রবিবার, ০৮ মার্চ ২০২৬, ১০:৪৮ অপরাহ্ন
বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, ভোটের দিন ভোরে ফজরের সময় সবাইকে ভোটকেন্দ্রে উপস্থিত থেকে জামাতে নামাজ আদায় করতে হবে, যেন আর কোনোভাবেই নিশিরাতে ভোটের মতো ঘটনা ঘটানো না যায়। তিনি বলেন, যেভাবে অতীতে অন্ধকারে নির্বাচন হয়েছে, সেভাবে আর হতে দেওয়া হবে না। এবার সিদ্ধান্ত নেবে জনগণ, ক্ষমতা থাকবে মানুষের হাতেই।
শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) রাতে রংপুর নগরীর কালেক্টরেট ঈদগাহ মাঠে অনুষ্ঠিত নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
তারেক রহমান বলেন, দেশের মুসলমান, হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিস্টান—সব ধর্মের ভোটারদের ভোরবেলায় ভোটকেন্দ্রে গিয়ে লাইনে দাঁড়াতে হবে। সবাই সজাগ থাকলে কোনো ষড়যন্ত্র সফল হবে না। জনগণের ঐক্যই পারে ভোটাধিকার নিশ্চিত করতে।
তিনি আরও বলেন, রংপুর হলো শহীদ আবু সাঈদের রক্তে রঞ্জিত পবিত্র ভূমি। জুলাই মাসে যে আত্মত্যাগ হয়েছে, তা কখনো বৃথা যেতে পারে না। সেই আত্মত্যাগের যথার্থ মূল্যায়ন তখনই হবে, যখন দেশের মানুষের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হবে। আবু সাঈদসহ প্রায় ১৪০০ শহীদের রক্ত আমাদের দায়িত্ব আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
তারেক রহমান বলেন, অনেকেই রংপুরকে দরিদ্র অঞ্চল হিসেবে চিহ্নিত করেন, কিন্তু তার বিশ্বাস এই অঞ্চল সম্ভাবনায় ভরপুর। সঠিক পরিকল্পনা ও যোগ্য নেতৃত্ব থাকলে এই অঞ্চলের ভাগ্য আমূল বদলে দেওয়া সম্ভব।
বিএনপির শাসনামলে এ অঞ্চলের মানুষ দারিদ্র্যসীমা অতিক্রম করেছিল উল্লেখ করে তিনি বলেন, দেশনেত্রী খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে বহু পরিবার স্বচ্ছলতার মুখ দেখেছিল। কিন্তু গত ১৬ বছরে তথাকথিত উন্নয়নের নামে লুটপাট হয়েছে। কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়নি, শিল্পকারখানা গড়ে ওঠেনি, মানুষের জীবনমান উন্নয়নে কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।
তিনি বলেন, আবু সাঈদের বাড়ি পরিদর্শনকালে তিনি জানতে পেরেছেন, ওই এলাকাতেও কয়লার সম্ভাবনা রয়েছে। এসব প্রাকৃতিক সম্পদ সঠিকভাবে কাজে লাগাতে পারলে দেশের অর্থনীতিতে বড় পরিবর্তন আনা সম্ভব।
গত ১৬ বছরে কৃষকরা সবচেয়ে বেশি নির্যাতনের শিকার হয়েছে উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, কৃষিপণ্যের ন্যায্যমূল্য না পাওয়ায় কৃষকদের দুর্ভোগ বেড়েছে। কৃষি প্রধান এই অঞ্চলে কৃষকদের কষ্ট উপেক্ষিত থেকেছে।
সরকার গঠনের সুযোগ পেলে কৃষিঋণ ও এনজিও ঋণ মওকুফের ঘোষণা দিয়ে তিনি বলেন, সর্বোচ্চ ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ সুদসহ মওকুফ করা হবে এবং সারা দেশের কৃষিঋণ ওই সীমার মধ্যে নামিয়ে আনা হবে।
তিনি আরও বলেন, এনজিও থেকে নেওয়া ক্ষুদ্রঋণের বোঝা থেকে মানুষকে মুক্ত করতে সরকারিভাবে এনজিওগুলোকে অর্থ পরিশোধ করা হবে, যাতে সাধারণ মানুষ আর ঋণের চাপ বহন করতে না হয়।
রংপুর বিভাগকে নতুনভাবে গড়ে তোলার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, এই অঞ্চলের কৃষি ও প্রাকৃতিক সম্পদের ভিত্তিতে শিল্পকারখানা গড়ে তোলা সম্ভব। খুলনা, চট্টগ্রাম ও ঢাকা যদি শিল্পাঞ্চল হতে পারে, তাহলে রংপুর কেন নয়—এ প্রশ্ন তোলেন তিনি।
বিএনপি সরকার গঠন করলে কৃষিভিত্তিক শিল্পে বিনিয়োগকারীদের বিশেষ সুবিধা দেওয়া হবে বলেও জানান তিনি। পাশাপাশি আইটি খাতে তরুণদের কর্মসংস্থানের জন্য এই অঞ্চলে কোম্পানি স্থাপনে কর ছাড় দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন।
তারেক রহমান বলেন, এসব উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা গেলে শহীদ আবু সাঈদের স্বপ্ন আংশিক হলেও পূরণ হবে। তবে সবচেয়ে বড় কাজ হলো মানুষের রাজনৈতিক অধিকার ফিরিয়ে আনা, যা জনগণের সম্মিলিত অংশগ্রহণ ছাড়া সম্ভব নয়।
তিনি বলেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট যে পরিবর্তন এসেছিল, তা কোনো একক রাজনৈতিক দলের কারণে নয়; সব শ্রেণি-পেশার মানুষের অংশগ্রহণেই সেই পরিবর্তন সম্ভব হয়েছিল।
জুলাইয়ের সেই পরিবর্তনের ধারা অব্যাহত রাখতে জনগণকে নিয়মতান্ত্রিক ও সাংবিধানিক পথে ভোটাধিকার প্রয়োগের আহ্বান জানান তিনি।
নারী ও কৃষকদের জন্য ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ড চালুর কথা জানিয়ে তারেক রহমান বলেন, নারীদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী না করলে দেশের উন্নয়ন সম্ভব নয়। প্রতিটি পরিবার ও কৃষকের হাতে এসব কার্ড পৌঁছে দিয়ে সহায়তা নিশ্চিত করা হবে।
জনসভায় উপস্থিত ছিলেন দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেনসহ কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতারা। সভাপতিত্ব করেন মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক সামসুজ্জামান সামু।