সোমবার, ১৯ জানুয়ারী ২০২৬, ০৭:২৫ পূর্বাহ্ন
নিরবিচ্ছিন্ন সংঘাত এবং সহিংসতার প্রভাব ফিলিস্তিনের গাজার শিশুদের মনোজগতে গভীর ক্ষত সৃষ্টি করেছে।
এক সাম্প্রতিক গবেষণায় উঠে এসেছে, গাজা উপত্যকার ৯৬ শতাংশ শিশু মনে করে তাদের মৃত্যু অত্যন্ত নিকটবর্তী। এর মধ্যে বিশেষত ৭২ শতাংশ ছেলে শিশু স্বেচ্ছায় মৃত্যুর জন্য আকুল।
এই তথ্যগুলো গাজার শিশুদের মানসিক পরিস্থিতি ও যুদ্ধে তাদের ওপর আরোপিত অসহনীয় মানসিক আঘাতের বাস্তব চিত্র তুলে ধরে।
বুধবার (১১ ডিসেম্বর) ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানের একটি প্রতিবেদন থেকে জানা যায় যে, ‘ওয়ার চাইল্ড অ্যালায়েন্স’-এর সহায়তায় পরিচালিত এক গবেষণায় এই চিত্র উঠে এসেছে। এই গবেষণাটি গাজার একটি স্থানীয় এনজিওর উদ্যোগে সম্পন্ন হয়েছে, যেখানে ৫০৪টি পরিবারের শিশুদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল। তাদের মধ্যে প্রায় ৯২ শতাংশ শিশু জানায় তারা তাদের বর্তমান জীবন পরিস্থিতি মেনে নিতে পারছে না। গবেষণায় আরও প্রকাশিত হয়, ৭৯ শতাংশ শিশু রাতে দুঃস্বপ্ন দেখে এবং ৭৩ শতাংশ শিশু আক্রমণাত্মক আচরণে লিপ্ত।
এই ভয়াবহ চিত্র দেখে বিশেষজ্ঞরা অত্যন্ত উদ্বিগ্ন। তারা বলছেন, গাজার হাসপাতাল, স্কুল এবং বাড়িঘর ধ্বংসের পাশাপাশি শিশুদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব পড়েছে, যা তাদের দৈনন্দিন জীবনকে বিপর্যস্ত করে তুলেছে।
গবেষণায় আরও দেখা যায়, গাজার সংঘাতে নিহত ৪৪ হাজার ৮০৫ জনের মধ্যে ৪২ শতাংশই শিশু। এটি শিশুদের মানসিক অবস্থার অবনতিকে আরও গভীর করে তুলেছে। গাজার প্রায় ১.৯ মিলিয়ন বাস্তুচ্যুত মানুষের অর্ধেকই শিশু, যারা তাদের নিজেদের বাসস্থান এবং পরিচিত পরিবেশ থেকে পালিয়ে বাঁচতে বাধ্য হয়েছে।
এছাড়া, গবেষণায় দেখা গেছে ৬০ শতাংশ শিশু বোমা হামলার দৃশ্য প্রত্যক্ষ করেছে, প্রিয়জনদের হারিয়েছে, পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন হয়েছে এবং শারীরিক আঘাতে জর্জরিত।
বর্তমানে গাজার ১৭,০০০ শিশু পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন অবস্থায় একা জীবনযাপন করছে এবং তারা শোষণ, নির্যাতন ও মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘনের ঝুঁকিতে রয়েছে। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে জানিয়েছেন যে, এই পরিস্থিতি শিশুদের মানসিক স্বাস্থ্যে দীর্ঘস্থায়ী নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
‘ওয়ার চাইল্ড অ্যালায়েন্স’ এ পর্যন্ত ১৭,০০০ শিশুকে মানসিক স্বাস্থ্য সহায়তা দিয়েছে এবং ভবিষ্যতে এক মিলিয়ন শিশুকে এই সহায়তার আওতায় আনার লক্ষ্য স্থির করেছে। তারা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে যেন এই মানসিক বিপর্যয় ভবিষ্যৎ প্রজন্মের ওপর স্থায়ী প্রভাব না ফেলে।