বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬, ০৮:০৮ অপরাহ্ন
মোশারফ হোসেন, প্রকাশক, জনতার জাগরণ
২১ জুলাই ২০২৫। একদিন, যা শুধু ক্যালেন্ডারে লেখা থাকবে না—থাকবে হৃদয়ের গভীরে পোড়া দাগ হয়ে। রাজধানী ঢাকার উত্তরার মাইলস্টোন স্কুল ও কলেজে ঘটে যাওয়া সেই মর্মান্তিক বিমান দুর্ঘটনা যেন আমাদের আকাশেই আগুন জ্বালিয়ে দিলো। বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর একটি যুদ্ধবিমান প্রশিক্ষণ চলাকালীন বিধ্বস্ত হয়ে যখন কলেজ চত্বরে পড়ে, তখন বইয়ের পাতা, ইউনিফর্ম, স্বপ্ন আর জীবন—সব কিছুই আগুনে ভস্ম হয়ে গেল।
যেখানে তরুণ মন নিয়ে শিক্ষার্থীরা বসেছিল ক্লাসে, যেখানে কেউ ক্যান্টিনে হয়তো বন্ধুর অপেক্ষায় ছিল, যেখানে কেউ হয়তো জীবনের প্রথম কবিতাটা লিখছিল, সেখানে হঠাৎ আকাশ থেকে নেমে এলো আগুন। মুহূর্তেই সবকিছু ছিন্নভিন্ন হয়ে গেল। চারদিকে শুধু কান্না, আর্তনাদ আর পোড়া শরীরের গন্ধ। এমন দৃশ্য শুধু সিনেমায় দেখা যায়, কিন্তু আজ আমরা দেখলাম বাস্তবে।
প্রাথমিক তথ্যমতে, এই দুর্ঘটনায় বহু শিক্ষার্থী গুরুতর দগ্ধ হয়েছে, অনেকে প্রাণ হারিয়েছে। যারা বেঁচে আছে, তাদের চোখে এখনও জ্বলছে সেই আগুনের প্রতিচ্ছবি। ভাবুন তো, এক কিশোর মেয়ে, যে সকালে মায়ের আঁচলে মুখ লুকিয়ে কলেজে গিয়েছিল, এখন হাসপাতালের বিছানায় চুপ করে শুয়ে আছে, শরীরের চামড়া ঝরে যাচ্ছে—আর আমরা বলছি, “এটা একটা দুর্ঘটনা”?
না, আমরা কেবল দুঃখ প্রকাশ করতে আসিনি। আমরা প্রশ্ন করতে এসেছি। এই প্রশিক্ষণ ফ্লাইট কি এমন জনবহুল এলাকায় চলতে পারতো? কেন শিক্ষাঙ্গনের ওপর দিয়ে যুদ্ধবিমান উড়ছিল? একের পর এক দুর্ঘটনা ঘটে যায়, আর আমরা কেবল শোক সভা আর ফুল দিয়ে দায় সারি। এই দায় এড়ানো কি একদিন আমাদেরই ঘাড়ে এসে চেপে বসবে না?
আমরা হারিয়েছি শুধু কিছু ছাত্রছাত্রী নয়—হারিয়েছি সম্ভাবনা, স্বপ্ন, আগামী প্রজন্মের আলো। এই মৃত্যু শুধুই কোনো সংখ্যা নয়। এই ক্ষত শুধুই আগুনের দগদগে ছাপ নয়—এ এক জাতিগত ব্যর্থতা, এক বিবেকের পরাজয়।
আমরা চাই—এবার যেন সত্যিকার তদন্ত হয়। যেন দায়ীদের শনাক্ত করা হয়। যেন শুধু “সাবধানতা অবলম্বন করা হবে” বলে দায় এড়িয়ে না যাওয়া হয়। যেন এই শোক একদিন পরিবর্তনের অঙ্গীকার হয়ে দাঁড়ায়।
এই ঘটনায় আকাশ কেঁদেছে, মাটি শিউরে উঠেছে, মানুষ স্তব্ধ হয়ে গেছে। আমাদের শুধু প্রশ্ন নয়—আছে এক আকাশভরা আক্ষেপ।