মঙ্গলবার, ২৬ মে ২০২৬, ০৮:১৭ পূর্বাহ্ন
উইফার ভয়াল থাবা! উপকূলজুড়ে জারি সর্বোচ্চ সতর্কতা
অনলাইন ডেস্ক
প্রচণ্ড শক্তি নিয়ে ধেয়ে আসছে ভয়ংকর টাইফুন উইফা। আশঙ্কা করা হচ্ছে, রোববার (২০ জুলাই) এটি উপকূলীয় এলাকায় আছড়ে পড়তে পারে। সম্ভাব্য এই দুর্যোগে প্রবল ঝড়ো হাওয়া, ভারী বর্ষণ এবং উচ্চমাত্রার জলোচ্ছ্বাস দেখা দিতে পারে।
গণমাধ্যম সূত্রে জানা যায়, বুধবার রাতে ফিলিপাইনের পূর্বাঞ্চলে এটি গ্রীষ্মমণ্ডলীয় নিম্নচাপ হিসেবে জন্ম নেয়। ধাপে ধাপে শক্তি বাড়িয়ে এটি রূপ নেয় ভয়ংকর টাইফুনে এবং এখন এটি দক্ষিণ চীনের উপকূলের দিকে ছুটে আসছে।
আবহাওয়ার পূর্বাভাস মানচিত্র ইঙ্গিত দিচ্ছে, উইফা রবিবার বিকেলে হংকংয়ের দক্ষিণ উপকূল অতিক্রম করতে পারে। ফলে আশপাশের এলাকায় আতঙ্ক ও প্রস্তুতির ব্যস্ততা বেড়েছে।
শুক্রবার রাত ১০টার পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, উইফার অবস্থান ছিল ফিলিপাইনের ম্যানিলা থেকে প্রায় ৫৫০ কিলোমিটার উত্তর-উত্তর-পূর্ব দিকে। এ সময় কেন্দ্রীয় বাতাসের গতি ছিল ঘণ্টায় প্রায় ৬৫ কিলোমিটার। লুজন প্রণালীর কাছাকাছি এসে এটি ঘণ্টায় ২২ কিলোমিটার গতিতে উত্তর-পশ্চিম কিংবা পশ্চিম-উত্তর-পশ্চিম দিকে অগ্রসর হচ্ছে বলে জানানো হয়েছে।
শনিবার রাত শেষ হওয়ার আগেই উইফা হংকংয়ের ৮০০ কিলোমিটারের মধ্যে প্রবেশ করবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এ কারণে হংকংয়ের আবহাওয়া বিভাগ ১ নম্বর টাইফুন সতর্ক সংকেত জারি করেছে। সাধারণ জনগণকে ইতিমধ্যে নিরাপদ আশ্রয়ে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, উইফার প্রভাবে হংকংয়ে তীব্র বৃষ্টিপাত ও প্রচণ্ড বাতাস আঘাত হানতে পারে, যা জনজীবনে ব্যাপক প্রভাব ফেলতে পারে। পরিস্থিতি বিবেচনায় হংকং কর্তৃপক্ষ পুরোপুরি সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।
শহরের প্রধান সচিব এরিক চ্যান কোউক-কির নেতৃত্বে শুক্রবার বিকেলে একটি জরুরি স্টিয়ারিং কমিটির বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে বিভিন্ন দপ্তরের সমন্বয়ে দুর্যোগ প্রস্তুতি এবং তা মোকাবিলার রূপরেখা তৈরি হয়।
জরুরি পরিবহন সমন্বয় কেন্দ্র ইতোমধ্যেই কার্যক্রম শুরু করেছে। এ ছাড়া ফায়ার সার্ভিস, পুলিশ, সিভিল এইড সার্ভিস ও অক্সিলিয়ারি মেডিকেল টিমগুলোকে সর্বক্ষণিক প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
এদিকে সম্ভাব্য আকস্মিক জলোচ্ছ্বাস ও নগর প্লাবনের ঝুঁকি মাথায় রেখে শহরজুড়ে প্রায় ২৪০টি ঝুঁকিপূর্ণ স্থান সরেজমিনে পরিদর্শন করে পরিষ্কার করা হয়েছে। সেইসঙ্গে ১৮০টি ড্রেনেজ ক্লিনিং টিমকে প্রস্তুত রাখা হয়েছে, যারা ঝড়ের সময় দ্রুত প্রতিক্রিয়া জানাবে।
প্রশাসনের ভাষ্য অনুযায়ী, তারা সার্বক্ষণিক আবহাওয়ার আপডেট পর্যবেক্ষণ করছেন। দুর্যোগের মাত্রা অনুযায়ী উদ্ধার ও রিলিফ অপারেশনে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলেও জানায় গণমাধ্যম।