1. akhi@janatarjagoron.com : আখি আক্তার : আখি আক্তার
  2. foreign@janatarjagoron.com : আন্তর্জাতিক ডেস্ক : আন্তর্জাতিক ডেস্ক
  3. atau@janatarjagoron.com : Mohammed Ataullah : Mohammed Ataullah
  4. mosharaf.bbadcc@gmail.com : বিনোদন ডেস্ক : বিনোদন ডেস্ক
  5. jonotarjagoron@gmail.com : Editor :
  6. labony@janatarjagoron.com : ক্যাম্পাস প্রতিনিধি : ক্যাম্পাস প্রতিনিধি
  7. life@janatarjagorn.com : লাইফস্টাইল ডেস্ক : লাইফস্টাইল ডেস্ক
  8. onlinedesk2@janatarjagoron.com : অনলাইন ডেস্ক : অনলাইন ডেস্ক
  9. sohag@janatarjagoron.com : Khan Saiful Sohag : Khan Saiful Sohag
  10. info2@janatarjagoron.com : উপজেলা প্রতিনিধি : উপজেলা প্রতিনিধি
  11. mosharafrobindev@gmail.com : জেলা প্রতিনিধি : জেলা প্রতিনিধি
কর্মকর্তা-কর্মচারীরা আতঙ্কিত - Janatar Jagoron
  • E-paper
  • English Version
  • শনিবার, ১৭ জানুয়ারী ২০২৬, ১০:৩৬ পূর্বাহ্ন

শিরোনাম
আপিল শুনানির প্রথম ঘণ্টায় পাঁচ প্রার্থীর মনোনয়ন চূড়ান্তভাবে বাতিল স্কাইডাইভিংয়ে একসঙ্গে ৫৪ পতাকা উড়িয়ে গিনেস রেকর্ড গড়ল বাংলাদেশ তেজতুরী বাজারে মোসাব্বির হত্যা: রহস্য উদঘাটন, চারজন গ্রেপ্তার নির্বাচনে কোনো দলের জন্য বাড়তি সুযোগ নেই: প্রেস সচিব ইসিতে আপিল শুনানির প্রথম দিনে ১৬ প্রার্থিতা বাতিল ব্যালট পেপারের নিরাপত্তা ও গোপনীয়তায় ইসির নতুন পরিপত্র জারি আগামী বাজেট থেকেই অনলাইনে ভ্যাট রিটার্ন দাখিল বাধ্যতামূলক যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা বন্ড তালিকায় যুক্ত বাংলাদেশ, বাড়ল ভ্রমণ জটিলতা সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে সারজিসের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে দুদক রাজনৈতিক প্রতিহিংসায় শরিফ হাদি হত্যা, চার্জশিট দিল ডিবি

কর্মকর্তা-কর্মচারীরা আতঙ্কিত

  • সর্বশেষ আপডেট: মঙ্গলবার, ২২ অক্টোবর, ২০২৪
  • ১২৪ বার পঠিত
আতঙ্কিত

বাংলাদেশের ইতিহাসে ২০১৭ সালের ৫ জানুয়ারি একটি উল্লেখযোগ্য দিন। এ দিন পরীবাগের বাসায় অবস্থান করছিলেন ইসলামী ব্যাংকের তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবদুল মান্নান। ভোরের দিকে হঠাৎ করেই প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাপরিদফতরের (ডিজিএফআই) কয়েকজন শীর্ষ কর্মকর্তা তার সঙ্গে দেখা করতে আসেন। জানান, তাকে তাদের সঙ্গে যেতে হবে। তবে আবদুল মান্নান একা নন। একইভাবে ব্যাংকটির চেয়ারম্যান ও ভাইস চেয়ারম্যানকেও তাদের নিজ নিজ বাসা থেকে আটক করা হয়। পরে তাদের জোরপূর্বক পদত্যাগপত্রে স্বাক্ষর করানো হয়, এবং দেশের সবচেয়ে বড় বেসরকারি ব্যাংকটি দখল করে নেয় চট্টগ্রামভিত্তিক ব্যবসায়ী গোষ্ঠী এস আলম গ্রুপ। পুরো প্রক্রিয়া বাস্তবায়ন করেন গোয়েন্দা সংস্থার কিছু তৎকালীন শীর্ষ কর্মকর্তা। এরপর এক এক করে সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক, আল-আরাফাহ্ ইসলামী ব্যাংক, ইউনিয়ন ব্যাংক, বাংলাদেশ কমার্স ব্যাংক এবং সর্বশেষ ন্যাশনাল ব্যাংক এস আলম গ্রুপের নিয়ন্ত্রণে আসে। শুধু বেসরকারি ব্যাংকগুলোর নিয়ন্ত্রণ নয়; হাসিনা সরকারের অধীনে ব্যাংকের নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ ব্যাংকেরও দখল ছিল গ্রুপটির হাতে।

