শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬, ০১:৪৯ অপরাহ্ন
৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানের কারণে প্রায় সাড়ে ১৫ বছর ক্ষমতায় থাকা আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতা ছেড়ে দিতে বাধ্য হয়। তার দুই দিন পর ৮ আগস্ট ড. মোহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে গঠন করা হয় অন্তর্বর্তী সরকার। ১৬ নভেম্বর এ সরকারের ১০০ দিন পূর্ণ হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, অন্তর্বর্তী সরকারের ১০০ দিনে রেমিট্যান্সের প্রবাহ বৃদ্ধি, ব্যাংকিং খাতে সুশাসন প্রতিষ্ঠা, এবং অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন দেখা গেছে। সরকারের সফলতার মধ্যে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে নতুন বাংলাদেশ গড়ার উদ্দেশ্যে ১০টি সংস্কার কমিশন প্রতিষ্ঠা, রেমিট্যান্স বৃদ্ধির জন্য পদক্ষেপ গ্রহণ, বেসরকারি ব্যাংকগুলোর পরিচালনা পর্ষদে সংস্কার, দুর্বল ব্যাংকগুলোকে সহায়তা প্রদান, বিদেশি ঋণ পরিশোধ, নতুন টাকা না ছাপানো, অযাচিত প্রকল্পে অর্থ বরাদ্দ স্থগিত করা, ব্যাংক ও পুঁজিবাজারে সংস্কার কমিশন গঠন, অর্থনৈতিক শ্বেতপত্র কমিটি তৈরি করা, বিচার ব্যবস্থা ও রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর উন্নয়নে যোগ্য ব্যক্তিদের নিয়োগ দেওয়া।
সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের সিনিয়র রিসার্চ ফেলো তৌফিকুল ইসলাম খান বলেন, ব্যাংকিং খাতে কর্পোরেট গভর্নেন্সের ক্ষেত্রে বেশ কিছু ইতিবাচক পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে যা সুশাসন প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
তিনি আরও বলেন, শুল্ক কমানো এবং কর ছাড় দেওয়া দেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। পাশাপাশি বৈদেশিক লেনদেনেও প্রাথমিক স্থিতিশীলতা তৈরি হয়েছে।
তবে, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, বাহিনীগুলোর সংস্কার, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, দুর্নীতি নির্মূল এবং রাজনৈতিক দলের সংস্কারের ক্ষেত্রে তেমন কোনো গুণগত পরিবর্তন ঘটেনি। বিশ্লেষকরা বলছেন, সাফল্যের সঙ্গে কিছু সমস্যা রয়ে গেছে। কর ছাড় দিয়েও নিত্যপণ্যের দাম কমানো যাচ্ছে না, পুলিশ ও আনসার বাহিনীতে শৃঙ্খলা পুনরুদ্ধার হয়নি, জনপ্রশাসনে শুদ্ধি অভিযান শেষ হয়নি, এবং রাজনৈতিক দলগুলোর সংস্কারও সম্ভব হয়নি। এসব বিষয়ের ওপর বিশেষ মনোযোগ দেয়া প্রয়োজন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষক আশরাফ কায়সার বলেন, দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধিই সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। কারণ, যদি মানুষ বাজারে গিয়ে সঠিক দামে পণ্য না পায়, তাহলে তার মধ্যে হতাশা তৈরি হবে এবং একসময় সেটি বিক্ষোভের রূপ নিতে পারে।
তিনি আরও বলেন, সরকার আরও দ্রুত গতিতে কাজ করবে এমন প্রত্যাশা ছিল, কিন্তু তেমনটি দেখা যায়নি। প্রশাসনের সংস্কার না হওয়ায় বেশ কিছু ক্ষেত্রে বাধা সৃষ্টি হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, রাষ্ট্র সংস্কারের জন্য গঠিত কমিশনের সুপারিশগুলো বাস্তবায়ন হলে দেশের বিভিন্ন খাতে আমূল পরিবর্তন আনা সম্ভব হবে। এখন সরকারের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ হলো দ্রুত সংস্কার কার্যক্রম শেষ করে নির্বাচন সূচি ঘোষণা করা।