শনিবার, ২৪ জানুয়ারী ২০২৬, ০৯:১৬ অপরাহ্ন
কোনো ইবাদতকে মাধ্যম বানিয়ে কিছু চাইলে মানুষের অন্তরে দুইটি ব্যাপার কাজ করে: ভয় এবং অহংকার। কিন্তু যখন সরাসরি আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করা হয়, তখন এই অনুভূতি থাকে না। এতে করে আল্লাহর সামনে বিনয় এবং আজিজিয়াত প্রকাশ পায়। তাই প্রতিটি ইবাদত এবং আমলের শেষে দোয়া করা হয়েছে। ইবাদতের মাধ্যমে যে আন্তরিকতা প্রকাশ করা হয়, দোয়ার মাধ্যমে সেটি সরাসরি আল্লাহর কাছে পৌঁছায়। দোয়ার মাধ্যমে মানুষ নিজের অপূর্ণতা এবং ছোটত্ব প্রকাশ করে, যেমনভাবে একজন মেথর বা চামারের থেকেও নিজেকে ছোট মনে করে।
আমরা দেখতে পাই, শুধু ইবাদত করলে কখনো অন্তরে অহংকারের ভাব চলে আসে। কেউ সুন্দর কোরআন তেলাওয়াত করলে অথবা নির্দিষ্ট কোনো ইবাদত করলে মনে হয়, অনেক কিছু অর্জন করেছি। কিন্তু দোয়ার ক্ষেত্রে এই অনুভূতি থাকে না, বরং দোয়াতে মানুষ বেশি কাঁদে এবং আল্লাহর সামনে নিজের দুর্বলতা প্রকাশ করে। দোয়া ইবাদতের অন্তর। তাই দোয়া ছাড়া কোনো ইবাদত পূর্ণ হয় না। যেমন নামাজ, রোজা ইত্যাদি সব ইবাদতের মধ্যেই দোয়া রয়েছে।
আল্লাহপাক মানুষের বিভিন্ন প্রয়োজন তৈরি করেছেন এবং তাদের জীবনকে অসংখ্য নেয়ামত দ্বারা ভরিয়ে দিয়েছেন। রাত ও দিনের সৃষ্টি তার মধ্যে অন্যতম নেয়ামত। আল্লাহ রাতকে সৃষ্টি করেছেন যাতে মানুষ বিশ্রাম নিতে পারে। ঘুম হলো সেই আরামের প্রতীক, যা আল্লাহ রাতে দিয়েছেন। গভীর রাতে একত্রে সবাই ঘুমিয়ে পড়ে, যাতে কেউ কাউকে বিরক্ত না করে। তবে আরাম দুই ধরনের হয়: বাহ্যিক আরাম এবং অভ্যন্তরীণ আরাম। যারা আত্মিক আরাম খোঁজে, তারা শেষ রাতে জাগ্রত থেকে ‘আল্লাহ আল্লাহ’ করে সেই শান্তি উপভোগ করে।
সাহাবিদের রাতের ইবাদতের অবস্থা জানতে রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একবার শেষ রাতে বের হলেন। তাঁর বিশ্বাস ছিল, অন্তত আবু বকর (রা.) তো ঘুমাবে না। যখন তিনি আবু বকরের ঘরের কাছে গিয়ে তেলাওয়াত বা যিকিরের কোনো শব্দ শুনতে পেলেন না, তখন তিনি কিছুটা চিন্তিত হলেন। তবে একটু কান পেতে শুনলেন, হজরত আবু বকর (রা.) কাঁদছিলেন। এতে রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম খুশি হলেন।
আমাদের রাতের শব্দ হয় ঘুমের, কান্নার নয়। আল্লাহওয়ালা হতে চাইলে হজরত আবু বকর (রা.)-এর মতো শেষ রাতে উঠে আল্লাহর সামনে কাঁদতে হবে। আর কোনো বিকল্প নেই। যিনি শেষ রাতে ইবাদত করবেন, কোরআন তেলাওয়াত করবেন, আল্লাহ তার অন্তর পরিষ্কার করবেন এবং ইলম ও মারেফাত দেবেন। রাতের ইবাদত ছাড়া আল্লাহওয়ালা হওয়া অসম্ভব।
আল্লাহ দিনকে আলোকিত করেছেন যাতে মানুষ কাজ করতে পারে, দেখা-সাক্ষাৎ করতে পারে। দিনের আলো মানুষের জীবনে বিশেষ নেয়ামত, যা রাতের লাইট দিয়ে কখনোই সম্ভব নয়। আল্লাহ মানুষকে বিভিন্ন অঙ্গপ্রত্যঙ্গ দিয়েছেন, এমনকি আমরা নাফরমানি করলেও তিনি তা ফিরিয়ে নেন না। তাঁর চেয়ে বড় দয়ালু আর কে হতে পারে?
আল্লাহ আকাশকে আমাদের জন্য ছাদের মতো বানিয়ে দিয়েছেন এবং সূর্য, চন্দ্র, তারকার আলো দিয়ে সাজিয়েছেন। তিনি বরফকে উপরে রেখেছেন যাতে যখন প্রয়োজন হয় তখন বাতাসের মাধ্যমে শীতলতা আনেন। আল্লাহর এই অসীম দয়া এবং নেয়ামত আমাদের জীবনে প্রতিনিয়ত বিদ্যমান।
—লিখেছেন: আমির, আল হাইআতুল উলয়া ও বেফাকুল মাদারিসিল আরাবিয়া বাংলাদেশ