শনিবার, ২৪ জানুয়ারী ২০২৬, ০২:৫৭ অপরাহ্ন
ভোট গ্রহণের প্রস্তুতি শুরু হয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে, যা আজ অনুষ্ঠিত হচ্ছে। বাংলাদেশ সময় সন্ধ্যা ৭টায় এবং যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় সময় সকাল ৮টায় ভোট গ্রহণ শুরু হবে। এই প্রক্রিয়া শেষ হবে বুধবার সকালে বা দুপুরের মধ্যে। ফলাফল সম্পর্কে প্রাথমিক ধারণা পাওয়া যাবে বুধবার সন্ধ্যা নাগাদ, তবে চূড়ান্ত ফলাফল জানার জন্য বৃহস্পতিবার পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হতে পারে।
এবারের নির্বাচন যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে অন্যতম প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন হতে চলেছে। দোদুল্যমান সাতটি অঙ্গরাজ্যের ভোটের ফলাফলের ওপরই নির্ভর করছে কমলা হ্যারিসের গাধা ও ডোনাল্ড ট্রাম্পের হাতি প্রতীকের জয়পরাজয়। ইতোমধ্যে ৮ কোটির বেশি আগাম ভোট গ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে। স্থানীয় সময় মঙ্গলবার (৫ নভেম্বর) ভোট শুরু হলেও চূড়ান্ত ফলাফল কখন জানা যাবে, তা নিয়ে অনেকের মধ্যে কৌতূহল বিরাজ করছে। নির্বাচনের দিন, অর্থাৎ ৫ নভেম্বর স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৭টা থেকে রাত ১০টার মধ্যে ভোটগ্রহণ শেষ হবে। সাধারণত যেসব রাজ্যের ভোট দ্রুত গণনা করা হয়, সেসব রাজ্যের ফল রাতেই (বাংলাদেশে বুধবার সন্ধ্যার দিকে) পাওয়া যায়। প্রতিটি অঙ্গরাজ্য নিজেদের নিয়ম অনুযায়ী ভোট গ্রহণের সময় নির্ধারণ করে থাকে। এরপর শুরু হয় ভোট গণনা। সাধারণত স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৭টায় গণনা শুরু হয়। সময়ের ব্যবধানের কারণে যুক্তরাষ্ট্রে ভোট গণনার সময়ে কিছু পার্থক্য দেখা যায়। যেমন পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যে ভোট গণনা শুরু হলে, আলাস্কা ও হাওয়াইয়ের মতো রাজ্যের ভোটাররা তখনো ভোট দিতে থাকেন। ভোট বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রধান দুই প্রতিদ্বন্দ্বী ট্রাম্প (হাতি) ও কমলার (গাধা) মধ্যে কে জয়ী হবেন, তা ভোটারদের সরাসরি ভোটের মাধ্যমে নির্ধারিত হবে না। কেন্দ্রীয় নির্বাচনের পরিবর্তে জয়ী-পরাজয় নির্ধারিত হবে একেকটি অঙ্গরাজ্যের নির্বাচনের মাধ্যমে।
যুক্তরাষ্ট্রের ৫০টি রাজ্যের মধ্যে যে কোনো একটি রাজ্যে জয়ী হওয়ার মানে হলো সংশ্লিষ্ট প্রার্থী সেই রাজ্যের সব ‘ইলেকটোরাল কলেজ’ ভোট পেয়ে যাবেন। উদাহরণস্বরূপ, টেক্সাসে ৪০ জন ইলেকটর রয়েছেন। কমলা হ্যারিস বা ডোনাল্ড ট্রাম্প, যে প্রার্থী এ রাজ্যে বেশি ভোট পাবেন, তিনিই রাজ্যের ৪০ জন ইলেকটরকে জয়ী করবেন। ইলেকটোরাল কলেজের মোট ভোটের সংখ্যা ৫৩৮। মেইন ও নেব্রাসকা ছাড়া বাকি সব রাজ্যের ইলেকটোরাল ভোট যোগ করে যে প্রার্থী ২৭০ বা তার বেশি ভোট পাবেন, তিনিই প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হবেন। সেই প্রার্থীর নির্বাচিত রানিংমেট হবেন ভাইস প্রেসিডেন্ট। ১৩ ডিসেম্বর, ইলেকটররা সংশ্লিষ্ট অঙ্গরাজ্যের রাজধানীতে গিয়ে তাঁদের দলের প্রার্থীকে ভোট দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রেসিডেন্ট নির্বাচন পর্ব শেষ করবেন। যুক্তরাষ্ট্রের মোট জনসংখ্যা ৩৪০ মিলিয়ন ৬৩ হাজার ২৩৯। এর মধ্যে ভোটার হিসেবে নিবন্ধিত ১৮০ মিলিয়ন ৬৫ লাখ। নিবন্ধিত ভোটারের ৪৭ শতাংশ নিজেদের দলগতভাবে চিহ্নিত করেছেন, অর্থাৎ ৪৫.১ মিলিয়ন ডেমোক্র্যাট এবং ৩৬ মিলিয়ন রিপাবলিকান। এর বাইরে রয়েছে গ্রিন পার্টি, স্বতন্ত্র এবং অন্যান্য। এই তথ্য মাস খানেক আগের।