২০১৭ সালের ৫ জানুয়ারি থেকে শুরু করে গত ৫ আগস্ট পর্যন্ত হাসিনা সরকারের পৃষ্ঠপোষকতায় ব্যাংক খাত থেকে কয়েক লাখ কোটি টাকা লুট করেছে এস আলম গ্রুপ। আর এই সময়ে পরিকল্পিতভাবে দেশের স্থিতিশীল ব্যাংকগুলোকে আর্থিকভাবে দুর্বল করে খাদের কিনারে নিয়ে আসা হয়। এ জন্য রাষ্ট্রের প্রধান স্বৈরাচার শেখ হাসিনা এবং একাধিক রাষ্ট্রীয় গোয়েন্দা সংস্থাকে ব্যবহার করা হয়।

এস আলমের এভাবে ব্যাংক লুটের বিষয়টি নিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তাদের যেন কোনোভাবেই মুখ খুলতে না হয় বা পরিদর্শন প্রতিবেদনের তথ্য গণমাধ্যমে না আসে, সে জন্য বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার বিজয়ের পর পলায়নকারী গভর্নর আব্দুর রউফ তালুকদার ২০২৩ সালের ২১ ডিসেম্বর বাংলাদেশ ব্যাংকের মতো গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় ডিজিএফআইয়ের অফিস বরাদ্দ দেন। এই বরাদ্দের উদ্দেশ্য শুধুমাত্র দেশের বিতর্কিত এস আলম গ্রুপকে বাঁচানো এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তাদেরকে নিয়ন্ত্রণে রাখা বলে সূত্র জানিয়েছে। একই সঙ্গে এস আলমের লুটপাটের তথ্য গণমাধ্যমে যাতে প্রকাশ না পায়, সে জন্য সাংবাদিকদের প্রবেশেও নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেন গভর্নর।

বাংলাদেশ ব্যাংকের কমন সার্ভিস ডিপার্টমেন্ট-১ (জেনারেল পেমেন্ট সেকশন) পরিচালক মো. মজিবুর রহমান স্বাক্ষরিত এক সার্কুলারে ডিজিএফআইয়ের জন্য অফিস স্পেস বরাদ্দ প্রসঙ্গে বলা হয়, উপযুক্ত কর্তৃপক্ষের অনুমোদনক্রমে প্রধান কার্যালয়ের দ্বিতীয় সংলগ্নী ভবনের ছাদে উত্তর-পূর্বাংশে ৬০০ (২০ই৩০) বর্গফুট জায়গা বরাদ্দ দেয়া হলো। সার্কুলারে তলার বিবরণে উল্লেখ করা হয়Ñ বাংলাদেশ ব্যাংকের ৩০ তলা ভবনের ছাদ। যার জন্য বরাদ্দ করা হয়েছে সদর দফতর প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাপরিদফতর, টিআইএইচডিটিসিবি (প্রজেক্ট) ঢাকা সেনানিবাস। সার্কুলারের মন্তব্যে উল্লেখ করা হয়, ডিজিএফআইয়ের ডিজিটাল ওয়াকিটকি নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণের জন্য রেডিও সরঞ্জামাদি কক্ষ নির্মাণের উদ্দেশ্যে বরাদ্দ দেয়া হয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের মতো একটি সংবেদনশীল স্থানে গোয়েন্দা সংস্থার অফিস থাকা এবং এদের মাধ্যমে কর্মকর্তাদের নানা ধরনের হুমকি ও ভয় তৈরি করা হতো ৫ আগস্টের বিপ্লবের পর পলায়নকারী গভর্নর আব্দুর রউফ তালুকদার। এমনকি কোনো তথ্য গণমাধ্যমে প্রকাশ পেলে কর্মকর্তাদেরকে ডেকে নিয়ে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করা হতো। এছাড়া নির্দিষ্ট কোনো ব্যক্তিকে সন্দেহ করে শরীরে তল্লাশিও চালানো হতো। এভাবে রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় ব্যাংক খাতের নিয়ন্ত্রকদের নিয়ন্ত্রণ করে আর্থিক খাতে একচ্ছত্র আধিপত্য বিস্তার করে এস আলম গ্রুপ।

