শনিবার, ১৭ জানুয়ারী ২০২৬, ১০:০৯ পূর্বাহ্ন
আগাম নির্বাচনে দলের খারাপ ফলাফল সত্ত্বেও ক্ষমতা ছাড়ার পরিকল্পনা নেই জাপানের প্রধানমন্ত্রী শিগেরু ইশিবার। সোমবার তিনি প্রধানমন্ত্রী হিসেবে কাজ চালিয়ে যাওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। এর আগে গত রবিবারের নির্বাচনে তাঁর দল লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এলডিপি) ১৫ বছরের মধ্যে সবচেয়ে দুর্বল ফল করেছে।
৬৭ বছর বয়সী ইশিবা ১ অক্টোবর জাপানের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন এবং এরপরই তিনি আগাম নির্বাচনের ঘোষণা দেন। তবে তহবিল কেলেঙ্কারির অভিযোগে এলডিপির প্রতি জনগণের অসন্তোষ ভোটের মাধ্যমে ১৯৫৫ সাল থেকে জাপানের ক্ষমতায় থাকা দলটিকে শাস্তি হিসেবে দেখা দিয়েছে। ইশিবা বলেন, তিনি রাজনৈতিক শূন্যতা সৃষ্টি হতে দেবেন না এবং জনগণের জীবন ও দেশের নিরাপত্তার জন্য কাজ করতে চান। এবারের নির্বাচনে কেলেঙ্কারির প্রেক্ষাপটে মানুষের মধ্যে সন্দেহ, আস্থা সংকট ও অসন্তোষ প্রাধান্য পেয়েছে, যেখানে তাঁর দলের নেতারা জড়িত। বিভিন্ন তহবিল সংগ্রহের কার্যক্রম থেকে তারা নিজেদের পকেটে অর্থ রেখেছেন, ফলে তাঁর পূর্বসূরি ফুমিও কিশিদাকে পদত্যাগ করতে হয়েছে।
জাপানের পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে কোনো দলই প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে সক্ষম হয়নি। ভোটাররা বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শিগেরু ইশিবার নেতৃত্বাধীন জোটকে ব্যাপকভাবে প্রত্যাখ্যান করেছে, যা দেশের সরকারের গঠন নিয়ে অনিশ্চয়তা সৃষ্টি করেছে। ইশিবার লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এলডিপি) ও তাদের সহযোগী দল কোমেইতো পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষে ২১৫টি আসন অর্জন করেছে, যা আগের আসনসংখ্যার তুলনায় কম। এর আগে পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষে তাদের আসন সংখ্যা ছিল ২৭৯।
নির্বাচনে প্রধান বিরোধী দল কনস্টিটিউশনাল ডেমোক্রেটিক পার্টি অব জাপান (সিডিপিজে) সবচেয়ে বেশি আসন পেয়ে ১৪৮টি আসনে পৌঁছেছে, যেটি আগের ৯৮ আসন থেকে বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে তারা সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনে পিছিয়ে রয়েছে, কারণ সংখ্যাগরিষ্ঠতার জন্য প্রয়োজন ২৩৩টি আসন।
সাংবিধানিক বিধির অনুযায়ী, সরকার গঠনের জন্য দলগুলোকে ৩০ দিন সময় দেওয়া হবে। প্রধানমন্ত্রীর পদ গ্রহণের পর ইশিবা কতদিন ক্ষমতায় থাকতে পারবেন, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েই গেছে। নির্বাচনে ছোট দলগুলোর অর্জনও উল্লেখযোগ্য, এবং তাদের ভূমিকা আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।
এএফপি/টোকিও