বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন ২০২৬, ০৯:৪৪ পূর্বাহ্ন
দামে চাপে কমেছে বিক্রি, তবু দুই চাকার ভরসা ছাড়ছে না মানুষ
অনলাইন ডেস্ক
জ্বালানির খরচ, যানজট আর সময় বাঁচাতে মানুষ এখন চার চাকার চেয়ে দুই চাকার ওপরেই ভরসা রাখছে। মোটরসাইকেল শুধু যাতায়াতের মাধ্যম নয়, হয়ে উঠেছে উপার্জনের হাতিয়ারও। তবে ২০২৪ সালের শুরুতে মোটরসাইকেল বাজারে দেখা দেয় একধরনের স্থবিরতা। মূল্যস্ফীতি, ডলারের দাপট, রাজনৈতিক টালমাটাল পরিস্থিতি—সব মিলিয়ে ক্রেতারা পিছু হটেছেন। ফলে গত বছরের তুলনায় এবার মোটরসাইকেল বিক্রি কমেছে ২ শতাংশ।
দেশের বাইক মার্কেটে এখনও শীর্ষে বাজাজ—২২ শতাংশ মার্কেট শেয়ার ধরে রেখেছে তারা, যদিও গত বছরে বিক্রি কমেছে প্রায় ১০ শতাংশ। তাদের পরে রয়েছে ইয়ামাহা (২০%) এবং সুজুকি (১৯%)। হোন্ডা, গ্রামীণ অঞ্চলে জনপ্রিয় হলেও শহরে ততটা দাপট দেখাতে পারছে না; তাদের শেয়ার ১৫-১৬ শতাংশের মধ্যে ঘোরাফেরা করছে। অন্যদিকে হিরো ৫৮ হাজার ইউনিট বিক্রি করে ১৫ শতাংশ মার্কেট দখলে রেখেছে। দেশীয় কোম্পানি রানারও একটু একটু করে জায়গা করে নিচ্ছে।
২০২২ সালে যেখানে ৬ লাখ ৪ হাজার বাইক বিক্রি হয়েছিল, ২০২৩ সালে সেটা কমে দাঁড়ায় ৪ লাখ ৬১ হাজারে—২৮ শতাংশের বিশাল পতন! আর ২০২৪ সালে সেই সংখ্যা আরও নেমে আসে ৩ লাখ ৯ হাজার ইউনিটে। বিক্রেতারা বলছেন, অনিশ্চিত ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে অনেকে বাইক কিনছেন না। কেউবা দাম বাড়ার আশঙ্কায় অপেক্ষা করছেন, কেউ আবার চাহিদা থাকা সত্ত্বেও খরচ কমাতে পিছিয়ে যাচ্ছেন।
১০০-১২৫ সিসির বাইক এখন ‘কমিউটার কিং’। এসব বাইক জ্বালানিতে সাশ্রয়ী, রক্ষণাবেক্ষণ কম এবং রাইড শেয়ারিং, ডেলিভারি বা অফিসে যাতায়াত—সবখানে কার্যকর। এই সেগমেন্টে জনপ্রিয় মডেলগুলো হলো বাজাজ ডিসকভার ১২৫, হোন্ডা সিবি শাইন, হিরো স্পেলেন্ডর, টিভিএস মেট্রো প্লাস ইত্যাদি।
যাদের বাজেট বড়, তাদের বাইক বদলও হয় ঘনঘন! ৩৫০ সিসি সেগমেন্টে রয়্যাল এনফিল্ড এগিয়ে, তারপরে রয়েছে সুজুকি, ইয়ামাহা, সিএফমটো ও বাজাজ। রয়্যাল এনফিল্ডের ক্ল্যাসিক, সুজুকি জিক্সার, এফজেড ২৫—সবাই আছে প্রিমিয়াম তালিকায়।
চীনা কোম্পানি, ওয়ালটন ও রানার মিলিয়ে দেশের ই-বাইক বাজার বাড়ছে ধীরে ধীরে। ব্যাটারির দাম ও শুল্ক কমলে দেশেই সংযোজন বাড়বে বলে মত দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
বাজাজ পরিবেশক আল মামুন বলেন, “উত্তরবঙ্গে আমের বাম্পার ফলন বিক্রি বাড়িয়েছে। আম-লিচুর টাকায় মানুষ এখন বাইক কিনছে।”
বাংলাদেশ হোন্ডার সিএমও আশেকুর রহমানের ভাষায়, “বাজার পুনরুদ্ধার করছে। সাধারণ মানুষ এখন মাঝারি সিসির উন্নত প্রযুক্তির বাইকে আগ্রহ দেখাচ্ছে।”