শনিবার, ১৭ জানুয়ারী ২০২৬, ০৯:৩৯ পূর্বাহ্ন
ফিলিস্তিনের গাজায় ইসরাইলি নৃশংস হামলায় আরও ২৮ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। এর ফলে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪৩ হাজার ৭৫০ জনে। এছাড়া, গত বছরের অক্টোবর থেকে চলমান এই হামলায় আহত হয়েছেন আরও লক্ষাধিক ফিলিস্তিনি। শুক্রবার (১৫ নভেম্বর) বার্তাসংস্থা আনাদোলু এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, গাজা উপত্যকায় ইসরাইলের চলমান আক্রমণে কমপক্ষে আরও ২৮ জন ফিলিস্তিনি প্রাণ হারিয়েছেন। এতে করে গত বছরের অক্টোবর থেকে এ পর্যন্ত মোট মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৪৩ হাজার ৭৬৪ জনে পৌঁছেছে বলে শুক্রবার অবরুদ্ধ এই ভূখণ্ডের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে।
মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানায়, এই নিরলস হামলায় আরও অন্তত এক লাখ ৩ হাজার ৪৯০ জন মানুষ আহত হয়েছেন।
মন্ত্রণালয় আরও জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় ইসরাইলি বাহিনীর অব্যাহত আক্রমণে ২৮ জন নিহত এবং আরও ১২০ জন আহত হয়েছেন। বহু মানুষ এখনও ধ্বংসস্তূপের নিচে এবং রাস্তায় আটকা পড়ে রয়েছেন, কারণ উদ্ধারকারীরা তাদের কাছে পৌঁছাতে পারছেন না।
ফিলিস্তিনি স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের ধারণা, গাজা উপত্যকার ধ্বংসপ্রাপ্ত বাড়িগুলোর ধ্বংসস্তূপের নিচে এখনো ১০ হাজারেরও বেশি মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন। গাজায় অবিলম্বে যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানিয়ে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের প্রস্তাব সত্ত্বেও, ইসরাইল অবরুদ্ধ এই ভূখণ্ডে তার আক্রমণ অব্যাহত রেখেছে।
প্রসঙ্গত, গত ৭ অক্টোবর হামাসের নজিরবিহীন আন্তঃসীমান্ত হামলার পর থেকে ইসরাইল গাজা উপত্যকায় লাগাতার বিমান ও স্থল হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। ইসরাইলি এই হামলায় হাসপাতাল, স্কুল, শরণার্থী শিবির, মসজিদ এবং গির্জাসহ বহু ভবন মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়ে গেছে।
ইসরাইলি আগ্রাসনের কারণে প্রায় ২০ লাখেরও বেশি বাসিন্দা তাদের বাড়িঘর ছেড়ে পালাতে বাধ্য হয়েছেন।
মূলত, ইসরাইলি আক্রমণ গাজাকে সম্পূর্ণ ধ্বংসস্তূপে পরিণত করেছে। জাতিসংঘের মতে, ইসরাইলের এই বর্বর আক্রমণের ফলে গাজার প্রায় ৮৫ শতাংশ ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। খাদ্য, বিশুদ্ধ পানি এবং ওষুধের তীব্র সংকটের কারণে গাজার সব বাসিন্দাই এখন খাদ্য নিরাপত্তাহীন অবস্থায় দিন কাটাচ্ছেন।
এছাড়া অবরুদ্ধ এই অঞ্চলের ৬০ শতাংশ অবকাঠামো মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বা ধ্বংস হয়েছে। ইসরাইল ইতোমধ্যেই আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে গণহত্যার অভিযোগের সম্মুখীন হয়েছে।