রবিবার, ০৮ মার্চ ২০২৬, ১১:২৩ অপরাহ্ন
বুধবার (১৩ নভেম্বর) মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত ডোনাল্ড ট্রাম্প তার নতুন গোয়েন্দা সংস্থার পরিচালক হিসেবে সাবেক ডেমোক্র্যাট তুলসী গ্যাবার্ডের নাম ঘোষণা করেছেন। সিএনএন ও এপির প্রতিবেদনে এটি নিশ্চিত করা হয়েছে।
এপির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তুলসী গ্যাবার্ড হচ্ছেন কংগ্রেসে প্রথম হিন্দু প্রতিনিধি যিনি যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থার পরিচালক পদে মনোনীত হতে যাচ্ছেন। তবে ২০২২ সালে ডেমোক্র্যাট দল ত্যাগ করে তুলসী, এবং চলতি বছরের শুরুতে তিনি ট্রাম্পকে সমর্থন করেন।
নির্বাচনী প্রচারণার সময়, ডেমোক্র্যাট প্রার্থী কমলা হ্যারিসের সঙ্গে বিতর্কের মাঝে ট্রাম্পকে সাহায্য করেছিলেন তুলসী।
বুধবার এক বিবৃতিতে ট্রাম্প জানান, তুলসী গ্যাবার্ড একজন দক্ষ এবং অভিজ্ঞ রাজনীতিক, যিনি এক সময় ডেমোক্রেটিক হোয়াইট হাউসের প্রার্থী ছিলেন। আমাদের গোয়েন্দা সম্প্রদায়ের জন্য তার দীর্ঘ ও সফল কর্মজীবন একটি শক্তিশালী প্রেরণা হিসেবে কাজ করবে।
গোয়েন্দা সংস্থার পরিচালক হিসেবে মনোনীত হওয়ার জন্য ট্রাম্পকে ধন্যবাদ জানিয়ে এক বিবৃতিতে তুলসী বলেছেন, “মার্কিন জনগণের নিরাপত্তা ও স্বাধীনতা রক্ষার জন্য কাজ করার সুযোগ পাওয়ায় আমি কৃতজ্ঞ। আমি এই দায়িত্ব পালনের অপেক্ষায় রয়েছি।”
তুলসী নামের কারণে অনেকে তাকে ভারতীয় বংশোদ্ভূত মনে করেন, তবে তিনি নিজেই বারবার উল্লেখ করেছেন যে, তার বংশগতভাবে ভারতের সঙ্গে কোনো সম্পর্ক নেই।
১৯৮১ সালে সামোয়া দ্বীপে জন্মগ্রহণকারী তুলসী গ্যাবার্ডের বাবা মাইক গ্যাবার্ড এবং মা ক্যারল গ্যাবার্ডের পাঁচ সন্তানের মধ্যে তিনি চতুর্থ। তার পরিবার ছোটবেলায় হাওয়াইতে চলে আসে এবং সেখানেই বড় হন তিনি।
তুলসী মিশ্র সংস্কৃতির পরিবেশে বেড়ে ওঠেন। তার বাবা মাইক গ্যাবার্ড সামোয়ান ও ইউরোপীয় বংশোদ্ভূত, এবং মা ক্যারল যুক্তরাষ্ট্রের ইন্ডিয়ানা ও মিশিগান রাজ্যে জন্মগ্রহণ করেছিলেন। তার মা প্রথমে হিন্দু ধর্মে আগ্রহী হন এবং এই কারণে তার সন্তানদের হিন্দু নাম দেওয়া হয়।
তুলসী গ্যাবার্ড হাইস্কুল পর্যন্ত নিজের বাড়িতে পড়াশোনা করেন, তবে ফিলিপিন্সে একটি বালিকা বোর্ডিং স্কুলে দুই বছর পড়াশোনা করেছিলেন। সেখানে পড়াশোনা ও সামাজিক কাজের পাশাপাশি তিনি বেশ কিছু সামাজিক সংগঠনে যুক্ত হন।
তুলসীর বাবা মাইক গ্যাবার্ড হাওয়াই স্টেট সিনেটরের পদে দায়িত্ব পালন করেছিলেন এবং তার প্রভাবে রাজনীতিতে যোগ দেন তিনি। ২০০২ সালে হাওয়াই হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভের নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে লিওয়ার্ড কমিউনিটি কলেজ ছাড়েন এবং সেখান থেকে টেলিভিশন প্রোডাকশন বিষয়ে পড়াশোনা করছিলেন। প্রথমবারেই হাওয়াই হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভে সর্বকনিষ্ঠ নারী প্রতিনিধি নির্বাচিত হন তিনি।
২০০৩ সালে তিনি হাওয়াই আর্মি ন্যাশনাল গার্ডে যোগ দেন এবং প্রশিক্ষণের পর এক বছরের জন্য ইরাক যুদ্ধে পাঠানো হয়। প্রায় দুই দশক সেনাবাহিনীতে দায়িত্ব পালন করেন, সঙ্গে সঙ্গে পড়াশোনা ও রাজনীতিও চালিয়ে যান। ২০০৯ সালে হাওয়াই স্টেট ইউনিভার্সিটি থেকে সায়েন্স ইন বিজনেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশনে স্নাতক হন।
২০১২ সালে, প্রথমবারের মতো তিনি হাওয়াই রাজ্য থেকে মার্কিন পার্লামেন্টের হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভসে নির্বাচিত হন। শপথ নেয়ার সময় তিনি ভগবৎ গীতা হাতে নিয়েছিলেন। তার বক্তব্য ছিল, “আমি বৈচিত্র্যকে স্বাগত জানাতে দৃঢ়বিশ্বাসী।” এরপর তিনি আরও তিনবার নির্বাচিত হন।
২০২০ সালে তুলসি নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেননি এবং ডেমোক্রেটিক পার্টি থেকে প্রেসিডেন্ট প্রার্থী হওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের বিদেশী যুদ্ধ ও সামরিক সংঘাতে জড়ানোর বিরোধিতা করেন। তবে সফল হতে না পেরে তিনি প্রার্থীতা থেকে সরে দাঁড়িয়ে জো বাইডেনকে সমর্থন জানান।
২০২২ সালে তিনি প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের বিরুদ্ধে ‘বর্ণবিদ্বেষী’ কর্মকাণ্ডের অভিযোগ তুলে ডেমোক্র্যাট পার্টি ত্যাগ করেন এবং রিপাবলিকানদের সাথে কাজ শুরু করেন। তিনি ফক্স নিউজে যোগ দেন এবং নিজের পডকাস্ট চালু করেন।
অতীতে জাতীয় গোয়েন্দা সংস্থার প্রধান পদে দায়িত্ব পালনকারীদের মতো তুলসীরও এই বিষয়ে বিশেষ অভিজ্ঞতা নেই, তবে তবুও তাকে এই পদে মনোনীত করা হয়েছে।