এদিকে আর্থিক খাতের বড় বড় কেলেঙ্কারি ও অর্থ পাচারকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে সহায়তা করেছেন ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে হাসিনা সরকারের পতনের পর পলায়নকারী গভর্নর আব্দুর রউফ তালুকদার। এসব আর্থিক কেলেঙ্কারিতে গভর্নরকে সহযোগিতা বা বুদ্ধিদাতা ছিলেন বিগত সরকারের সময়ে রাজনৈতিক বিবেচনায় নিয়োগ পাওয়া ডেপুটি গভর্নর নূরুন নাহার। অভিযোগ রয়েছে, নূরুন নাহার ডেপুটি গভর্নর হিসেবে কোটায় নিয়োগ পেয়েছিলেন। পদ খালি হওয়ার ৯ মাস আগে সাবেক প্রেসিডেন্ট আব্দুল হামিদের বিশেষ তদবিরে কোনো ধরনের ইন্টারভিউ বা সিলেকশন বোর্ড বা সার্চ কমিটি ব্যতিরেকে তাকে ডেপুটি গভর্নরের গুরুত্বপূর্ণ পদে বসানো হয়। বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্র জানিয়েছে, বিভিন্ন অনিয়ম এবং এখনো স্বৈরাচার হাসিনা সরকারের দোসরদের নিয়ে একটি সিন্ডিকেট তৈরি করেছেন। এই বলয়ে রয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক দেবদুলাল রায় এবং মো. আনোয়ারুল ইসলামসহ পরিচালক নওশাদ মোস্তফা, ইস্তেকমাল হোসেন, যুগ্ম পরিচালক তানবীর এহসান শোভন, এ ইউ এম মান্না ভূঁইয়া, তৌফিকুর রহমানসহ কর্মকর্তাদের একটি গ্রুপ। এদের নিয়ে আর্থিক খাতে নানা ষড়যন্ত্র করে যাচ্ছেন ডেপুটি গভর্নর নূরুন নাহার। বাংলাদেশ ব্যাংক কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দীর্ঘদিনের ক্ষোভ তার ওপর হলেও এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন নূরুন নাহার।

গত ৫ আগস্ট স্বৈরাচার হাসিনা সরকারের পতনের পর এখনো বাংলাদেশ ব্যাংকের ৩০ তলায় ডিজিএফআইয়ের অফিস বিদ্যমান। যার নিয়ন্ত্রণ বা ব্যাংক খাতের নিয়ন্ত্রণ এখনো এস আলমের হাতে বলে মত দেন বাংলাদেশ ব্যাংকের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক কর্মকর্তা। একই সঙ্গে এভাবে মাথার ওপর গোয়েন্দা সংস্থা থাকার কারণে কর্মকর্তাদের স্বাভাবিক কর্মকাণ্ডে বাধার সৃষ্টি হচ্ছে এবং তারা সর্বদা ভীতসন্ত্রস্ত বলে উল্লেখ করেন।

আর্থিক সেক্টরে ব্যাংকখেকো হিসেবে পরিচিত এস আলম গ্রুপ ইসলামী ব্যাংকসহ আটটি ব্যাংক দখল করেছিলেন স্বৈরাচার আওয়ামী সরকারের বিশেষ একটি গোয়েন্দা সংস্থাকে ব্যবহার করে। আর তারই অংশ হিসেবে ফ্যাসিস্ট হাসিনার গত নির্বাচনের আগে ব্যাংক খাতের অর্থ লুটে যাতে কোনো প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি না হয়। ব্যাংক লুটের এই অর্থের কিছু অংশ গত নির্বাচনে ব্যবহার করা হয়েছে বলেও জানায় বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্র। একই সঙ্গে বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা ব্যাংক খাতের লুটপাট বা অর্থ পাচার নিয়ে কথা বলতে না পারেন, সে জন্য সাবেক গভর্নর ও স্বৈরাচার হাসিনা বাংলাদেশ ব্যাংকে গোয়েন্দা সংস্থার অফিস স্থাপন করেন বলে জানিয়েছেন একাধিক কর্মকর্তা।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আর্থিক খাতের একাধিক বিশ্লেষক বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংকে গোয়েন্দা সংস্থার অফিস থাকা উচিত নয়। তবে কেন তা করা হয়েছে, তা আগের সরকার ও গভর্নরের সঙ্গে সংশ্লিষ্টরা ভালো বলতে পারবেন।

বাংলাদেশ ব্যাংকের অন্যতম দায়িত্ব হলো গ্রাহকের স্বার্থ রক্ষা করা। জালিয়াতি, অনিয়ম-দুর্নীতির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়ে ব্যাংক খাতে মানুষের আস্থা ও স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনা। কিন্তু বাংলাদেশ ব্যাংক মোহাম্মদ সাইফুল আলম ও তার পরিবারকে একাধিক ব্যাংক দখল ও বিপুল পরিমাণ ঋণ দেয়ার অনুমতি দিয়ে দীর্ঘদিন সেই দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হয়েছে। রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় ব্যাংক কোম্পানি আইনে ভেঙে এস আলম গ্রুপের চেয়ারম্যান সাইফুল আলম ও তার পরিবারের সদস্যরা নজিরবিহীনভাবে আট ব্যাংক ও দুটি আর্থিক প্রতিষ্ঠানের বিশাল পরিমাণ শেয়ার দখলে নেন। আর এই অসাধ্য কাজটি সম্ভব হয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কারণে। মূলত বিশেষ অনুমতি দিয়ে এই পরিবারকে সহায়তা করেছে ব্যাংকিং নিয়ন্ত্রক সংস্থা।

বাংলাদেশ ব্যাংকের মধ্যে গোয়েন্দা সংস্থা ডিজিএফআইয়ের অফিস স্থাপন সম্পর্কে গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর ইনকিলাবকে বলেন, আমি এ বিষয়ে জানি না। তবে এটি হওয়া উচিত নয়।

পোস্টটি শেয়ার করুন

এই বিভাগে আরও খবর..