্দিন চৌধুরী।
বৈঠক শেষে বিশ্ববিদ্যালয়ের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে জানানো হয়, আলোচনা অনুযায়ী আগামী ২০ জানুয়ারি শাকসু নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার আশ্বাস পাওয়া গেছে।
তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের আগে প্রশাসনিক ভবনের সামনে আন্দোলন চালিয়ে যান শিক্ষার্থীরা। তাঁদের বক্তব্য, আশ্বাস নয়—প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে নিশ্চিত সিদ্ধান্ত চাই।
এ সময় উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. সাজেদুল করিম জানান, ‘ইসি থেকে বলা হয়েছে, প্রতিটি প্যানেলের প্রার্থীদের নির্বাচন বিষয়ে অঙ্গীকারনামা দিতে হবে, যা নির্বাচন কমিশনে পাঠানো হবে।’