শুক্রবার, ১২ জুন ২০২৬, ০২:৩২ অপরাহ্ন
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট কে হতে যাচ্ছেন, তা নিয়ে নজর সারা বিশ্বের। কমলা হ্যারিস বা ডোনাল্ড ট্রাম্প—যেই ক্ষমতায় আসুন না কেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ভবিষ্যতে সম্পর্ক কেমন হবে, তা নিয়ে ভাবছেন বিশ্বনেতারা। তবে প্রেসিডেন্ট হিসেবে তাঁদের পছন্দের প্রার্থী কে, সে বিষয়ে চলছে বিস্তর আলোচনা।
এ আলোচনায় সবার আগে উঠে আসে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের নাম। হোয়াইট হাউসে তিনি কাকে দেখতে চান? মজার ছলে পুতিনের পক্ষ থেকে কমলাকে পছন্দের কথা বলা হলেও বাস্তবে তাঁর সমর্থনের দিকে অনেক ইঙ্গিতই ট্রাম্পের দিকে গেছে।
গবেষণা প্রতিষ্ঠান চ্যাথাম হাউসের রাশিয়া ও ইউরেশিয়া প্রোগ্রামের সহযোগী ফেলো টিমোথি অ্যাশ আল-জাজিরাকে বলেন, নানা কারণে পুতিন ট্রাম্পকে প্রেসিডেন্ট হিসেবে পছন্দ করতে পারেন। প্রথমত, পুতিন মনে করেন ট্রাম্প রাশিয়ার প্রতি নমনীয় হবেন এবং ইউক্রেনের সঙ্গে একটি ভালো চুক্তিতে পৌঁছানোর ক্ষেত্রে সহায়তা করবেন। ইউক্রেনকে সহায়তা বন্ধ করা এবং রাশিয়ার ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার ব্যাপারেও ট্রাম্প পদক্ষেপ নিতে পারেন।
অ্যাশ আরও বলেন, ‘পুতিন ট্রাম্পের মধ্যে নিজের কর্তৃত্ববাদী প্রতিচ্ছবি দেখতে পান। তিনি মনে করেন, ট্রাম্পকে তিনি বুঝতে সক্ষম।’
তবে বিশ্লেষকেরা মনে করেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে যেই জয়ী হোক, মস্কোর ধারণা হলো—রাশিয়ার প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের মনোভাব মোটের ওপর একই থাকবে।
চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিং সরাসরি কমলা কিংবা ট্রাম্প কাউকেই সমর্থন দেননি। ডেমোক্র্যাট এবং রিপাবলিকান উভয় দলই রাশিয়ার পাশাপাশি চীনের ব্যাপারে কঠোর অবস্থান নিয়ে আসছে। ট্রাম্পের আমলে চীনের সঙ্গে বাণিজ্যযুদ্ধ শুরু হয়েছিল, যা আবার ট্রাম্প জয়ী হলে চলমান থাকতে পারে। অন্যদিকে, ডেমোক্র্যাটরাও চীনের বৈশ্বিক প্রভাব কমাতে নানা পদক্ষেপ নিচ্ছে। যদিও বাণিজ্যযুদ্ধ চললেও ট্রাম্প চীনের সঙ্গে সম্পর্কের ভারসাম্য রক্ষা করতে চেয়েছেন। গত ১৪ জুলাই ট্রাম্পকে হত্যাচেষ্টার ঘটনায় বিশ্বনেতাদের কাছ থেকে সমবেদনা বার্তা এসেছিল, যার মধ্যে সি চিন পিংয়ের বার্তাও ছিল। তবে চীনা কর্মকর্তারা আরও বেশি কমলার প্রতি সহানুভূতিশীল বলে ধারণা।
ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী সরাসরি কাউকে সমর্থন না করলেও ইঙ্গিত দিয়েছেন ট্রাম্পের দিকেই বেশি ঝুঁকে আছেন।
ইউরোপের নেতাদের মধ্যে অনেকে এবার কমলা হ্যারিসকে সমর্থন দিচ্ছেন। এর কারণ, ট্রাম্প পশ্চিমা সামরিক জোট ন্যাটোর বিরুদ্ধে একাধিক হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। জার্মান চ্যান্সেলর ওলাফ শলৎজ কমলাকে সমর্থন জানিয়ে বলেছেন, ‘আমি তাঁকে ভালোভাবে চিনি। তিনি একজন দারুণ প্রেসিডেন্ট হবেন।’
ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে ট্রাম্পের সম্পর্ক বরাবরই ঘনিষ্ঠ। কিছুদিন আগে ট্রাম্প মোদিকে প্রশংসা করে টুইটও করেছেন। তবে চ্যাথাম হাউসের দক্ষিণ এশিয়ার জ্যেষ্ঠ রিসার্চ ফেলো চৈতজ্ঞ বাজপেয়ী মনে করেন, ‘ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক গভীর করতে দুই দলেরই সমান ইচ্ছা রয়েছে। মোদির কোনো নির্দিষ্ট পছন্দের প্রার্থী নেই।’
এশিয়া প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের ঘনিষ্ঠ মিত্র দক্ষিণ কোরিয়া। প্রেসিডেন্ট ইউন সুক ইওল সরাসরি কাউকে সমর্থন করেননি। তবে বাইডেন প্রশাসনের সময়ে দুই দেশের সম্পর্ক আরও ঘনিষ্ঠ হয়েছে। ট্রাম্পের আমলে কোরিয়ার প্রতিরক্ষার খরচ বাড়ানোর জন্য সমালোচনা করা হয়েছিল।
জাপানের জন্য ট্রাম্প জয়ী হলে সমস্যা দেখা দিতে পারে। ট্রাম্প শুল্ক বাড়ানোর হুমকি দিয়েছেন এবং জাপানকে সামরিক বাজেট বাড়ানোর চাপ দিতে পারেন। অন্যদিকে, কমলা প্রেসিডেন্ট হলে দুই দেশের সম্পর্কের ধারাবাহিকতা বজায় থাকবে।
অস্ট্রেলিয়ার জন্য ট্রাম্প জয়ী হলে বিভিন্ন জটিলতা তৈরি হতে পারে বলে ধারণা বিশ্লেষকদের। তাই তাদের পক্ষে ট্রাম্পকে সমর্থন করাটা স্বাভাবিক নয়।