মঙ্গলবার, ২৬ মে ২০২৬, ০৮:১৭ পূর্বাহ্ন
জন্মের আগেই বুকিং! পাচারের বাজারে নবজাতক শিশু?
অনলাইন ডেস্ক
ইন্দোনেশিয়ায় গর্ভে থাকতেই শিশুদের ‘রিজার্ভ’ করে পরবর্তীতে বিক্রি করে দেওয়ার ভয়ঙ্কর একটি মানবপাচার চক্রকে প্রকাশ্যে এনেছে দেশটির আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। শিশুদের একপ্রকার ‘মার্কেটিং করে’ বিক্রি করা হতো বিদেশে—বিশেষ করে সিঙ্গাপুরে। ইতোমধ্যে এই সংঘবদ্ধ চক্র অন্তত ২৫টি নবজাতক পাচার করেছে বলে প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে।
গণমাধ্যম সূত্রে জানা যায়, পশ্চিম জাভা প্রদেশের দুই শহর—পন্তিয়ানাক ও তাংরাং—কেন্দ্র করে চালানো এই ভয়াল বাণিজ্যে সংশ্লিষ্ট ১৩ জনকে আটক করেছে পুলিশ। একই সঙ্গে পাচারের আগেই ৬ শিশুকে উদ্ধার করা হয়েছে, যাদের প্রত্যেকের বয়স এক বছরের নিচে।
পশ্চিম জাভা পুলিশের অপরাধ তদন্ত শাখার প্রধান সুরাওয়ান জানান, ২০২৩ সাল থেকে সক্রিয় চক্রটি মূলত গরিব, অসহায় অথবা অবিবাহিত গর্ভবতী নারীদের টার্গেট করত। অনেক সময় শিশুর জন্মের আগেই পরিবারগুলোর সঙ্গে চুক্তি করা হতো। ডেলিভারি সংক্রান্ত ব্যয় বহনের বিনিময়ে শিশুকে নিজেদের হেফাজতে নিয়ে যেত তারা।
শিশু পাচারের এই প্রক্রিয়াটি ছিল অত্যন্ত সুসংগঠিত ও পরিকল্পিত। নবজাতকদের প্রথমে পন্তিয়ানাকে এনে রাখা হতো, পরে তাদের ভুয়া পাসপোর্ট ও পারিবারিক পরিচয়পত্র বানিয়ে বিদেশে পাচার করা হতো। শিশুদের সম্পূর্ণভাবে ‘প্রসেসিং’ করত এই চক্রের বিভিন্ন ইউনিট—কেউ খুঁজে আনত শিশু, কেউ দেখভাল করত, আবার কেউ জাল কাগজপত্র বানাত।
জানা গেছে, পাচারের শিকার প্রতিটি শিশুর জন্য দাম ধরা হয়েছিল ১১ থেকে ১৬ মিলিয়ন ইন্দোনেশিয়ান রুপিয়াহ, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় ১ কোটি ১০ লাখ থেকে ১ কোটি ৬০ লাখ টাকার মধ্যে পড়ে। এই ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিরা স্বীকার করেছে যে, তারা অন্তত ১২ জন ছেলে ও ১৩ জন মেয়েশিশু সিঙ্গাপুরসহ আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বিক্রি করেছে।
পুলিশ জানায়, শিশুরা প্রথমে কেয়ারটেকারের হেফাজতে দুই-তিন মাস কাটাত, এরপর তাদের জাকার্তা হয়ে পন্তিয়ানাকে নিয়ে যাওয়া হতো। শিশুরা যেন ‘পরিবারের সদস্য’ দেখিয়ে দেশ ছাড়তে পারে, সেই লক্ষ্যে ভুয়া নথিপত্র তৈরি করা হতো।
এ ঘটনায় ইন্দোনেশিয়াজুড়ে ব্যাপক উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। আন্তর্জাতিকভাবে শিশু পাচার নিয়ে ফের নতুন করে আলোচনার ঝড় উঠেছে। এ ধরনের নৃশংসতা মানবতা ও শিশুর অধিকারের চরম লঙ্ঘন বলেও মত দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
পশ্চিম জাভার অপরাধ তদন্ত প্রধান সুরাওয়ান গণমাধ্যমকে বলেন, “কিছু শিশুর তো মাতৃগর্ভেই বুকিং হয়ে গিয়েছিল। এই ধরনের বর্বরতা রুখতে আমরা কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নিচ্ছি।”
আটকদের জিজ্ঞাসাবাদ চলছে এবং চক্রের সঙ্গে আরও কেউ জড়িত রয়েছে কিনা, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। মানবপাচারের এই নেটওয়ার্ক চিহ্নিত করতে দেশটির পুলিশ ও অভিবাসন বিভাগ যৌথভাবে কাজ করছে বলে জানা গেছে।