সোমবার, ১৯ জানুয়ারী ২০২৬, ০৯:১৬ পূর্বাহ্ন
সিরিয়ার বাশার আল আসাদ সরকারের পতন ঘটেছে বিদ্রোহীদের টানা অভিযানের মুখে। মাত্র ১২ দিনের মধ্যেই এই পতন ঘটে, এরপর বাশার আল আসাদ দেশ ছেড়ে পালিয়ে রাশিয়ায় আশ্রয় নিয়েছেন। তবে এবার তাকে ঘিরে একটি চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ্যে এসেছে। জানা গেছে, বিপুল পরিমাণ অর্থ তিনি বিমানে করে রাশিয়ায় পাচার করেছেন।
ফিন্যান্সিয়াল টাইমসের বরাতে দ্য ইকোনমিক টাইমসের এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, ২০১৮ সালের মার্চ থেকে ২০১৯ সালের সেপ্টেম্বরের মধ্যে বাশার আল আসাদ প্রশাসন রাশিয়ায় ২৫০ মিলিয়ন ডলারের নগদ অর্থ পাচার করেছে। এই অর্থ পাচার করা হয়েছে মূলত ১০০ ডলারের বিল এবং ৫০০ ইউরোর নোটের মাধ্যমে। পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার কারণে সংকটে থাকা সিরিয়ার কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে এই অর্থ মস্কোর নুকোভো বিমানবন্দরের মাধ্যমে পাঠানো হয়েছিল।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, সিরিয়ার দীর্ঘস্থায়ী গৃহযুদ্ধ এবং নিষেধাজ্ঞার জেরে দেশটির অর্থনীতি প্রায় সম্পূর্ণরূপে ভেঙে পড়ে। এই অর্থ রাশিয়া থেকে গম, সামরিক খরচ এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রী সংগ্রহে ব্যবহার করা হয় বলে দাবি করা হয়েছে।
স্টেট ডিপার্টমেন্টের নিয়ার ইস্টার্ন অ্যাফেয়ার্স ব্যুরোর সাবেক প্রধান ডেভিড শেঙ্কার জানিয়েছেন, বাশার আল আসাদের সরকার বহুদিন ধরে বিদেশে সম্পদ পাচারের কৌশল নিয়েছে। তার মতে, এই সম্পদ পাচারের উদ্দেশ্য ছিল ভবিষ্যতে আসাদ এবং তার ঘনিষ্ঠদের আরামদায়ক জীবন নিশ্চিত করা।
সিরিয়ার লিগ্যাল ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রামের জ্যেষ্ঠ গবেষক ইয়াদ হামিদ মন্তব্য করেছেন যে, পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার কারণে সিরিয়া বৈশ্বিক ব্যাংকিং ব্যবস্থা থেকে প্রায় বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছিল। এই পরিস্থিতিতে রাশিয়াকে একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার করে অর্থ পাচারের এই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হয়েছিল।
সূত্র অনুযায়ী, সিরিয়ার কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে বিমানের মাধ্যমে এই বিপুল অর্থ পাঠানো হয়। নোটগুলোর মোট ওজন ছিল প্রায় দুই টন। প্রধানত ১০০ ডলারের বিল এবং ৫০০ ইউরোর নোটে এই অর্থ পরিবহন করা হয়েছিল।