শনিবার, ১৭ জানুয়ারী ২০২৬, ১০:৫৬ পূর্বাহ্ন
দেশের বাজারে ডিমের সরবরাহ বাড়াতে ও দাম নিয়ন্ত্রণে আবারও আমদানির অনুমতি দিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার। এ ক্ষেত্রে ১২টি প্রতিষ্ঠানকে ৪ কোটি ডিম আমদানির অনুমতি দেয়া হয়েছে।
বুধবার (২৩ অক্টোবর) বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অভ্যন্তরীণ বাণিজ্য-১ শাখা এক বিজ্ঞপ্তিতে জানায়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, প্রাণিসম্পদ অধিদফতরের তথ্য অনুযায়ী, দেশে প্রতিদিন প্রায় ৫ কোটি পিস ডিমের চাহিদা রয়েছে। বর্তমানে ডিমের বাজার পরিস্থিতি ও মূল্য স্থিতিশীল রাখতে সাময়িকভাবে সীমিত সময়ের জন্য ১২টি প্রতিষ্ঠানের আবেদনের ভিত্তিতে তাদেরকে ডিম আমদানির অনুমতি প্রদান করা হয়েছে। এই আমদানির অনুমতির মেয়াদ আগামী ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত থাকবে। আমদানিকারকদের নির্ধারিত শর্তাবলী অনুসরণ করে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম গ্রহণ করতে হবে।
১২টি প্রতিষ্ঠানকে মোট ৪ কোটি পিস ডিম আমদানির অনুমতি দেয়া হয়েছে। এতে এটকম ইন্টারন্যাশনাল ৩০ লাখ পিস, সরদার এক্সপোর্ট অ্যান্ড ইমপোর্ট ৫০ লাখ পিস, এসিআই লজিস্টিকস লিমিটেড ৫০ লাখ পিস, মের্সাস সাজ্জাদ এন্টারপ্রাইজ ৫০ লাখ পিস, এএমআই এন্টারপ্রাইজ ৫ লাখ পিস এবং মিতা এন্টারপ্রাইজ ৩ লাখ পিস ডিম আমদানি করতে পারবে।
এছাড়া থ্রী স্টার এন্টারপ্রাইজ ৫০ লাখ পিস, ইমিকো ট্রেডিং কোং ৫০ লাখ পিস, বারাকাহ ইমেক্স অ্যান্ড ট্রেডিং ৩০ লাখ পিস, মান্নাত ট্রেডিং ৫০ লাখ পিস, জারিন ট্রেডিং করপোরেশন ২ লাখ পিস এবং এ আর থ্রেড ইন্টারন্যাশনালকে ৩০ লাখ পিস ডিম আমদানির অনুমতি দেয়া হয়েছে।
সরকার ডিম আমদানির অনুমতি দিলেও কয়েকটি শর্ত আরোপ করেছে। এর মধ্যে রয়েছে:
১) বিশ্ব প্রাণিস্বাস্থ্য সংস্থার নির্দেশনার ভিত্তিতে বার্ড ফ্লুমুক্ত জোনিং বা কম্পার্টমেন্টালাইজেশনের জন্য রফতানিকারক দেশের উপযুক্ত কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে সার্টিফিকেট বা ঘোষণা দাখিল করতে হবে।
২) আমদানি করা ডিমের প্রতিটি চালানের জন্য রফতানিকারক দেশের সরকারের মাধ্যমে ক্ষমতাপ্রাপ্ত কর্তৃপক্ষের দেয়া এভিয়ান ইনফ্লুয়েঞ্জা বা বার্ড ফ্লু ভাইরাস ও ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়াম মুক্ত সনদ দাখিল করতে হবে।
৩) সরকার নির্ধারিত শুল্ক ও অন্যান্য বিধিবিধান মেনে চলতে হবে।
৪) ডিম আমদানির প্রতি চালানের অন্তত ১৫ দিন আগে সংশ্লিষ্ট সঙ্গনিরোধ কর্মকর্তাকে অবহিত করতে হবে।
৫) আমদানির অনুমতি পাওয়ার ৭ দিন পরে অগ্রগতি প্রতিবেদন বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে দাখিল করতে হবে।
৬) আমদানির অনুমতির মেয়াদ আগামী ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত থাকবে।
এবার এভিয়ান ইনফ্লুয়েঞ্জা বা বার্ড ফ্লু-মুক্ত দেশগুলো থেকে ডিম আমদানি করতে হবে। প্রতিটি চালানের জন্য রফতানিকারক দেশের সরকারের নির্দেশিত কর্তৃপক্ষের দেয়া সনদ জমা দিতে হবে। প্রতিটি চালানের অন্তত ১৫ দিন আগে সংশ্লিষ্ট সঙ্গনিরোধ কর্মকর্তাকে অবহিত করতে হবে এবং অনুমতি পেলে ৭ দিন পর পর অগ্রগতি প্রতিবেদন জমা দিতে হবে।
উল্লেখ্য, লাগামহীন ডিমের বাজার নিয়ন্ত্রণে গত ১৫ সেপ্টেম্বর কৃষি বিপণন অধিদফতর ডিমের ‘যৌক্তিক দাম’ নির্ধারণ করে। সে অনুযায়ী প্রতিটি ডিমের দাম উৎপাদন পর্যায়ে ১০ টাকা ৫৮ পয়সা, পাইকারি পর্যায়ে ১১ টাকা ০১ পয়সা ও খুচরা পর্যায়ে ১১ টাকা ৮৭ পয়সা (ডজন ১৪২ টাকা ৪৪ পয়সা) বিক্রির কথা ছিল। কিন্তু নির্ধারিত দামে বিক্রি না হওয়ায় গত ৮ অক্টোবর ৭ প্রতিষ্ঠানকে ৪ কোটি ৫০ লাখ পিস ডিম আমদানির অনুমতি দেয় অন্তর্বর্তী সরকার।
এতেও বাজার নিয়ন্ত্রণ না এলে গত ১৭ অক্টোবর বাজারে ডিমের দাম সহনীয় পর্যায়ে রাখতে ডিম আমদানিতে কর ছাড় দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। সেদিন ডিমের ওপর বিদ্যমান আমদানি শুল্ক ২৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৫ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়।
তবে সরকারি বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও অধিদফতরের বাজার মনিটরিং, বিভিন্ন বাজারে ডিম ব্যবসায়ীদের সঙ্গে বৈঠক, ভারত থেকে ডিম আমদানি ও আমদানি শুল্ক হ্রাসসহ নানা নাটকীয়তার পর কিছুটা স্বস্তি ফিরতে শুরু করেছে ডিমের বাজারে। বর্তমানে প্রতিটি ডিম বিক্রি হচ্ছে ১৪৪ টাকায়।