ইতোমধ্যে আরও কিছু মানুষ ভোটার হিসেবে নিবন্ধিত হয়েছেন। আজ যুক্তরাষ্ট্রের ৬০তম প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের ভোট নেওয়া হবে লক্ষাধিক কেন্দ্রে। বিজয়ী হবেন ৪৭তম প্রেসিডেন্ট। রিপাবলিকান ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ডেমোক্র্যাটিক কমলা হ্যারিসের মধ্যে তীব্র প্রতিযোগিতার মধ্যে শুরু হচ্ছে ভোট গ্রহণ। ভোট ডাকাতি, কারচুপি এবং প্রতারণার নানা অভিযোগও রয়েছে। বিশেষ করে ট্রাম্পের পক্ষ থেকে জাল ভোটের অভিযোগ বেশি উঠছে। তবে এবারের নির্বাচনে আগাম ভোটের সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় উভয় প্রার্থী কিছুটা স্বস্তি পাচ্ছেন। কারণ ভোটের দিনে বেশ কিছু এলাকায় ঝড়বৃষ্টি হতে পারে বলে আবহাওয়া দপ্তরের পূর্বাভাস। আবহাওয়া যতটা দুঃখজনক হোক, দলীয় সমর্থকরা প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছেন এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীও যে কোনো পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য প্রস্তুত রাখা হয়েছে আগের রাত থেকেই। এবারের নির্বাচন যুক্তরাষ্ট্রের গণতন্ত্রের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। বিশ্ব পরিস্থিতির কারণে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্ব এবং মুরুব্বিয়ানা প্রশ্নবিদ্ধ হওয়ায় দলগত ভোটাররাও দ্বিধাদ্বন্দ্বে পড়েছেন।
গাজা, লেবানন, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে ডেমোক্র্যাটদের ভোটব্যাংক ধসের শঙ্কা রয়েছে। ট্রাম্পের গত প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের ফলাফল পাল্টে দেওয়ার জঙ্গি আচরণের কারণে অনেক রিপাবলিকান ভোটার বিরক্ত। এ পরিস্থিতির প্রভাব গত তিন মাসে পরিচালিত অধিকাংশ জরিপে দৃশ্যমান হয়ে উঠেছে, ফলে বিজয় মুকুট কার ভাগ্যে জুটবে তা নিশ্চিত করা কোনোভাবেই সম্ভব নয়। তাই ভোট গণনা পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে চূড়ান্ত ফলাফল জানতে। যদিও গত রবিবার প্রচার চলাকালে ডেমোক্র্যাটরা ট্রাম্পের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছেন যে, গণনার আগেই তিনি নিজেকে বিজয়ী ঘোষণা করে পুনরায় বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে পারেন। একই দিনে আরেক নির্বাচনি সমাবেশে ট্রাম্প ২০২১ সালের ২০ জানুয়ারি হোয়াইট হাউস ছেড়ে যাওয়ার সিদ্ধান্তকে সঠিক বলে মন্তব্য করেছেন। অর্থাৎ এবারের ফলাফল যদি তাঁর বিরুদ্ধে যায়, তবুও তিনি হোয়াইট হাউসে ঢুকে পড়ার ইঙ্গিত দিয়েছেন বলে ডেমোক্র্যাটরা মনে করছেন।
গতকাল ভোটের আগের দিন কমলা এবং ট্রাম্প পেনসিলভানিয়া স্টেটে প্রচার সমাবেশে ভোট প্রার্থনা করেছেন, কারণ এ রাজ্যের ভোটাররাই মূলত বিজয় নিশ্চিতকরণে বড় ভূমিকা রাখবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। এখানে মুসলিম ও ল্যাটিনো ভোটারদের ভূমিকাও জয়-পরাজয়ে ব্যাপক।