রবিবার, ০৮ মার্চ ২০২৬, ১১:২৭ অপরাহ্ন
গাইবান্ধা জেলার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার রাজাহার ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান ও বিএনপি থেকে সদ্য বহিষ্কৃত নেতা রফিকুল ইসলামকে ঢাকা থেকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। রফিকুল ইসলাম রাজাহার ইউনিয়নের রাজাবিরাট আদিবাসী গ্রামে এক সাঁওতাল নারীকে নির্যাতন ও তার বাড়িতে অগ্নিসংযোগের মামলার প্রধান আসামি।
পুলিশ আজ বুধবার সকাল ৮টায় ঢাকার শাহবাগের প্রিতম হোটেল থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে। এর আগে গত রবিবার দুপুরে জেলা বিএনপি রফিকুল ইসলামকে গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য ও রাজাহার ইউনিয়নের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক পদ থেকে বহিষ্কার করেছিল।
গাইবান্ধা পুলিশ সুপার নিশাত এ্যঞ্জেলা জানান, গোবিন্দগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বুলবুল ইসলামের নির্দেশে পুলিশ একটি দলকে ঢাকা পাঠায়, যারা প্রিতম হোটেল থেকে রফিকুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করেন। গ্রেপ্তারকারী দলের নেতৃত্ব দেন এসআই মানিক রানা ও এসআই মো. শাহজাহান আলী।
মঙ্গলবার, দেশের ৪৭ জন বিশিষ্ট নাগরিক এক যৌথ বিবৃতিতে ঘটনার সাথে জড়িতদের শাস্তির দাবি জানান। মারধরের শিকার ফিলোমিনা হাসদা (৫৫) বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা গ্রহণ করেছেন।
ঘটনার বিস্তারিত জানিয়ে ফিলোমিনা হাঁসদারের ছেলে ব্রিটিশ সরেন বলেন, ‘গত শুক্রবার সকাল ১০টার দিকে রাজাহার ইউপি চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম সাঁওতালদের পৈত্রিক জমিতে মাটি ভরাট করছিলেন, যা আগে পতিত ছিল। গ্রামবাসী সাঁওতাল যুবকরা বাধা দিতে গেলে, চেয়ারম্যানের লোকজন আমার খালাতো ভাই নিকোলাস মুর্মুকে মারধর করে তাড়িয়ে দেয়।’
তিনি আরো বলেন, ‘আমরা কিছুটা দূরে আলুর খেতে কাজ করছিলাম। খালাতো ভাইকে মারধরের কথা শুনে প্রতিবাদ করতে গেলে, চেয়ারম্যান লাঠি নিয়ে এসে আমার মা ফিলোমিনাকে মারতে শুরু করেন। তিনি মায়ের কানে একের পর এক থাপ্পড় দেন, যার ফলে মা মাটিতে পড়ে যান এবং কান থেকে রক্ত গড়িয়ে পড়ে। এরপর রাতে, চেয়ারম্যানের লোকজন আমাদের বাড়িতে আগুন দেয়।’
গোবিন্দগঞ্জ থানার ওসি বুলবুল ইসলাম জানান, ফিলোমিনা হাঁসদারকে মারধর ও তার বাড়িতে অগ্নিসংযোগের ঘটনায় থানায় একটি মামলা করা হয়েছে। মামলায় রফিকুল ইসলাম, তার ভাই এবং আরো চার জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়াও ২০-২৫ জন অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে। ওই মামলার প্রধান আসামি রফিকুল ইসলামকে ঢাকার একটি হোটেল থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাকে গাইবান্ধায় ফিরিয়ে আনা হবে।