মঙ্গলবার, ২৬ মে ২০২৬, ০৮:১৭ পূর্বাহ্ন
রকেটের জবাবে আকাশ ছেঁড়ে এলো থাইল্যান্ডের প্রতিশোধ!
অনলাইন ডেস্ক
কম্বোডিয়ার ছোড়া রকেট হামলায় থাইল্যান্ডের দুই বেসামরিক নাগরিক নিহত হওয়ার পর প্রতিশোধমূলক পদক্ষেপ হিসেবে এফ-১৬ যুদ্ধবিমান দিয়ে সীমান্ত পেরিয়ে হামলা চালিয়েছে থাই সেনাবাহিনী।
বৃহস্পতিবার ভোরে বিতর্কিত সীমান্ত অঞ্চলে দুই দেশের সেনাদের মধ্যে গোলাগুলির ঘটনা চূড়ান্ত সংঘাতে রূপ নেয়। থাই সামরিক বাহিনীর দাবি, তাদের একটি এফ-১৬ বিমান কম্বোডিয়ার ভেতরে ঢুকে গুলিবর্ষণ করে একাধিক সামরিক ঘাঁটি গুঁড়িয়ে দিয়েছে।
এক বিবৃতিতে থাই বাহিনী জানিয়েছে—“এফ-১৬ গুলিবর্ষণ করেছে!”
গণমাধ্যম সূত্রে জানা যায়, থাই সেনাবাহিনীর মতে, কম্বোডিয়ার ‘স্পেশাল মিলিটারি রিজিয়ন কমান্ডস ৮ ও ৯’-এর ঘাঁটিগুলো সম্পূর্ণ ধ্বংস করা হয়েছে।
এ ঘটনার আগে সীমান্তবর্তী থাই গ্রামে দুটি রকেট আঘাত হানলে থাই সেনাবাহিনী ছয়টি এফ-১৬ বিমান মোতায়েন করে।
রয়টার্স জানায়, থাই সেনাবাহিনীর উপ-মুখপাত্র রিচা সুকসুয়ানন বলেন, পরিকল্পিতভাবে কম্বোডিয়ার সামরিক লক্ষ্যবস্তুর বিরুদ্ধে বিমান হামলা চালানো হয়েছে।
থাই সেনা কর্মকর্তা সুরাসান কংসিরির মতে, সীমান্তের ছয়টি এলাকায় এখনও রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ চলমান। এতে পাঁচ বছরের শিশুসহ অন্তত তিনজন বেসামরিক আহত হয়েছেন।
উভয় দেশই বৃহস্পতিবারের সহিংসতার জন্য একে অপরকে দায়ী করছে।
কম্বোডিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানায়, থাইল্যান্ড তাদের সীমান্তে বিপুলসংখ্যক সেনা মোতায়েন করে ভারী অস্ত্র ও বিমান হামলার মাধ্যমে কম্বোডীয় ভূখণ্ড দখলের অপচেষ্টা চালাচ্ছে।
তারা থাইল্যান্ডের পদক্ষেপকে “বর্বর ও অবৈধ আগ্রাসন” বলে আখ্যায়িত করে বলেছে, এটি জাতিসংঘ সনদ, আসিয়ানের নীতিমালা এবং আন্তর্জাতিক আইন ভঙ্গের জঘন্য উদাহরণ।
তাদের বক্তব্য, থাই যুদ্ধবিমান দুটি পৃথক স্থানে বোমাবর্ষণ করেছে, যা একান্তভাবেই কম্বোডিয়ার ভূখণ্ড।
কম্বোডীয় মুখপাত্র মালি সওচেতা বলেন, এই দায়িত্বজ্ঞানহীন পদক্ষেপ আঞ্চলিক স্থিতিশীলতাকে হুমকির মুখে ফেলেছে এবং আন্তর্জাতিক শৃঙ্খলাকে উপেক্ষা করেছে।
তিনি আরও জানান, কম্বোডিয়ার সার্বভৌমত্ব রক্ষায় সেনাবাহিনী যেকোনো সময় প্রস্তুত।
এদিকে থাই সেনাবাহিনীর এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, সীমান্ত পরিস্থিতির অবনতির কারণে থাইল্যান্ড সব সীমান্ত পথ বন্ধ করে দিচ্ছে।